ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৫০ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৯শে জুন ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
একনেক সভা

৯৬৬৩ কোটি টাকার ১২ প্রকল্প অনুমোদন

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা হয়ে আশুগঞ্জ পর্যন্ত দেশের প্রধান নৌপথটির নাব্যতা রক্ষায় খনন করা হবে। পাশাপাশি এ পথের যাত্রীবাহী ও পণ্য পরিবহনের টার্মিনাল উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পটিসহ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৯ হাজার ৬৬৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ১২টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ৪ হাজার ২৫৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব তহবিল ৫৩৩ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে পাওয়া যাবে ৪ হাজার ৮৭৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ ফ ম মুস্তাফা কামাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি বলেন, এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ হবে সুপার করিডর। এজন্য সমগ্র বাংলাদেশকে আমরা এই করিডরের আওতায় আনতে চাই। এলক্ষে সড়ক ও রেল যোগাযোগের পাশাপাশি দেশের নৌরুটগুলোকে চলাচল উপযোগি করা হবে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আঞ্চলিক অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন প্রকল্প-১ (চট্রগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ ও সংযুক্ত নৌপথ খনন এবং টার্মিনালসহ আনুষঙ্গিক স্থাপনাদি নির্মাণ) প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয় হবে।এর মধ্যে বিশ্বব্যাংক প্রকল্প সাহায্য হিসেবে ২ হাজার ৮৮০ কোটি টাকা অর্থায়ন করবে।বাকী ৩২০ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করবে।

মুস্তাফা কামাল বলেন, চট্টগ্রাম-ঢাকা-আশুগঞ্জ নৌ করিডর দেশের প্রধান অভ্যন্তরীণ নৈৗরুট।ঢাকা-চট্টগ্রাম ৩০০ কিেেলামিটার দৈর্ঘ্যর এই রুটের সাথে যেসব নদীর সংযোগ রয়েছে, সেগুলো সব খনন করা হবে। পাশাপাশি করিডরটিকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী করতে টার্মিনাগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

জুলাই-২০১৬ থেকে জুন ২০২৪ মেয়াদে প্রকল্পটি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বাস্তবায়ন করবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, নৌরুটের নাব্যতা যাতে নষ্ট না হয়,এজন্য ঢাকা শ্মশানঘাট আধুনিকায়ন এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে ফসলী জমি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো- ঝিনাইদহ-চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর-মুজিবনগর সড়ক উন্নীতকরণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্প,এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৮৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ১৯টি নৌ পুলিশফাড়ী ও ব্যারাক নির্মাণ প্রকল্প, এর বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৯৭ কোটি টাকা। জামালপুর-মাদারগঞ্জ-মহাসড়কে তিনটি পিসি র্গাডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা। গ্রীড ভিত্তিক বিদ্যুৎ সরবরাহে দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় হবে ২ হাজার ৯৮২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তিতাস গ্যাস ফিল্ডের লোকেশন-এ এতে ওয়েলহেড কম্প্রেসর স্থাপন প্রকল্প, এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৯১০ কোটি টাকা।

এছাড়া পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ, ভূমি উন্নয়ন এবং পুনর্বাসন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৬৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। নোয়াখালী এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনকল্পে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। কুমার নদ পুনঃখনন প্রকল্পের ব্যয় হবে ২৩৭ কোটি ২৬ লাখ টাকা। বিদ্যমান পুলিশ হাসপাতালসমূহের আধুনিকীকরণ প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯২ কোটি ৭ লাখ টাকা। বিএনএ বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ, পতেঙ্গা, চট্টগ্রাম (১ম সংশোধিত) প্রকল্প, এর ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। সিএমএইচ, ঢাকা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প, এর বাস্তবায়ন ব্যয় ১১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।