ব্রেকিং নিউজ

রাত ১:৩৪ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘হিন্দুদের সম্পত্তির জন্য উত্তরাধিকার আইন প্রণয়ন হবে’- প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার হিন্দু সম্প্রদায়ের সম্পত্তির উত্তরাধিকার বজায় রাখার জন্য ’উত্তরাধিকার আইন’ প্রণয়ন করবে। যে আইনে হিন্দু সম্পত্তির উত্তরাধিকারীগণ তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি গ্রহণ করতে কোন প্রকার ট্যাক্স প্রদান করতে হবে না।

প্রধানমন্ত্রী হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের উদ্দেশে বলেন,‘ আপনারা যদি একতাবদ্ধ হয়ে এই উত্তরাধিকার আইন করতে চান ,আপনারাই মিলিতভাবে আইনটা করে দেবেন, যেহেতু আপনাদের ধর্ম। আমরা এটা পাশ করে দেব, তাতে কোন সন্দেহ নেই কিন্তু এটা আপনাদেরকেই করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বিকেলে তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবনে জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনাদের যেটা সমস্যা আপনাদের কোন উত্তরাধিকার আইন নাই, সূত্র নাই-এটাতো ঠিক, একজন মারা গেলে তাঁর স্ত্রী সম্পদের উত্তরাধিকার পাবেনা বা ছেলে-মেয়ে পাবে না, সে অসহায়ের মত ঘুরে বেড়াবে। সম্পত্তি থাকতেও ভোগ করতে পারবে না, জীবন চালাতে পারবেনা, এটা হতে পারে না।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা তাই উদ্যোগ নিয়েও আপনাদের কারো কারো বিরোধিতার কারণে থেমে গিয়েছিলাম। এটা হল বাস্তবতা।
তিনি বলেন, ‘এখন আপনারা যদি একতাবদ্ধ হয়ে এই উত্তরাধিকার আইন করতে চান, আপনারাই মিলিতভাবে আইনটা করে দেবেন, যেহেতু আপনাদের ধর্ম। আমরা এটা পাশ করে দেব, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কিন্তু এটা আপনাদেরকেই করতে হবে।

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিরেন সিকদার, মৎস ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেসানন্দ মহারাজ, চট্টগ্রাম ঋষিধাম আশ্রমের প্রধান সুদর্শনানন্দ মহারাজ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি নেতৃবৃন্দের মধ্যে জয়ন্ত সেন দিপু, দেবাশিষ পালিত, রমেশ ঘোষ, ডিএন চ্যাটার্জী , চন্দন বিশ্বাস , তাপস কুমার পালও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পচাত্তরের ১৫ আগস্টে শহীদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তার পরিবার পরিজনদের স্মরণে দাাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা হিন্দু সম্পদায়ের নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেন আপরাদের অনেক কিছুই চাইতে হয়নি । আমরা যেটা প্রযোজন মনে করেছি তা সাথে সাথে করে দিয়েছি। আমরা যখন ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য কল্যাণ ট্রাস্ট করলাম সাথে সাথেই হিন্দু-বৌদ্ধ ও খ্রীষ্টানদের জন্য সেই কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছি। হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী বরাদ্দের বিধান রেখে আজ এ সম্পর্কিত তিনটি আইনের খসড়া মন্ত্রীসভা অনুমোদন দিয়েছে। যেটা পার্লামেন্টে পাশ হবে। এভাবেই সকলের কল্যাণেই এই সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী পূজার সময় বিদেশ থেকে রাধা কৃষ্ণের মার্বেলের মুর্তি আমদানি শুল্কমুক্ত করার বিষয়ে অনুষ্ঠানে দাবির প্রেক্ষিতে বলেন, এটা ঢালাও ভাবেতো আমদানীর কোন প্রয়োজন নাই। কিন্তু যখন যার আমদানীর প্রয়োজন হবে, সে এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) কাছে লিখিতভাবে আবেদন করলে তাকে অনুমতি দেয়া হবে।