Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৩:০৭ ঢাকা, রবিবার  ১৮ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

তোফায়েল আহমেদ
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, ফাইল ফটো

“২০১৯ সালের নির্বাচনেও খালেদা জিয়া ফের শেখ হাসিনার কাছে পরাজিত হবেন”

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, পৌরসভা নির্বাচনের মত ২০১৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আবারও শেখ হাসিনার কাছে পরাজিত হবেন।
তিনি বলেন, আপনি বার বার পরাজিত হচ্ছেন। ২০১৯ সালে আপনি আবারও পরাজিত হবেন। ওই নির্বাচনে আপনার অবস্থা পৌর নির্বাচনের মতো হবে।
তোফায়েল আহমেদ আজ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ রাসেল স্কয়ারে আওয়ামী লীগ আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।
দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্রের বিজয় দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ও এ্যাডভোকেট সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামাল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি ও এ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক এ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
তোফায়েল আহমেদ বলেন, খালেদা জিয়া অনির্দিষ্ট কালের জন্য অবরোধ ডাকলেন। আজ পর্যন্ত অবরোধ প্রত্যাহার করেন নাই। উনার অবরোধের মেয়াদ আজকের দিনে ১ বছর। উনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরবেন না। কিন্তু উনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে ঘরে ফিরলেন। আপনি আরও বহুবার স্যারেন্ডার করবেন।
আওয়ামী লীগের প্রবীণ এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনা আপ্রাণ চেষ্টা করেছেন ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি যেন আসে। খালেদা জিয়ার লক্ষ্য ও ষড়যন্ত্র ছিল দেশটাকে সামরিক স্বৈরতন্ত্রের হাতে তুলে দেয়ার। খালেদা জিয়া মানুষকে সেটাই স্মরণ করিয়ে দেয়ার জন্য আজ সমাবেশ করছেন। আসলে তার এখন অনুতাপ দিবস পালন করা উচিত।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়েছে। কিন্তু এই কথা পাকিস্তান মানে না। খালেদা জিয়াও মানেন না। পাকিস্তানের কণ্ঠ খালেদার কণ্ঠে উচ্চারিত হয়। ধিক খালেদা। এর জবাব পৌর নির্বাচনে বাংলার মানুষ দিয়েছে এবং ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে জনগণ আপনাকে এর জবাব দেবে।
বেগম খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বলেন, নির্বাচন করবেন সংবিধান মানবেন না তা হবে না। আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে আপনি নির্বাচন করবেন ও সংবিধান মানবেন। ভোট করবেন সংবিধান মানবেন না তা তো হতে পারে না। সংবিধান মানতে হলে জাতির পিতাকে মানতে হবে।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। তাই ক্ষমতা হস্তান্তরের পথ একটাই তা হচ্ছে নির্বাচন। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারায় ক্ষমতা হস্তান্তর নির্বাচন ছাড়া অন্য কোন পথে হতে পারে না।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ওই দিন নির্বাচন না হলে মার্শাল ল জারি থাকত বাংলাদেশে। দেশের অর্থনীতি হুমকির মুখে পড়তো। আমরা সভা সমাবেশ করতে পারতাম না, আপনিও পারতেন না। এই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল বাধা অতিক্রম করে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ওই দিন নির্বাচন না হলে দেশে গণতন্ত্র থাকতো না। বাংলাদেশের অবস্থা থাইল্যান্ডের মত হত। আমরা কোথাও কোন সভা-সমাবেশ করতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে পৌরসভা নির্বাচনে এসে নাকে খত দিয়ে বিএনপি ভুল স্বীকার করেছে বলেও মন্তব্য করেন নাসিম।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদির সমর্থকদের সাথে কোন আলোচনা হবে না।