ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:০৮ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

পুলিশ

৫৭ ধারার মামলা গ্রহণের আগে পরামর্শ নিতে হবে : পুলিশ সদরদপ্তর

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা রুজুর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের পরামর্শ নিতে হবে। আজ পুলিশ সদরদপ্তরের এক আদেশে এ কথা জানানো হয়।

আদেশে জানানো হয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধীকে আইনের আওতায় আনয়ন এবং নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিতকল্পে এ ধারায় মামলা রুজুর পূর্বে কিছু বিষয় অনুসরণ করতে হবে।

যার মধ্যে রয়েছে:

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ৫৭ ধারায় সংঘটিত অপরাধ সংক্রান্তে মামলার রুজুর ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

অভিযোগ সম্পর্কে কোনরূপ সন্দেহের উদ্রেক হলে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি এন্ট্রিকরতঃ অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে যাচাই বাছাই করতে হবে।

মামলা রুজুর পূর্বে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের আইন শাখার সাথে আইনগত পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে এবং কোন নিরীহ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

পুলিশের সার্কুলার

পুলিশ সদর দপ্তরের সার্কুলার

উলেখ্য, সম্প্রতি সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য প্রকাশের জের ধরে ৫৭ ধারায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক দেখা দেয়। অভিযোগ উঠে, ৫৭ ধারা অপব্যবহার করে নিরপরাধ ব্যক্তি, বিশেষ করে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ৫৭ ধারা বাতিলের দাবিতে বাংলাদেশে ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ সারাদেশে সাংবাদিকরা আন্দোলন শুরু করেন।

এর মধ্যে সর্বশেষ সোমবার রাতে খুলনায় ছাগলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করায় আবদুল লতিফ নামে এক সাংবাদিককে ৫৭ ধারার মামলায় গ্রেফতার করা হয়। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, প্রতিমন্ত্রীর বিতরণ করা ছাগল মারা যাওয়া সংক্রান্ত সংবাদ ফেসবুকে শেয়ার করেছেন লতিফ। এতে প্রতিমন্ত্রীর সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই লতিফের বিরুদ্ধে ৫৭ ধারায় মামলা করেছেন বাদী।

এ ঘটনা নিয়ে দেশ-বিদেশে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং আজ লতিফকে জামিন দেন আদালত।

এ প্রেক্ষাপটে  পুলিশ সদরদপ্তর আজ উল্লেখিত আদেশ জারি করলো বলে ধারণা করা হচ্ছে।