ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ২:৪০ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

“৭২০ ইউপিতে আগামীকাল ভোট”

ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পঞ্চম ধাপে দেশের ৭২০ ইউপিতে আগামীকাল ভোটগ্রহণ করা হবে।

ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিলসহ ভোটগ্রহণের জন্য সকল নির্বাচনী সামগ্রী কেন্দ্রে কেন্দ্রে পৌছে দেয়া হয়েছে। সকাল ৮ টায় শুরু হওয়া ভোট বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত।

ভোটারদের অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচনের আশ্বাস দিয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহনেওয়াজ বাসসকে বলেন, সুষ্ঠু ভোটগ্রহণে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এ জন্য নির্বাচনী এলাকায় মাঠে টহলে রয়েছে বিজিবি, র‌্যাব, পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও আনসারসহ প্রায় দেড় লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সঙ্গে রয়েছে নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। নির্বাচনী এলাকায় সব ধরণের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আগের চার ধাপের তুলনায় আরও সুন্দর ভোটের তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘ভোটের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গুছিয়ে আনা হয়েছে। কিছু কিছু অভিযোগও এসেছে আমাদের কাছে। সব বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি। কেউ যেন প্রভাব বিস্তার না করে, গোলযোগের চেষ্টা না করে এবং দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে মাঠ কর্মকর্তাদেরও নির্দেশ দিয়েছি।’
তিনি বলেন, ভোটারদের জন্য নির্বিঘ্নপরিবেশ নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কমিশন মাঠ পর্যায়ের সার্বিক পরিস্থিতির নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছে। আগের অভিজ্ঞতা থেকে গোলযোগ হতে পারে এমন সব এলাকায় প্রশাসন ও পুলিশকে বিশেষ তদারকিরও তাগাদা দেয়া হয়েছে। এখন সবার সহযোগিতা পেলে আরও ভালো ভোট হবে।

এই ধাপে ৩ হাজারেরও বেশি চেয়ারম্যান প্রার্থী এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থী রয়েছে প্রায় ৩০ হাজার।

২২ মার্চ, ৩১ মার্চ, ২৩ এপ্রিল ও ৭ মে চার ধাপের ইউপি ভোট শেষ হয়েছে। পরবর্তী দুই ধাপেও ভোটাররা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কেন্দ্রে যাবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ।

এই ধাপে দেশের ৪৪ জেলার ৮৬ উপজেলার ৭২০ ইউপির ৭ হাজারেরও বেশি ভোট কেন্দ্রে ১ কোটি ১০ লাখের বেশি ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

চেয়ারম্যান পদে ৩ হাজার ২৫৪ জন, সাধারণ সদস্য পদে ২৭ হাজারের বেশি ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৭ হাজারের বেশি প্রার্থী রয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৪২ জন ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এরা সবাই আওয়ামী লীগের।

নির্বাচনে এক লাখের বেশি ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেড় লাখের মতো সদস্য ভোটগ্রহণের কাজে নিয়োজিত থাকবেন।

পঞ্চম ধাপের নির্বাচনে ১৫টি রাজনৈতিক দলের ১ হাজার ৭২৭ জন ও ১ হাজার ৫২২ জন লড়ছেন স্বতন্ত্র হিসেবে। ২টি ইউপিতে আওয়ামী লীগের কোন প্রার্থী নেই। বিএনপির প্রার্থী নেই ১শ’ ইউপিতে। দলীয় প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছে ৭২৬ ইউপিতে, ৬২৯ ইউপিতে রয়েছে বিএনপির প্রার্থী। জাতীয় পার্টি ১৭৭টি, জাসদ ২১টি, বিকল্পধারা ২টি, ওয়ার্কার্স পার্টি ১৩টি, ইসলামী আন্দোলন ১২২টি, জেপি ২টি, ইসলামী ফ্রন্ট ১১টি, এলডিপি ৬টি, সিপিবি ৫টি, জেএসডি ১টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৬টি, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট ৭টি এবং অপর একটি দল ১ ইউপিতে প্রার্থী দিয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর নানা কারণে এ পর্যন্ত ১৪টি ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়েছে।

ছয় ধাপের এ ভোটের জন্য গত ১১ ফেব্রুয়য়ারি প্রথম ধাপের তফসিল ঘোষণা হয়। ৪ জুন ষষ্ঠ ধাপের ভোটের মধ্য দিয়ে এ নির্বাচন শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। বাসস