ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:০৮ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকা চুরি নাকি সাজানো নাটক ?

ব্যাংক লুটে ইতোপূর্বে দীর্ঘ সুরঙ্গ বা দেয়াল কাটার মতো ঘটনা ঘটলেও এবার ঘটেছে ভিন্ন ঘটানা। যেখানে ব্যাংকের নিরাপত্তারক্ষীকে নেশা জাতীয় দ্রব্য মেশানো ফলমূল আর ড্রিংকস খাইয়ে অচেতন করে লুটে নেওয়া হয় ব্যাংকের ৬০ লাখ টাকা। যে ভল্ট থেকে টাকা লুট হয়েছে তার তালা অক্ষত ছিল। কিভাবে ওই লকার খোলা হয়েছে তা নিয়েও পুলিশের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। চুরি নাকি সাজানো নাটক এমন সন্দেহ অনেকের মণে।

শনিবার রাতে এমন ঘটনাই ঘটে জনতা ব্যাংক গাজীপুর করপোরেট শাখায়। এ ঘটনায় পুলিশ ওই ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী নূরুল ইসলামকে (৫০) আটক করেছে।

জয়দেবপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সৈয়দ আবুল হাসেম জানান, জয়দেবপুর বাজারের তানভীর প্লাজার দ্বিতীয় তলায় ব্যাংকের ওই শাখাটি অবস্থিত। এর পাশেই জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাপাড়ের দোকান রয়েছে। শনিবার রাত ১০ টার দিকে জাকির কিছু কোল্ড ড্রিংকস, আঙ্গুর, কমলা ও ডালিম ফল ব্যাংকের প্রধান ফটকে নিয়ে যায়। পরে টয়লেটে যাবার কথা বললে দায়িত্বরত নিরাপত্তা প্রহরী নূরুল ইসলাম ব্যাংকের প্রধান ফটক খুলে দেয় এবং জাকির কোল্ড ড্রিঙ্কস, আঙ্গুর, কমলা ও ডালিমসহ ব্যাংকে প্রবেশ করে।

পরে নুরুল ইসলামকে নেশা জাতীয় দ্রব্য মেশানে ফলমূল আর ড্রিংস খেতে দেয় জাকির। এতে নিরাপত্তা প্রহরী অচেতন হয়ে পড়ে। প্রহরী অচেতন হয়ে গেলে সে ব্যাংকের ভল্ট খুলে টাকা নিয়ে পেছনের দিকের জানালার গ্রিল খুলে পালিয়ে যায়।

এদিকে রোববার সকাল ৮টার দিকে ডিউটি দিতে এসে ব্যাংকের অপর নিরাপত্তা কর্মী মো. মুজিবুর রহমান ব্যাংকের প্রধান ফটকের ভেতর থেকে তালা আটকানো দেখতে পান। পরে নূরুল ইসলামকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে মুজিবুর ঘটনাটি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জানান।

এ খবর পেয়ে ব্যাংকের এজিএম মো. সোলাইমানসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা ব্যাংকে ছুটে আসেন। পরে অন্য আরেকটি চাবি দিয়ে ফটকের তালা খুলে ভেতরে সোফায় অর্ধ অচেতন অবস্থায় নুরুল ইসলামকে শুয়ে থাকতে দেখতে পান।

পরে ব্যাংক কর্মকর্তারা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে আটক করে হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল থেকে কিছু কোল্ড ড্রিংকসসহ বোতল, আঙ্গুর, কমলা ও ডালিমসহ ইয়াবা বড়ির আলামত সংগ্রহ করে।

তবে যে ভল্ট থেকে টাকা লুট হয়েছে তার তালা অক্ষত ছিল। কিভাবে ওই লকার খোলা হয়েছে তা নিয়েও পুলিশের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার ও জাকিরের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যাংকের নিরাপত্তা প্রহরী নুরুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। পরে নুরুল ইসলামকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ব্যাংকের ভল্টে ৪৫ লাখ টাকার বেশি রাখার নিয়ম না থাকলে এতে ৬০লাখ টাকা থাকার বিষয়টি রহস্যজনক।

ব্যাংক সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. সোলাইমান জানান, ৬০ লাখ টাকা চুরি হয়েছে। তবে ভল্ট অক্ষত ছিল। ব্যাংক কর্মকর্তার কাছে চাবি থাকার কথা থাকলে চাবি ছাড়া কিভাবে ওই ভল্ট খোলা হয়েছে বিষয়টি জানতে চাইলে ওই ব্যাংক কর্মকর্তা তা পরে জানা যাবে বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান। এরপর থেকে ওই কর্মকর্তা তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাৎকার দেয়া থেকে বিরত থাকেন।