ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৩৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৪ই আগস্ট ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

৭ মার্চের ভাষনে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা ছিল না:নিউইয়র্কে বললেন খোকা

৭ মার্চে শেখ মুজিবর রহমান একটা গুরুত্বপূর্ণ ভাষন দিয়েছিলন কিন্তু সেই ভাষনে মুক্তিযুদ্ধের ঘোষনা ছিল না- বলেছেন মুক্তিযোদ্ধা ও ঢাকার সাবেক মেয়র বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে মওলানা ভাষানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাদেক হোসেন খোকা আরও বলেন, ৭ই মার্চের ভাষনের পরতো আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়ে যায়নি-এর পরেওতো পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া যায় কিভাবে এ নিয়ে সিরিজ আলোচনা চলছিল এবং বিভিন্ন সময়ে বলা হচ্ছিল আলোচনার অগ্রগতি হচ্ছে। পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে দেয়ার সুযোগ তৈরী হচ্ছে। কিন্তু ২৫ মার্চের পরের পরিস্থিতিতে মওলানা ভাসানীর কোন দায়বদ্ধতা ছিলনা, পাকিস্তানের শাসন ক্ষমতার অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী হবার দৌঁড়ে ছিলেন না তিনি। ২৫ শে মার্চে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বিভিন্ন ক্যান্টমেন্টে ইপিআর, পুলিশ, ছাত্র-জনতা যেভাবে বিদ্রোহ করেছে তা দেখে তিনি পাকিস্তানে থাকেননি। থাকলে তাকে পাকিস্তানের আইন মেনে চলতে হত, কোলাবেরটর হিসাবে থাকতে হত। আবার ইচ্ছা করলে তিনি ইয়াহিয়ার সাথে আপোষ করতেও পারতেন। কিন্তু তা না করে তিনি ভারতে চলে যান।
 
এক সময়ের ভাসানীর রাজনীতির অনুসারী সাদেক হোসন খোকা আরও বলেন সত্তর দশকে ভাষানী আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (ন্যাপ)-কে ঐক্যবদ্ধভাবে পরিচালিত করতে না পারায় আওয়ামী লীগের উত্থান ঘটে। উপদলীয় কোন্দলই ন্যাপ‘র রাজনীতিকে ব্যর্থতায় পর্যবসিত করে-এতে মওলানা ভাসানীর কোন ব্যর্থতা ছিলনা।
বাসানী স্মৃতি পরিষদ নিউইয়র্ক আয়োজিত মওলানা ভাষানীর ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানটিতে সভাপতিত্ব করেন আজহারুল হক মিলন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমেদ, আতিকুর রহমান ইউসুফ জাঁই সালু,ম্মাহাম্মদ হোসন প্রমূখ।
 
এর আগে খোকা বলেন, ৭ই মার্চের ভাষনের মত অনেক ভাষনই দিয়েছেন মওলানা ভাসানী। কিন্তু দু:খজনক যে এসবের কোন রেকর্ড নেই। রেকর্ড তাকলে এর কোন কোনটি ৭ই মার্চের ভাষনকেও ছাপিয়ে যেত। তিনি বলেন, তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে হোসেন শেরে বাংলা ফজলুল হক, মওলানা ভাসানী ও শেখ মুজিবুর রহমানের মত ভাষন অন্য কেউ দিতে পারতেননা। তাদের ভাষনের মধ্যে মধ্যে জনগণের কথা উঠে আসতো।
 
ভাসানী অনুসারী সাদেক হোসন খোকা বলেন, ব্রিটিশ-বিরোধী আন্দোলনরে পর পাকিস্তান সৃষ্টি হলে বিরোধী দলের যে অভাব ছিল তা পূরণে মওলানা ভাসানী আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম দিয়েছিলেন। তিনি এর সভাপতি ছিলেন আর শেখ মুজিব ছিলেন দ্বিতীয় যুগ্ম সম্পাদক। কিন্তু সোহরওয়াদী যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বললেন যে গণতন্ত্রের আশিভাগ অর্জিত হয়েছে তখন ভাসানী বুঝতে পারলেন যে আওয়ামী লীগ দিয়ে বাংলার স্বাধীনতা অর্জিত হবে না। আর তাই তিনি গঠন করেন আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টি (ন্যাপ)। কিন্তু ন্যাপের প্রগতিশীল অংশের বিরোধীতা এবং কোন্দল শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের উত্থানে সহায়ক হয়।
 
সাদেক হোসন খোকা ক্ষোভের সাথে বলেন, আওয়ামী লীগের জন্ম দিয়েছিলেন মওলানা ভাসানী- আজ তারা তাদের দলের জন্মদাতাকে সঠিক সম্মান দেয় না। ভাসানীর রাজনীতি ও কর্মের উপর আরও গবেষনার প্রয়োজনীয়তার কথা বলে খোকা বলেন এমন উদ্যোগের সাথে তিনিও যুক্ত থাকবেন। খবরের সূত্রঃ আজকের ” বোস্টন বাংলা নিউজ”

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন