ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:১১ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২২শে মে ২০১৮ ইং

হুমায়ুন আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

চলে আসলো বাংলা সাহিত্যের নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের চলে যাওয়ার দিনটি। আজ তার তৃতীয় মৃত্যু বার্ষিকী।

ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ২০১২ সালের ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এই কথাশিল্পী মৃত্যুর তিন দিন পর ২৪ জুলাই নিজের গড়া নুহাশ পল্লীর লিচুতলায় শায়িত হন তিনি। মৃত্যুদিনে তাকে স্মরণ করার পাশাপাশি তার সৃষ্টিকেও স্মরণ করে অনুরাগীরা।
নন্দিত এই কথাসাহিত্যিকের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সবুজে ঘেরা লেখকের সমাধিস্থল তার স্বপ্নের নুহাশ পল্লীতে কবর জিয়ারত, কোরান খানী, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
নুহাশ পল্লীতে পরিবারের সদস্য এবং হুমায়ুন আহমেদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু, লেখক, প্রকাশকসহ হুমায়ুন ভক্তরা সকাল থেকেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে ভিড় জমান। তারা হুমায়ুন আহমেদের কবর জিয়ারতসহ নানা কর্মসূচিতে যোগ দেন। তবে এসব অনুষ্ঠানে কোন জৌলশ বা ঝাকজমকপূর্ণ আয়োজন ছিল না। সাদামাটাভাবেই পালন করা হয়েছে তার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী।
একদিন আগেই হুমায়ূন পত্নী মেহের আফরোজ শাওন তার সন্তানদের নিয়ে নুহাশ পল্লীতে আসেন। সকালে তিনি তার সন্তানদের নিয়ে প্রয়াত স্বামীর কবর জিয়ারত করেছেন। সকাল থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীসহ অসংখ্য হুমায়ুন ভক্ত নুহাশ পল্লীতে এসে উপস্থিত হন।
অনেকেই বলে থাকেন, হুমায়ুন আহমেদ বাংলা সাহিত্যের সর্বকালের অন্যতম প্রধান জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক। স্বাধীনতা পরবর্তী শ্রেষ্ঠ জনপ্রিয় লেখক হুমায়ুন আহমেদকে বাংলা কল্পবিজ্ঞান সাহিত্যেরও পথিকৃৎ বলা হয়।
নাট্যকার হিসেবে যেমন নন্দিত চলচ্চিত্রকার হিসেবেও তেমনই সমাদৃত। বাংলা কথাসাহিত্যের সংলাপ প্রবণে নতুন শৈলীর জনক হুমায়ুন আহমেদের দুই শতাধিক গ্রন্থের বেশকিছু পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়েছে। স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত রয়েছে তার গ্রন্থ।
বাংলা সাহিত্যের এই প্রবাদ পুরুষের জন্ম ১৩ নভেম্বর ১৯৪৮ সালে নেত্রকোনা জেলার কুতুবপুর গ্রামে। বাবার চাকরির সূত্রে তার শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায়। দেখেছেন বহু মানুষ এবং তাদের জীবনানুভূতি। এর ফলেই হুমায়ুন আহমেদের লেখায় উঠে এসেছে বাঙালি মধ্যবিত্তের নানা সংকট বিচিত্র জীবনযাপন আর হৃদয়ের টানাপড়েন।
লেখাপড়া বগুড়া জেলা স্কুল, ঢাকা কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, নর্থ ডাকোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে। অধ্যাপনা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করলেও সবকিছু ছেড়ে লেখালেখি নাটক আর চলচ্চিত্র নির্মাণই হয়ে ওঠে তার নেশা ও পেশা।