২৫ জুলাই থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ শুরু হবে

আগামী ২৫ জুলাই থেকে দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে ছবিসহ ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারযোগ্য এবং ভোটারযোগ্য নন (১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী) নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করবেন। ২০০১ সালের ১ জানুয়ারি এবং তার আগে যাদের জন্ম তাদের তথ্য সংগ্রহ করবে ইসি। তিনধাপে তথ্যসংগ্রহ ও দুই স্তরে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ হিসাবে এবছর হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় নিবন্ধিত হবেন প্রায় ৭২ লাখ ১৬ হাজার নাগরিক।     এছাড়া ভোটারযোগ্য নাগরিকরা অনলাইন প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটার হালনাগাদে অংশ গ্রহণ করতে পারবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম এ তথ্য জানান। এ সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব, এনআইডির মহাপরিচালক, কমিশনের যুগ্মসচিব ও জনসংযোগ পরিচালক উপস্থিত ছিলেন। ভোটার তালিকা হালনাগাদ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন সচিব। তিনি এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমরা একটি নির্ভুল ও সঠিক ভোটার ডাটাবেজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রতিবছর হালনাগাদের অংশ হিসেবে এবারও এ কাজটি করতে যাচ্ছি। আপনারা (দেশের নাগরিক) আমাদের নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারীদের সহযোগিত করবেন এবং সঠিক তথ্য দিবেন।

কমিশন সচিব বলেন, সারাদেশে ইসির ৫১৪টি থানা/উপজেলা অফিস রয়েছে। এসব অফিসের মাধ্যমে তিন ধাপে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। প্রথম ধাপে ২৫ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট ১৮৯ উপজেলায়, দ্বিতীয় ধাপে ১৬ থেকে ২০ আগস্ট ১৮৪ উপজেলায় এবং তৃতীয় ধাপে ৭ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ১৪১ উপজেলাতে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তিন ধাপের এ কাজ সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের পর তথ্যদাতাদের ইসির নির্ধারিত তথ্য কেন্দ্রে এসে ছবি তুলে ভোটার হতে হবে। এর জন্য প্রথমে ১১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর ১৮৯টির উপজেলার তথ্যদাতাদের নিবন্ধন হবে, পরবর্তীতে ৩ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর ১৪৮টি উপজেলা এবং সর্বশেষ ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০ অক্টোবর ১৪১ উপজেলায় নিবন্ধন করার মাধ্যমে প্রথম স্তরের নিবন্ধন শেষ হবে। দ্বিতীয় স্তরে ২০১৮ সালের ২ জানুয়ারি যাদের বয়স ১৫ বছর হবে তাদের নিবন্ধন শুরু হবে। এক্ষেত্রে ২২ অক্টোবর থেকে ২ ডিসেম্বর ২২৮ উপজেলায়, ৪ ডিসেম্বর থেকে ১৬ জানুয়ারি ২৪৪ উপজেলায় এবং সর্বশেষ ১৫ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি শেষ ধাপের ৩১ উপজেলায় তথ্যদাতাদের নিবন্ধন করা হবে।

সচিব বলেন, প্রথম ধাপে কোন নাগরিক ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ে থাকলে দ্বিতীয় স্তরে এসে তালিকার নাম উঠানোর সুযোগ থাকবে। এ কাজে নিয়োগ করা হচ্ছে অর্ধলাখ নিবন্ধনকারী। সারাদেশে ৪৬২০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩২০ পৌরসভা, ১২টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড এবং ১১টি সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫ হাজার ৪০০টি নিবন্ধন কেন্দ্র স্থাপন হবে।

সর্বশেষ ২০১৪ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয়। এবার ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি যারা ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী হচ্ছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। বর্তমানে ৯ কোটি ৬২ লাখের বেশি ভোটার রয়েছে। এবার হালনাগাদে আরো ৭২ লাখ নতুন ভোটারযোগ্য নাগরিক নিবন্ধনের আওতায় আসবে। প্রথম স্তরে ২৪ লাখ এবং দ্বিতীয় স্তরে ৪৮ লাখ ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

ইসি সচিব বলেন, তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, এটা আইনেই এভাবে বলা আছে। এ নিয়মের ব্যত্যয় ঘটালে তাকে শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেবে না কমিশন। নাগরিকদেরও এ কাজে সহায়তা করতে হবে।

তিনি বলেন, নির্ধারিত নিবন্ধিত কেন্দ্রের বাইরে রাজনৈতিক কার্যালয় বা ওয়ার্ড কাউন্সিল অফিসে বসে ভোটার তালিকার তথ্য সংগ্রহের সুযোগ নেই। অবশ্যই তথ্য সংগ্রহকারীদের বাড়ি বাড়ি যেতে হবে। হালনাগাদ কাজে স্থানান্তর, সংশোধন, মৃতদের বাদ দেয়া হবে বলে জানান তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে সিরাজুল ইসলাম বলেন, সর্বশেষ ২০১৪ সালের হালনাগাদ তালিকায় পুরুষের চেয়ে নারী ভোটারের সংখ্যা কম হয়েছিল। এবার যাতে এ ধরনের কোন অসমতা তৈরি না হয় সেজন্য বিশেষ নজর দেয়ার জন্য তথ্য সংগ্রহকারীদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ভোটারদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সেখানে থাকবে বিশেষ ফরম।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা একটি নির্ভুল তথ্যভাণ্ডার চাই। এজন্য সবাইকে সঠিক তথ্য দিতে হবে। আগামীতে স্মার্ট কার্ড দেয়া হবে। নির্ভুল তথ্য দিয়ে যেনো সঠিক জাতীয় পরিচয়পত্র পান সে সহযোগিতা করতে হবে সবাইকে। এলাকাভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও নিবন্ধন সূচির বিষয়ে ইসি বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা দিয়ে নাগরিকদের জানানোর ব্যবস্থা করবেন বলে জানান সচিব।

আপাতত ছিটমহলবাসীদের ভোটার করা যাচ্ছে না। কারণ হিসাবে ইসি সচিব বলেন, ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য, সেখানে সীমানা পুনর্নির্ধারণের একটা বিষয় থাকে। তাই যতদিন বিনিময় চুক্তির চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত তাদের ভোটার করতে পারবে না কমিশন।