Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:১৪ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

মাহবুব-উল আলম হানিফ
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি, ফাইল ফটো

৫ জানুয়ারি ‘অনুতপ্ত দিবস’ পালনের পরামর্শ: বিএনপিকে-আ. লীগ নেতা

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় ৫ জানুয়ারিকে অনুতপ্ত দিবস হিসেবে পালন করার জন্য বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি আজ বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আওয়ামী লীগের সাথে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং আওয়ামী লীগের সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে অনুষ্ঠিত যৌথসভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।
৫ জানুয়ারিকে গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করার লক্ষে আওয়ামী লীগের সকল কর্মসূচী সফল করার লক্ষ্যে এ যৌথসভার আয়োজন করা হয়।
এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট সাহারা খাতুন এমপি, ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ আজিজ, সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মণি এমপি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক এমপি, কৃষি বিষয়ক সম্পাদক ড. আব্দুর রাজ্জাক, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এস এম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী ও আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সকল সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে। কারণ নির্বাচনে অংশ নেওয়া আর না নেয়া তাদের দলীয় ব্যাপার। কিন্তু সাধারণ ভোটারদের ভোটদানে বাধাদান করে তারা ভোটারদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করেছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, এজন্য বিএনপিকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল। কিভাবে তারা এদিনে কর্মসূচি দেয় তা জনগণের কাছে বোধগম্য নয়।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভুল রাজনীতির জন্য ৫ জানুয়ারিকে বিএনপির অনুতপ্ত দিবস হিসেবে পালন করা উচিত।
হানিফ বলেন, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। কেননা এ নির্বাচন না হলে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা যেমন থাকত না, তেমনি এ অভূতপূর্ব উন্নয়নও সম্ভব হতো না।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রের বিজয়ের জন্য দেশের বর্তমান উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে। তাই আওয়ামী লীগ ৫ জানুয়ারিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত প্রতিবছর গণতন্ত্রের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করবে।
৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিষয়ে বলেন, ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ দেশের সকল মহানগর, জেলা ও উপজেলায় শোভাযাত্রা ও সভা-সমাবেশ করার কর্মসূচী ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজধানীতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ ১৮টি স্থানে শোভাযাত্রা ও সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপির)’র কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে তিনি বলেন, ডিএমপি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না দিলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, বিএনপি-জামায়াত গতবারের মতো সন্ত্রাস ও নাশকতা করলে জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তার সমুচিত জবাব দেবে। আর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দর্শক হয়ে তা দেখবে।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ তার নিজের রাজনীতি নিয়ে ভাবে। অন্য কারো রাজনীতি নিয়ে ভাবে না।
এ বিষয়ে তিনি আরো বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় রয়েছে। তাই সরকারী দল হিসেবে আওয়ামী লীগ দেশের শান্তি ও উন্নয়ন প্রত্যাশা করবে। আর কোন দল বা মহল দেশে অশান্তি তৈরি করলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দেশের জনগণ তার জবাব দেবে।
এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের এমপির সভাপতিত্বে এ যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি।