Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৫ ঢাকা, বুধবার  ১৪ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

আছাদুজ্জামান মিয়া
ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ফাইল ফটো

‘হামলা তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত ও সিঙ্গাপুরের সহায়তা নেবে পুলিশ’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেছেন, গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার ঘটনা তদন্তে পুলিশ যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও সিঙ্গাপুর থেকে প্রযুক্তি সহায়তা নেবে।

শনিবার দুপুরে নিজ কার্যালয়ে ঈদ পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘আমাদের চৌকস পুলিশ অফিসার রয়েছে। জঙ্গি দমনে তাদের নিয়ে গঠিত প্রশিক্ষিত বিশেষ ইউনিট গুলশান হামলায় দায়ের মামলা তদন্ত করবে। তবে প্রয়োজন মনে করলে ওই তিনটি রাষ্ট্রের সহায়তা নেয়া হবে।’

তিনি জানান, মূলত গুলশান হামলায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার সব আলামত পরীক্ষা এবং মরদেহের রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য এই প্রযুক্তি সহায়তা নেয়া হবে।

আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘গুলশান ট্রাজেডি শুধু আইনশৃংখলা বাহিনীর বিষয় নয়। এটি একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। সম্মিলিতভাবে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ভবিষতে এ ধরনের হামলা প্রতিহত করতে ‘ওয়ে অব অ্যাকশন’ আর ‘মুড অব অ্যাকশন’ ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার জানান, গুলশানের ওই হামলার ঘটনায় রেস্তোরাঁ থেকে মোট ৩২ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছিল। আর সন্ত্রাসীরা সবাই নিহত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় জাতীয় ঐক্য দরকার। সাংবাদিক, ঈমাম, শিক্ষকরা সহযোগিতা করতে পারেন। যে যার স্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ঈদের ছুটিতে রাজধানীতে এবার বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি। চুরি-ডাকাতির ঘটনাও নেই। ঈদকে কেন্দ্র করে বিপণিবিতান, শপিংমল, বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়।

তিনি বলেন, রাজধানীবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা এবার পুলিশ সদস্যদের ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়াকে যতটা সম্ভব নিরুৎসাহিত করেছি। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে। তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে।

সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে ডিবির এসি রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন খান নিহত হন।

পরদিন ২ জুলাই সকালে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো অভিযানে জিম্মি সংকটের অবসান হয়। সেখান থেকে ১৩ জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। এ সময় ৬ জঙ্গি নিহত ও একজনকে জীবিত আটক করা হয়।

এ ঘটনার ঠিক ৭ দিনের মাথায় বৃহস্পতিবার ঈদের সকালে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের অদূরে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের ওপর বোমা হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্য, গৃহবধূ ঝর্ণা রানী ও সন্ত্রাসী আবির নিহত হন।