ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৪ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘গ্রেফতার হতে পারেন শীর্ষ নেতারা’

এপ্রিল মাস বিএনপির জন্য অশুভ ইঙ্গিত দিচ্ছে, অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই এ মাসে টিকে থাকতে হবে বিএনপিকে। গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা আছে দলটির শীর্ষ নেতাদের। যারা যাত্রাবাড়ির বাস পুড়িয়ে দেয়ার মামলার আসামী।

বিএনপি জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দল গোছানোর চেষ্টায় আছে। দলটির কোন কোন নেতা ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছেন আন্দোলনের ডাক দিলে ঝাপিয়ে পড়তে। সরকারও বোধকরি উপলব্দি করতে পারছে যে বিএনপি ফের আন্দোলনের দিকে ধাবিত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তাই সরকারের মন্ত্রীরা বলতে শুরু করেছেন জনবিচ্ছিন্ন বিএনপি ফের কর্মসূচির নামে জনগণের কাছে যেতে চাচ্ছে। কোন কোন মন্ত্রী বলছেন নতুন ষড়যন্ত্রের কথা।

বিগত ৩০ মার্চ বাসে অগ্নিসংযোগের মামলায় খালেদা জিয়া-সহ ২৮ নেতা/কর্মীকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বিএনপি বলতে চাচ্ছে আইনিভাবে ওই গ্রেফতারী পরোয়ানা মোকাবেলা করা হবে। কেউ কেউ বলছেন প্রতিবাদে কর্মসূচী পালন করবেন। ইতিমধ্যে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে বিএনপি। এর বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নভাবে প্রয়োজনে আন্দোলনের হুমকিও দিচ্ছে বিএনপি।

বিএনপি যদি আইনিভাবে ২৭ এপিলের আগেই এরেস্ট ওয়ারেন্ট মোকাবেলায় ব্যর্থ হয় তবে সে সুযোগটা কাজে লাগালেও লাগাতে পারে সরকার। ২৭ এপ্রিলের মধ্যে কেন বলছি? তার কারণ হল ‘গ্রেফতারের নির্দেশ পালন হল কিনা ২৭ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশকে তা জানাতে বলেছেন আদালত। স্বাভাবিকভাবেই ওই তারিখের আগে গ্রেফতারে একটা উদ্যোগ নিবে পুলিশ। বিএনপি যেহেতু আন্দোলনের পথে এগুচ্ছে বলে মনে করছে নীতিনির্ধারকরা তাই আন্দোলনের সেই সুযোগ বিএনপিকে সরকার দিবে বলে মনে হয়না। আর সে কারণেই বিএনপির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আদালতের হুকুম তামিল করতে শীর্ষ বিএনপি নেতাদের গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করতে পারে। যেহেতু আদালতের হুকুম পালন করবে সেক্ষেত্রে সরকারের সমালোচনারও যৌক্তিক স্কোপ থাকবেনা বিএনপির। সরকার যদি শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করেই ফেলে সেক্ষেত্রে থমকে যাবে বিএনপির আন্দোলনের সব জল্পনা-কল্পনা। আর বিএনপি যদি চুপচাপ থাকে আন্দোলনের চিন্তাভাবনা থেকে দূরে সরে আসে সেক্ষেত্রে সরকার অতি উৎসাহিত হয়ে কিছু করবে বলে মনে হয় না।

উল্লেখ্য, গত বছর ৫ জানুয়ারি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ডাক দিয়েছিলেন অবরোধের। সেই অবরোধ চলাকালীন বাস ও গাড়িতে আগুনে বোমায় মারা যায় অনেকে।  আগুনে পুড়ে ভয়ানক ভাবে জখম হন আরও কয়েকশো মানুষ। এমনকি যশোরে ঝলসে মারা যায় গাড়ি বোঝাই গরুও।  অবরোধের ডাক দেওয়ার পরে জানুয়ারির ২৩ তারিখে ঢাকার যাত্রাবাড়ির কাঠের পুল এলাকায় বোমা হামলায় একটি বাসের আগুনে বেশ কয়েক জন হতাহত হন। পুলিশ খালেদা-সহ বিএনপির ২৮ নেতা-কর্মীকে আসামি করে মামলা করে। সেই মামলায় ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত গত বুধবার আসামী বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া এবং ২৭ নেতা-কর্মীকেও গ্রেফতার করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক কামরুল হোসেন মোল্লা। বিচারক আসামিদের শুধু গ্রেফতার করারই নির্দেশ দেননি, সে নির্দেশ পালন হলো কিনা— ২৭ এপ্রিলের মধ্যে পুলিশকে তা জানাতে বলেছেন। বিএনপি অবশ্য আগাগোড়া মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপূর্ণ বলে এসেছে।