ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:২৫ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

১৭ লাখ ৩ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি দেয়া হবে

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ  Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

সরকার সারাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত ১৭ লাখ ৩ হাজার দরিদ্র শিক্ষার্থীকে উপবৃত্তি প্রদান করবে। উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষাথীদের ঝরে পড়া এড়াতে বিশেষ করে মেয়েদের শিক্ষা সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত মোট নারী শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ৪০ ভাগ এবং পুরুষ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে ১০ ভাগকে এ উপবৃত্তির আওতায় আনা হবে। বিজ্ঞান বিভাগ ও অন্যান্য বিভাগ এ দুই ক্যাটাগরিতে এই উপবৃত্তি দেয়া হবে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগরে এনইসি’র সম্মেলন কক্ষে জাতীয় অর্ধনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) এক সভায় উপবৃত্তি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে ‘উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্পও অনুমোদন দেয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপার্সন শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন।
একনেক সভায় ‘উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প’সহ ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকার প্রাক্কলিত ব্যয়ে মোট ছয়টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। সরকারি অর্থায়নে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। মোট ছয়টি প্রকল্পের মধ্যে ৫টি নতুন এবং ১টি সংশোধিত প্রকল্প।
সভাশেষে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে এডিপি’র বাস্তবায়নের হার ৩২ ভাগ। গত বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৩১ ভাগ।
তিনি বলেন, গত অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে ২২ হাজার ৯ শ’ ৩৭ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছিল। এ বছর একই সময়ে তা ২৭ হাজার ১ শ’ ৬৩ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, যে মন্ত্রণালয়গুলো তাদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের যে অংশ নির্দিষ্ট সময়ে ব্যয় করতে পারবে না তারা এখনই তা জানিয়ে দিলে সে অংশ অন্যত্র বরাদ্দ দিতে পরিকল্পনা কমিশন এখন থেকেই উদ্যোগ নেবে।
এতে জানানো হয়,বিজ্ঞান বিভাগে উপবৃত্তি প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী মাসিক বৃত্তি হিসেবে ১৭৫ টাকা ও টিউশন ফি ৫০ টাকা পাবে। সেইসাথে বই ক্রয় ও পরীক্ষা ফি বাবদ এককালীন ১ হাজার ৬ শত টাকা পাবে।
অপরদিকে অন্যান্য বিভাগ থেকে উপবৃত্তি প্রাপ্ত একজন শিক্ষার্থী মাসে ১২৫ টাকা বৃত্তি ও ৫০ টাকা টিউশন ফি পাবে। এছাড়া এককালীন বই ক্রয় ও পরীক্ষা ফি বাবদ একত্রে ১ হাজার ২ শত টাকা পাবে।
আজকের একনেক’র বৈঠকে মোট ১৭ লাখ ৩ হাজার শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির আওতায় কিভাবে আনা হবে, সে বিষয়টি সরকার স্পষ্ট করেছে। সরকার আশা করছে এর ফলে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ হবে। সেই সাথে বিজ্ঞান শিক্ষায়ও উৎসাহ বাড়বে ।
সভায় এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতেই উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তি প্রকল্প নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৫১৩ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন মাস মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করবে।
বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, উপবৃত্তি সংক্রান্ত প্রকল্প ছাড়াও আরও ৫টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এরমধ্যে তিনটি মাধ্যমিক, একটি উচ্চ মাধ্যমিক ও একটি ¯œাতক পর্যায়ে চলমান রয়েছে। প্রকল্পটি ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। যেসব এলাকার দরিদ্র শিক্ষার্থী এখনও উপবৃত্তির আওতায় আসেনি তাদেরকেও পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমের আওতায় অনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের এগিয়ে যাবার একমাত্র উপায় হলো শিক্ষা। এক্ষেত্রে অর্থ ব্যয়কে আমরা ভবিষ্যত বিনিয়োগ হিসেবেই দেখছি।’
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই এমন ৩১৫টি উপজেলায় বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো থেকে বাছাই করে একটি স্কুলকে সরকার মডেল স্কুল করবে। এজন্য এ সংক্রান্ত একটি সংশোধিত প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক সভা।
সংশোধিত এ প্রকল্পের নাম ‘সরকারি বিদ্যালয়বিহীন ৩১৫টি উপজেলা সদরে অবস্থিত নির্বাচিত বেসরকারি বিদ্যালয়সমূকে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প। ২০০৯ সাল থেকে প্রকল্পটির কাজ চলমান । সভায় প্রকল্পটির সমাপ্তিকাল ২০১৪ সালের ডিসেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সেইসাথে প্রকল্পটির ব্যয় ৯২ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৫৫৮ কোটি টাকার অনুমোদন দেয়া হয়।
মূলতঃ ৫টি উপজেলায় নতুন করে মাধ্যমিক স্কুলের অন্তর্ভুক্তি, ২৯টি বিদ্যমান ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও ৩১৫ টি বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান গবেষণাগারসহ মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ নির্মাণে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যায়। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৫৫৮ কোটি ব্যয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। সভায় জানানো হয়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৬৮ ভাগে দাঁড়িয়েছে।
সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল কম্পাউন্ডের নির্মাণাধীন ‘৭ মার্চ ভবনকে’ ১১ তলা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এ ছাত্রী হলে নতুন করে ৫০০ নারী শিক্ষার্থীর স্থান সংকুলান হবে। বর্তমানে ভবনটির কাজ ৬ তলা পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে।
সভায় ‘পাকুয়া-দেলদুয়ার-এলাসিন সড়কের ১২তম কিলোমিটারে এলেনজানী নদীর উপর ৯৩ দশমিক শুন্য ২ মিটার নাল্লাপাড়া পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ এবং বালিয়া-ওয়ার্শি-মির্জাপুর সড়কে ২টি পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ’ ‘এস্টাব্লিসমেন্ট অব রুরাল ডেভেলপমেন্ট একাডেমী অ্যাট রংপুর’, ‘নীলফামারী ও নেত্রকোনা জেলা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন এবং রংপুর মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ’ শীর্ষক অপর ৩টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়।