ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:০৫ ঢাকা, রবিবার  ২২শে জুলাই ২০১৮ ইং

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ফটো

২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে পারি : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী সুযোগ রয়েছে আমরা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণা করতে পারি।

শনিবার জাতীয় সংসদে জাসদের শিরীন আখতারের ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে ঘোষণার জন্য প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন।

অক্সফোর্ড ডিকশনারী অনুযায়ী গণহত্যাকে সংজ্ঞায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতিসংঘ ১৯৪৮ সালের ৯ ডিসেম্বর ‘জেনোসাইড কনভেনশন’ গ্রহণ করে। ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বরকে ‘জেনোসাইড ডে’ হিসেবে ঘোষণা দেয়। কাজেই আমাদের কাছে সেই সুযোগ রয়েছে, জাতিসংঘের কনভেনশন অনুযায়ী আমরা ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে গ্রহণ করতে পারি।’

শেখ হাসিনা বলেন, আজকের প্রস্তাবটি সর্বসম্মতভাবে গ্রহণ করে বাংলাদেশকে কলংকমুক্ত করার সময় এসেছে। আমরা চাই এ ধরনের কোন গণহত্যা আর যেন কখনও না হয়।

তিনি বলেন, এই হত্যাকান্ড যারা ভুলে যায় তাদের এই বাংলাদেশে থাকার অধিকার নেই।
যুদ্ধাপরাধীদের নিয়ে যারা এত দহরম মহরম করে তাদের পাকিস্তানেই চলে যাওয়া উচিত।

২৫ মার্চের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, রাত ১টার দিকে তারা আক্রমণ করতে পারে এমন একটি খবর দুপুরে পেয়েছিলাম। কিন্তু তারা সাড়ে ১১টার সময়ই আক্রমণ শুরু করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের পরই নেতাকর্মীরা রাস্তায় নেমে ব্যারিকেড দেয়া শুরু করে। ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের জন্য জাতিকে প্রস্তুত হবার নির্দেশ দিলেন বঙ্গবন্ধু।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ রাতে ট্যাংক, কামান, অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পাকিস্তানী বাহিনী যেভাবে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং আক্রমণ করে তা চলতে থাকে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত। লাখো মা-বোন অত্যাচারিত হন।

তিনি এ সময় স্বচক্ষে দেখা গণহত্যার লাশের দৃশ্যপট তুলে ধরে বলেন, ‘২৭ তারিখ কার্ফ্যু ভাঙ্গার পর দেখেছি গুলি খাওয়া ও ট্যাংকের চাকায় পিষ্ট সাধারণ মানুষ, সেদিন যা দেখেছি তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। মালিবাগে বস্তিতে আগুন দিয়েছে। বস্তির লোকেরা বের হয়ে আসলেই তাদের গুলি করা হচ্ছে।’

সরকার প্রধান বলেন, আমি অন্তসত্তা ছিলাম, সারা বাংলাদেশের অনেকেই তখন হাসপাতালে। হাসপাতালে অনেকের কাছেই তখন ২৫ মার্চের রাতের কথা শুনেছি।

তিনি বলেন, এত তথ্যের পর এর আর প্রমাণ লাগেনা। আজকে সংসদে যে সব পত্র-পত্রিকার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে- আমাদের গ্রামের বাড়ি পুড়িয়ে দেয়ার আগে বাড়ি লুট করেছে। আমার দাদা-দাদিকে বাড়ির সামনে বসিয়ে রেখে আগুন দিয়েছে। ওই খানেই ৮-১০ জনকে হত্যা করেছে। ধানমন্ডির বাড়ির দায়িত্বে থাকা খোকনের লাশ কয়েকদিন বাড়ির সামনে পড়েছিল।

সংসদ নেত্রী বলেন, বাংলাদেশের এমন কোন গ্রাম নেই যেখানে গণহত্যা হয়নি। গ্রামের নাম সোহাগপুর হয়ে গেছে, বিধবা পল্লী। গ্রামের কোন পুরুষ মানুষ ছিল না।

তিনি বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা শুরুর পর বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে শেষ শত্রু বিদায় না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাবার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২৫ মার্চ রাত সাড়ে ১০টায় জাকির খান সাহেব জোর করে তাঁকে ও রেহানাকে তাঁর ভাড়া নেয়া ধানমন্ডি ১৫ নং রোডের একটি বাসায় যেতে বাধ্য করলো। কামাল আগেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়।

তিনি বলেন, পিলখানায় আক্রমণ, সারারাত গুলি আমার নিজের কানে শোনা। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পিআরও বিগ্রেডিয়ার সিদ্দিক সালিকের বই-এর প্রসংগ উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন ইপিআর-এর ওয়্যারলেস যোগে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার তথ্য উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, রাত দেড়টায় আমার বাবাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হলো। কামালের বন্ধু রাত ৩টার দিকে আমাদের খবর দিল রাত দেড়টার দিকে খালুকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে, পাকিস্তানীরা। ২৬ মার্চ আবোরো আমাদের বাসায় আত্রমণ হলো। একটার পর একটা জায়গা বদলাতে থাকি এবং একসময় আমরা সবাই গ্রেফতার হয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ৩২ মিনিট ব্যাপী ভাষণে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, পদস্থ কর্মকর্তা থেকে সামরিক বাহিনী সর্বত্রই পশ্চিম পাকিস্তানীদের প্রাধান্য ছিল চোখে পড়ার মত। অন্যদিকে বাঙালিরা ছিল সর্বত্র বঞ্চিত।

প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত নারীদের পুনর্বাসনে বঙ্গবন্ধু এবং বেগম মুজিবের উদ্যোগের তথ্যও তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে রেয়ন তৈরি হচ্ছে, দাম এখানে বেশি। আর পশ্চিম পাকিস্তানে দাম কম। আমাদের পাট, চা রপ্তানির বৈদেশিক মুদ্রা চলে যেত পাকিস্তানে।

প্রধানমন্ত্রী এদিন তাঁর সমাপনী ভাষণে বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম রওশন এরশাদের প্রশ্ন উত্থাপনের প্রেক্ষিতে সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড গঠন সম্পর্কে ‘প্রক্রিয়াটি চলমান রয়েছে’ বলেও উল্লেখ করেন।