ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:১৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান
নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, ফাইল ফটো

৭ খুনের বিচার হলে বিএনপি-জামায়াতের গণহত্যার বিচার কেন হবে না ?

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার বিচার হয়েছে। তাহলে বিএনপি-জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষ পুড়িয়ে গণহত্যা করেছে তাদের বিচার কেন হবে না ? তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে আন্দোলনের নামে যারা পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ ও জ্বালাও পোড়াও করে নির্বিচারে মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করছে তাদের বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

তিনি আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ চত্ত্বরে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক আলোচনা সভা ও সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতা করছিলেন।

শ্রমিক কর্মচারি পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই সমাবেশ ও আলোচনা সভা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘জাতীয় ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ, সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ নির্মূলে আমরা ঐক্যবদ্ধ’- এই শ্লোগানকে সামনে রেখে এটি অনুষ্ঠিত হয়।

শ্রমিক কর্মচারি পেশাজীবী মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদ ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহবায়ক শাজাহান খান বলেন, “এদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে এবং হচ্ছে, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নৃশংস হত্যাকান্ডের বিচার হয়েছে, নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুন মামলার বিচার হয়েছে। তাহলে বিএনপি-জামায়াতের যেসব সন্ত্রাসীরা নির্বাচন ঠেকানোর নামে মানুষ পুড়িয়ে গণহত্যা করেছে তাদের বিচার কেন হবে না ? তাদের বিচার করতে হবে।”

নৌ-পরিবহন মন্ত্রী আরও বলেন, সেই সময় জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা গণতন্ত্র রক্ষার নামে মানুষ পুড়িয়ে গণহত্যা করেছে। প্রকৃতপক্ষে তারা দেশে গণতন্ত্র চায়নি, তারা সন্ত্রাসী তৎপরতার মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চেয়েছিল। বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে একটানা ৯২ দিনের লাগাতার অবরোধের সময় গাড়ীর ড্রাইভার, হেলপার, সাধারণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তা ঐক্যবদ্ধভাবে সেই সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দৃঢ় নেতৃত্বের মাধ্যমে জনগণকে সাথে করে নিয়ে সেই সময় জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাস ও জঙ্গবাদী কার্যক্রম রুখে দিয়েছিলেন। এখনও দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে একটি অপশক্তি ষড়যন্ত্র করছে উল্লেখ করে শাজাহান খান আরও বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে যে কোন ষড়যন্ত্র রুখে দিতে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে যেন কোন অনৈক্য না থাকে এবং যে কোন মূল্যে ঐক্য রক্ষা করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের আহবায়ক শাজাহান খান বলেন, ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদের যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, সেই নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে যেন জামায়াত-বিএনপির সন্ত্রাসীরা আগুনের উত্তাপ ছড়িয়ে মানুষ হত্যা, সন্ত্রাস না করতে পারে, সেই জন্য আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে যারাই যড়যন্ত্র ও সন্ত্রাস করবে তাদের বিরুদ্ধে কর্মসূচি দিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য শিরিন আক্তার, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচী, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ গণবিচার আন্দোলনের সদস্য সচিব ওসমান আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহবুব উদ্দিন আহমেদ ও আলা উদ্দিন মিয়া, গার্মেন্টস শ্রমিক নেতা বদরুদ্দোজা নিজাম ও জেড এম কামরুল আনাম, ব্যাংক শ্রমিক নেতা হাসান খসরু প্রমুখ বক্তব্য দেন।