Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৪২ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

৪৮ শতাংশ অন্ধত্বই চোখের ছানির জন্য ঘটে

কিডনী এ্যাওয়ারনেস মনিটরিং এ্যান্ড প্রিভেনশন সোসাইটি (ক্যাম্পস)-এর উদ্যোগে রাজধানীর রায়ের বাজার এলাকার সুলতানগঞ্জস্থ বাংলাদেশ আই ট্রাস্ট হাসপাতালে ‘আই-ক্যাম্পের’ মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে বিনামূল্যে দরিদ্র রোগীদের ‘চোখের ছানী’ অপারেশন শুরু হয়েছে।
অলাভজনক ও স্বাস্থসেবামূলক এই প্রতিষ্ঠান আগামী ৩জুন পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে প্রায় টাঙ্গাইল জেলার প্রায় ৩০০ (তিনশ’) দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন করবে।
ডা ইসতিয়াক আনোয়ারের তত্বাবধানে বাংলাদেশ আই ট্রাষ্ট হাসপাতালের ২০ সদস্যের একটি দক্ষ এবং অভিজ্ঞ টিম এ অপারেশনের কাজে নিয়োজিত রয়েছে।
দরিদ্র রোগীদের ছানি অপারেশন উপলক্ষে ক্যাম্পস আজ শুক্রবার ‘অন্ধজনে দেহ আলো’ শীর্ষক একটি আলোচনা অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করে।
ভাষা শহীদদের স্মরণে ক্যাম্পস এর নিয়মিত বার্ষিক ফ্রি-মেডিকেল ক্যাম্প গত ২১ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার হাতিবান্ধা গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। ওই সময় তিন সহস্রাধীক রোগীর সাথে চোখের সমস্যাগ্রস্ত এসব রোগীর নাম নিবন্ধন করা হয়।
প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও ক্যাম্পস বিনামূল্যে এবং টাঙ্গাইল থেকে যাতায়াত খরচ বহন করে ৭ দিন ধরে এসব রোগীর চোখের ছানি অপারেশন সম্পন্ন করে।
ক্যাম্পস-এর চেয়ারম্যান ও ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হাসপাতালের চীফ কনসালটেন্ট অধ্যাপক ডা: এম এ সামাদ আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য মো: হুমায়ুন খালিদ।
ক্যাম্পস’র উপদেষ্টা ও বাংলাদেশ ব্যাংক-এর সাবেক মহাব্যাবস্থাপক অব্দুল মালেক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো: আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু ও বাংলাদেশ আই হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা: মাহবুবুর রহমান।
আলোচনা সভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্বৃতি দিয়ে বক্তারা বলেন শতকরা ৮০ ভাগ অন্ধত্ব উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা ও সার্জারির মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ তার প্রবন্ধে বলেন, দেশের প্রায় ৪৮ শতাংশ অন্ধত্বই চোখের ছানির জন্য ঘটে থাকে। আর এর অপারেশন খরচও ততটা বেশি নয়। মানুষ অসচেতনতা এবং দারিদ্র্যের কারণে ছানি বয়ে বেড়ায় এবং এক পর্যায়ে এসে অবধারিতভাবে অন্ধত্ব বরণ করে।
‘বাংলাদেশ ন্যাশনাল ব্ল¬াইন্ডনেস এ্যান্ড লো-ভিশন সার্ভে-২০০০’ এর উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, দেশে বর্তমানে অন্ধত্বের হার ১দশমিক ৫৩ শতাংশ অর্থাৎ ত্রিশোর্ধ বয়সী লোকদের মধ্যে দেশে ৬ লাখ৭৫ হাজার লোক অন্ধত্বের শিকার। ছানি পড়া রোগীর হারই বেশি অর্থাৎ ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ যা থেকে অন্ধত্ব ত্বরান্নিত হয়। ছানি অপারেশনের হার পুরুষের চেয়ে মহিলাদের অনেক কম। এ দেশে ছানিপড়া রোগীর সংখ্যা ৫ লাখ ৫০হাজার। বিদ্যমান সুবিধার মধ্য দিয়েই এদের চিকিৎসা প্রদান সম্ভব।
অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ বলেন, ক্যাম্পস তার নিজস্ব সীমিত সামর্থ বিনিয়োগ করে প্রতিবছর ২৫০ থেকে ৩০০ রোগীর ছানি অপারেশন করে থাকে যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব বেশি নয়। সুতরাং এ অত্যাধিক সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা করানোর জন্য যেমন
ক্যাম্পস এর সুযোগ ও সামর্থ বৃদ্ধি প্রয়োজন তেমনি অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তথা ব্যক্তিগত পর্যায়ে দয়াবান ও স্বহৃদয় স্বচ্ছল ব্যক্তিদের এগিয়ে আসতে হবে।
দৃষ্টিশক্তিকে অমূল্য সম্পদ উলে¬খ করে তিনি বলেন, একজন দরিদ্র অসহায় রোগীর দৃষ্টি শক্তি অক্ষত রাখতে একজন মানুষের অবদান এর চেয়ে বড় কল্যাণ কর্ম আর কি হতে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশের মত দরিদ্র ও জনবহুল দেশে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে জনহীতকর উদ্যোক্তা মানবিক সাহায্য এবং চ্যারিটেবল কর্মকান্ডের ব্যাপক বিস্তৃতির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন।