ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৪৪ ঢাকা, বুধবার  ১৯শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

২০১৪ সালে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার কারণে বিদায়ী বছরে দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হয়েছে। এ বছরের শুরুতে সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে।
রিজার্ভ ও রেমিটেন্স খাতে সর্বোচ্চ সাফল্যসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ঘটেছে। জনসমর্থনের অভাবে কয়েকটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের আহূত হরতাল ও বিক্ষোভ সমাবেশ ব্যর্থ হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়েছে।
এ সময় মূদ্রা স্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে ছিলো। ফলে সারা বছর দ্রব্যমূল্যও সাধারণ মানুষে ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে ছিলো।
গত ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত জোটের ধ্বংসাত্মক কর্মকা- এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক খাতে চাঙ্গা ভাব নিয়ে বছর শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে বিগত মহাজোট সরকার দেশকে একটি শক্ত অর্থনৈতিক ভিতের ওপর দাঁড় করানোর কারণেই এটি সম্ভব হয়েছে।
২০১৪ সালে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিলো সর্বোচ্চ। রেমিটেন্সের প্রবাহ ছিলো স্থিতিশীল। রফতানির প্রবৃদ্ধি বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পায়। আমদানিও ছিলো স্থিতিশীল। ফসলের বাম্পার ফলন হয়। ডলারের বিপরীতে টাকার অবস্থান ছিলো শক্তিশালী।
বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি), বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস), রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং অন্যান্য সরকারি সূত্রের তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সূচকগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।
মঙ্গলবারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত তথ্য-উপাত্তে দেখা যায়, ২৩ ডিসেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২২ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, যা ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার বেশি।
এ বছরের ১৮ ডিসেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এতে দেশে স্থিতিশীল রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং রফতানি বৃদ্ধিই প্রমাণিত হয়েছে।
এ বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীরা ১৪ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছে, যা গত বছর একই সময়ে ছিল ১৩ দশমিক ২২ বিলিয়ন ডলার। গত বছরের তুলনায় এ বছর রেমিট্যান্সের প্রবাহ ১১ দশমিক ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বছর জুলাই মাসে এযাবতকালের মধ্যে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে। রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৪৯২ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ডিসেম্বরের শেষ দিন পর্যন্ত এ রেমিট্যান্সের প্রবাহ দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এদিকে বিশ্বব্যাংকের মাইগ্রেশন ও রেমিট্যান্স ইউনিট এর আগেই বলেছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের পরিমাণ দেড় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে এর প্রবাহ আরো বৃদ্ধি পাবে। রেমিট্যান্সের প্রবাহের দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অষ্টম স্থানে অবস্থান করছে।
রিজার্ভ ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর টাকার মূল্যামানও ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী ছিল। ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যমান ছিল ৭৭ টাকা ৯০ পয়সা।
বাম্পার শস্য উৎপাদন, নিম্ন সুদের হার ও বিনিময় মূল্য এবং সীমিত আমদানির কারণে নভেম্বর মাসে মুদ্রাস্ফীতির হার বিগত ২২ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কমে দাঁড়ায় ৬ দশমিক ২১ শতাংশ।
বিদায়ী বছরে দেশের রপ্তানি আয় স্থিতিশীল। জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত এর পরিমাণ ছিলো ১২ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই ক্ষেত্রে গত অর্থবছরে দেশ প্রথমবারের মতো ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সীমা অতিক্রম করে।
উল্লেখ্য, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৩ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। পাশাপাশি বিদায়ী বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ‘ঢাকা এ্যাপারেল সামিট-২০১৪’তে ২০২১ সাল নাগাদ বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে, দেশীয় চাহিদা এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বছরের শেষ নাগাদ আমদানি বৃদ্ধির মাত্রাও ছিলো স্বাভাবিক।
চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরের অনুরূপ সময়ের তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার ছিলো ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ বেশি। চলতি ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। আগের অর্থবছরে একই সময়ে এর পরিমাণ ছিলো ৩৩ হাজার ২৬৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
দেশে স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সংগ্রহের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে।
বিভিন্ন সময় উত্থান-পতন সত্ত্বেও ২০১৪ সালে দেশের শেয়ার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। মূল্য সূচকও ছিল প্রায় স্থিতিশীল।
বিদায়ি বছরের মে মাসে দেশের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৯০ মার্কিন ডলারে, যা ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে ছিল ১ হাজার ৪৪ মার্কিন ডলার।
আসন্ন ২০১৫ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্পর্কে ব্রিটেনের অর্থনীতি বিষয়ক সাপ্তাহিক ‘দ্য ইকোনোমিস্ট’ তাদের ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইন ২০১৫’ শীর্ষক নিবন্ধে মন্তব্য করেছে- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ ২০১৫ সালে আরও অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রতি মনোনিবেশ করবে।