২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে

ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন বাংলাদেশের শিল্পখাতের সার্বিক প্রবৃদ্ধির হারের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের চলমান এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হবে। এক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত জিএসপি প্লাস ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে এখন থেকেই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত পিয়েরে মায়াদুন আজ রোববার দুপুরে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সাথে এক বৈঠককালে এ পরামর্শ দেন।
শিল্প মন্ত্রণালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শিল্পমন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিং দেন।
এরআগে ইইউ রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশে বিদ্যমান পরিবেশবান্ধব জাহাজ নির্মাণ এবং রিসাইক্লিং শিল্পে বিনিয়োগের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহবান জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পটুয়াখালী জেলার পায়রা সমুদ্র বন্দর সংলগ্ন এলাকা এবং চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অত্যাধুনিক জাহাজ নির্মাণ ও রিসাইক্লিং শিল্প গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের উদ্যোক্তারা এক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ সংশি¬ষ্ট বিষয়াদিসহ তৈরি পোশাক খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশের শিল্পখাতের বৈচিত্রকরণ, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (ইপিজেড) ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার প্রদান, ইইউ’র সহায়তায় বাংলাদেশের শিল্পখাতের উন্নয়নসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
ইইউ’র রাষ্ট্রদূত সাভারের রানাপ্লাজা ধসের ঘটনার পর তৈরি পোশাক শিল্পখাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ সরকারের গৃহিত নানামুখি উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, তৈরি পোশাক কারখানায় কর্মপরিবেশের উন্নয়নে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে।
ইইউ রাষ্ট্রদূত তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পখাত বৈচিত্রকরণের পরামর্শ দেন। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ জাহাজ নির্মাণ, ওষুধ, আইটি ও চামড়াশিল্পের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে বলেও পিয়েরে মায়াদুন অভিমত ব্যক্ত করেন।
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের শিল্পখাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন আগামী বছর থেকে সাত বছর মেয়াদে একটি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এর আওতায় শিক্ষা, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, শিল্পদক্ষতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
আমির হোসেন আমু ইইউ রাষ্ট্রদূতকে জানান, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে ইপিজেডের সূচনালগ্নে সরকার ট্রেড ইউনিয়ন চালুর সুযোগ দেয়নি। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কমপ্লায়েন্সের অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যেই ইপিজেডে শ্রমিক কল্যাণ সমিতি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি তৈরি পোশাক শিল্পের কর্মপরিবেশ উন্নয়নে শ্রম আইন প্রণয়ন, পরিদর্শক নিয়োগসহ বিদেশি ক্রেতাদের সকল সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে। শিল্পমন্ত্রী বাংলাদেশের চামড়া শিল্প, ওষুধ, আইটি, মানব সম্পদসহ বিভিন্ন খাতে ইইউ’র কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা কামনা করেন।