ব্রেকিং নিউজ

রাত ৪:৪২ ঢাকা, সোমবার  ২২শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

হিলারি ক্লিনটন
হিলারি ক্লিনটন

হিলারির ই-মেইলে বেআইনি কিছু পায়নি এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের নতুন পাওয়া ই-মেইল তদন্ত করে বেআইনি কিছু পায়নি দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে এফবিআইয়ের এ ঘোষনায় হিলারি শিবিরে স্বস্তি ফিরলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প শিবির যারপরানই অখুশি হয়েছে।

গতকাল রোববার কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ্যে লেখা এক চিঠিতে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (এফবিআই)’র পরিচালক জেমস কোমি বলেন, মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিলারি ক্লিনটনের নতুন পাওয়া ই-মেইল তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে অপরাধের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রী থাকাকালে হিলারির ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যাবহার করা নিয়ে যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল তা তদন্ত করে দেখা গেছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করাটা উচিত হবে না।

কোমি বলেছেন, হিলারির বিরুদ্ধে মামলা না করার বিষয়ে চলতি বছরের জুলাইয়ে যে সুপারিশ করা হয়েছিল, এফবিআই তা থেকে সরে আসছে না। নতুন পাওয়া ই-মেইলগুলো তদন্ত করতে সংস্থাটি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা কাজ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি ক্লিনটনের কাছে আসা এবং তার পাঠানো সব ই-মেইল আমরা তদন্ত করেছি। গত জুলাইয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত আমরা পরিবর্তন করছি না।’

জুলাইতে এফবিআই প্রধান কোমি বলেছিলেন, ক্লিনটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নিজের ব্যক্তিগত ই-মেইল সার্ভারে স্পর্শকাতর বিষয় রাখার ক্ষেত্রে অসতর্ক থাকলেও তিনি কোনো অপরাধ করেননি।

নির্বাচনের প্রচারণায় শুরু থেকেই বিভিন্ন জনমত জরিপে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়ে ভাল ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন হিলারি। তবে গত ২৮ অক্টোবর হিলারির আরো কিছু নতুন ই-মেইল পাওয়া গেছে উল্লেখ করে কোমি বলেছিলেন, এর তদন্ত করা হবে। এরপর ট্রাম্পের পালে হাওয়া লাগে। তার জনসমর্থন বাড়তে থাকে। জনমত জরিপগুলোতে হিলারি ও ট্রাম্পের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরও পূর্বাভাস দেয়া হয়।

যৌন কেলেঙ্কারির জন্য অভিযুক্ত সাবেক কংগ্রেসম্যান অ্যান্থনি উইনারের কম্পিউটার তল্লাশি করে এফবিআই সন্দেহজনক ই-মেইলের খোঁজ পায়। উইনারের সাবেক স্ত্রী হুমা আবেদিন হিলারি ক্লিনটনের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সহকারী।

নতুন করে পাওয়া ওই ই-মেইলের কথা উল্লেখ করে গত ২৮ অক্টোবর জেমস কোমি বহুল প্রচারিত এক চিঠিতে আইনপ্রণেতাদের বলেছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকাকালে হিলারি সরকারি সার্ভারের বদলে ব্যক্তিগত সার্ভার ব্যবহারের সময় কোনো ‘গোপনীয়’ তথ্য চালাচালি করেছিলেন কি না, তা নিয়ে এফবিআই নতুন করে তদন্ত শুরু করতে যাচ্ছে। হঠাৎ ফাটানো এফবিআইয়ের ওই বোমায় বেকায়দায় পড়েন হিলারি ক্লিনটন।

হিলারি এফবিআইয়ের এমন কর্মকান্ডের সমালোচনা করে এর বিস্তারিত জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি জানান। তিনি ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে এমন একটি সিদ্ধান্ত কেন নেয়া হলো, তার ব্যাখ্যা চান এফবিআইয়ের কাছে।

এ প্রেক্ষাপটে রোববার এফবিআই প্রধান বলেন, হিলারির বিরুদ্ধে নতুন তদন্তে দোষের কিছু পাওয়া যায়নি।

এফবিআই প্রধানের এ বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়েছেন হিলারির নির্বাচনী প্রচার শিবিরের যোগাযোগ পরিচালক জেনিফার পালমিয়েরি।তিনি বলেন, হিলের কাছে পাঠানো কোমির চিঠিটা আমরা দেখেছি। আমরা আনন্দিত যে, গত জুলাইয়ে তিনি যে উপসংহারে পৌঁছেছিলেন সেটিই পাওয়া গেছে। আমরা অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে তিনি এটাই পাবেন। আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে, এই ব্যাপারটার একটা সমাধান হলো।

তবে এতে যারপরনাই অখুশি ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবির। ট্রাম্পের পরামর্শক নিউট গিংরিচ টুইট এক টুইটার বার্তায় বলেন, কোমি অবশ্যই বিরাট রাজনৈতিক চাপের কারণে এ কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন।