Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ৯:৩৬ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘হিসাব প্রতিবেদন দাখিলে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেবে’

দেশের সব জীবন বীমা কোম্পানিকে চলতি বছরের ব্যবসার হিসাব আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) নিকট দাখিল করতে হবে। এর জন্য ১৭টি ছক নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই আইডিআরএ এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য চেয়ে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব তথ্য দিতে ব্যর্থ হলে ওইসব কোম্পানীর বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে আইডিআরএ সদস্য কুদ্দুস খান  বলেন,৩০ জানুয়ারির মধ্যে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোকে হিসাব প্রতিবেদন দাখিল করতে হতে।শিগগিরই এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেওয়া হবে। বীমাগ্রহীতা ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে আইন অনুযায়ী এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।এতে কোম্পানীর ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আসবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, বীমা আইন আইন অনুযায়ী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বীমা কোম্পানিগুলোর বার্ষিক হিসাব শেষ করার বিধান রয়েছে।কিন্তু কোম্পানিগুলো প্রতিবছর ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তাদের হিসাব সমাপ্ত করে আসছে। নির্ধারিত সময়ে হিসাব শেষ না করায় কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

কোম্পানীর পাঠানো হিসাব প্রতিবেদনের ওপর সভা করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।ওই সভায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানীর দায়িত্বরত ব্যবস্থাপনা পরিচালককে উপস্থিত থাকতে হবে।ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সভায় প্রতিবেদনের সহায়ক নথি উপস্থাপন করতে হবে। ১ থেকে ৫ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে পৃথক সভা করবে আইডিআরএ।

হিসাব প্রতিবেদনে আইডিআরএ নির্ধারিত ১৭টি ছকের মধ্যে রয়েছে-প্রথম বর্ষ ব্যবসা,কমিশন প্রদান,উন্নয়ন কর্মকর্তাদের বেতন, প্রশাসনিক ও অন্যান্য খরচ,নবায়ন প্রিমিয়াম,নবায়ন কমিশন, মোট ব্যবস্থাপনা খরচ,বিনিয়োগ, জীবন বীমা তহবিল,ব্যাংক জমা,ব্যাংক ব্যালান্স,ক্যাশ ব্যালান্স, এজেন্ট ব্যালান্স, নবায়ন বকেয়া, প্রিমিয়াম ব্যালান্স কালেকশন ইন হ্যান্ড, আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম ও অন্যান্য ব্যাখ্যা সংযুক্ত।

হিসাব প্রতিবেদন তৈরিতে কালেকশন ইন হ্যান্ড ও আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়ামের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে দিয়েছে আইডিআরএ। সংজ্ঞায় বলা হয়েছে,কালেকশন ইন হ্যান্ড বলতে বুঝাবে প্রথম বর্য প্রিমিয়াম আয়ের যে অংশ সংশ্লিষ্ট বছরের ৩১ ডিসেম্বরে বিভিন্ন ব্র্যাঞ্চের হিসাবে জমা আছে কিন্তু কোম্পানির মূল ব্যাংক হিসাবে জমা হয়নি। আর আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম বলতে বুঝায় নবায়ন প্রিমিয়াম আয়ের যে অংশ ১ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আদায়যোগ্য, কিন্তু সেগুলো গ্রেস পিরিয়ড বা পরবর্তী বছরের ৩১ জানুয়ারি মধ্যে আদায় হয়েছে।

আর্থিক প্রতিবেদন তৈরিতে কোম্পানির কাছে কী পরিমাণ কালেকশন ইন হ্যান্ড ও আউটস্ট্যান্ডিং প্রিমিয়াম আছে, তা উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি এই দুই খাতে কমিশন-সংক্রান্ত প্রভিশন ও অন্যান্য খরচের পরিমাণ উল্লেখ করতে হবে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে জীবন বীমা খাতে ৩৩টি কোম্পানি রয়েছে।এর মধ্যে ১২টি কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত।বীমা খাতে ২০১৫ সালে প্রিমিয়াম আয়,লাইফ ফান্ড ও মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।আগের বছরের তুলনায় ২০১৫ সালে ৩৩টি জীবন বীমা ও ৪৫টি সাধারণ বীমা কোম্পানির প্রিমিয়াম আয় বেড়েছে ৪৪৮ কোটি ৭ লাখ টাকা। একই সময়ে জীবন বীমা কোম্পানিগুলোর লাইফ ফান্ডের পরিমাণ বেড়েছে ৪৬৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা।

এছাড়া ২০১৫ সালে তার আগের বছরের তুলনায় জীবন বীমা ও সাধারণ বীমা কোম্পানির মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৩ হাজার ২১৫ কোটি ৪৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা।বাসস