ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩২ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

১৬৮৮৭ কোটি টাকার ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন : নতুন ১৫ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সংযোগ পাবে

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে ১৬ হাজার ৮৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার ১৬টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে ।
এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ হাজার ৪১ কেটি ৫৯৬ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিলের প্রকল্প সহায়তা থেকে থেকে ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা যোগান দেয়া হবে।
আজ দুপুরে প্রধানমন্ত্রী পরিকল্পনা কমিশনের সভাকক্ষে শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন,‘বৈঠকে ১৬ হাজার ৮৮৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার ১৬টি উন্নয়ণ প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা ৫৯৬ কোটি টাকা সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে এবং ২ হাজার ২৫০ কোটি টাকা প্রকল্প সহায়তা থেকে যোগান দেওয়া হবে।’
মন্ত্রী জানান, সারা দেশে নতুন করে আরো ১৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনবে সরকার। নতুন করে ৪৪ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ করে এ বিপুলসংখ্যক গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় আনা হবে। এ জন্য ‘পল্লী বিদ্যুতায়ন সম্প্রসারণের মাধ্যমে ১৫ লাখ গ্রাহক সংযোগ’ নামের একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার। এতে ব্যয় হবে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা।
১৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রকল্পটি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট ৮২ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। ২০১৮ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ মানুষকে বিদ্যুত সরবরাহ নিশ্চিত করার যে অঙ্গীকার করেছিলেন এ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শেষে তা পূরণে অনেকটাই এগিয়ে যাবে সরকার।’‘প্রকল্পটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই অনুমোদন ও বাস্তবায়ন করবে সরকার।’
‘বর্তমানে দেশের ৭৪ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সংযোগের আওতায় রয়েছেন। তবে এখনো দেশের বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষ বিদ্যুতের বাইরে রয়েছেন। বিশেষ করে দ্বীপ বনভূমি, পাহাড়ি এলাকা, জলাভূমি এবং দুর্গম এলাকাসহ প্রায় ১২ শতাংশ মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছানো সম্ভব নয়।’ প্রকল্পটির মাধ্যমে ৪৪ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন নির্মাণ, নতুন উপকেন্দ্র ৮৩টি ও ৩৫টি উপকেন্দ্র আপগ্রেড করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, বৈঠকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে, ‘ঘোড়াশাল ৪র্থ ইউনিট রি-পাওয়ারিং প্রকল্প’ যার ব্যয় ২ হাজার ২৯ কোটি টাকা। ৭৪৬ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর ৭০০ মেগাওয়াট আল্ট্রসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণ ও সুরক্ষা এবং ফিজিবিলিটি স্টািডি প্রকল্প। ‘ছাতক সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের উৎপাদনি পদ্ধতি ওয়েট প্রসেস থেকে ড্রাই প্রসেসে রূপান্তরকরণ প্রকল্প, যার ব্যয় প্রায় ৬৬৭ কোটি টাকা।
কক্সবাজার জেলার পেকুয়ায় ১২০০ মেগাওয়াটের আল্ট্রসুপার ক্রিটিক্যাল কয়লা ভিত্তিক কেন্দ্রের ভূমি অধিগ্রহণ ও সুরক্ষা এবং ফিজিবিলিটি স্টাডি প্রকল্প, ব্যয় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা। প্রায় ১৮৬ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘খুলনা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’।
মন্ত্রী জানান, জাতীয় বেতার ভবনে আধুনিক ও ডিজিটাল সম্প্রচার যন্ত্রপাতি স্থাপন প্রকল্প, যার ব্যয় ৪৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা। ৩৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘বাংলাদেশ গ্রামীণ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। প্রায় ১২৭ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘জামালপুর শহরের নগর স্থাপত্যের পূন:সংস্কার ও সংস্কৃতি কেন্দ্র উন্নয়ন’ প্রকল্প। ২৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘ঢাকার ইস্কাটনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও গ্রেড-১ কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ’ প্রকল্প।
তিনি জানান, প্রায় ৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়ন করা হবে ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরসমূহের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যে জরুরী সরঞ্জামাদি সরবরাহ ও সংস্থা’ প্রকল্প। ৭৫ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘৯টি পুলিশ সুপার অফিস ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। ‘সিলেট বিভাগ গ্রামীণ একসেস সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প. যার ব্যয় ২৮৭ কোটি টাকা।
তিন হাজার ৬৭ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘প্রাথমিক শিক্ষার জন্য উপবৃত্তি প্রদান ৩য় পর্য়ায়’ প্রকল্প। ১৮৭ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘হাই-টেক পার্ক, সিলেট (সিলেট ইলেক্ট্রনিক্স) এর প্রাথমিক অবকাঠামো নির্মাণ’ প্রকল্প এবং প্রায় এক হাজার ২৯৩ কোটি টাকায় বাস্তবায়ন করা হবে ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প।
সভায় একনেক সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী, মুখ্য সচিব এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিববৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।