ব্রেকিং নিউজ

রাত ১০:৩২ ঢাকা, মঙ্গলবার  ২৫শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

হাওয়াইয়ের উদ্দেশে নানজিং ছেড়েছে সৌরবিমান

বিশ্বের সবচেয়ে বড় সৌরবিদ্যুৎ চালিত বিমান নিয়ে এবার প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ি দেয়ার অভিযানে নেমেছেন সুইজারল্যান্ডের বিমান চালক আঁদ্রে বর্সচবার্গ। চীনের নানজিং থেকে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপ পর্যন্ত উড়বে পরীক্ষামূলক সৌরবিমান-সোলার ইমপালস টু।
প্রায় আট হাজার দুইশো কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছতে ছয়দিন লাগতে পারে বিমানটির। আর এই পুরো সময়টাতে বেশিরভাগ সময়েই জেগে থাকতে হবে পাইলটকে। মোনাকোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বিমানের গতিপথ নজর রাখবে। পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি হিসেবে বিশ্বজুড়ে সৌরশক্তির জনপ্রিয়তা বাড়াতে, মার্চে আবুধাবি থেকে বিশ্বভ্রমণে বের হয় সোলার ইমপালস টু। পাঁচ মাসের সফরে ওমান, ভারত, মিয়ানমার, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রে থামবে বিমানটি।
বিশ্বভ্রমণের উদ্দেশে সর্বপ্রথম আবুধাবি থেকে যাত্রা শুরু করে। ১২ ঘণ্টা উড়ে ওমানের রাজধানী মাসকাটে পৌঁছায় ‘সোলার ইমপালস-২’। এরপর ভারতের আহমেদাবাদ হয়ে পৌঁছায় বারানসিতে। তারপর মায়ানমারের মান্দালয় থেকে পৌঁছলে চীনের চংকিংয়ে।
এবার বিমানটি প্রশান্ত মহাসাগর পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছবে। সৌরবিমানটির মহাসাগর পাড়ি দিতে সময় লাগবে ৫ রাত ৫ দিন। সেখান থেকে যাবে আমেরিকার মূল ভূখণ্ডে, ফিনিক্স এবং নিউইয়র্কে।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ৭ জুন প্রথমবারের মতো আকাশে উড়াল দেয় সৌরশক্তি চালিত বিমান ইমপালস টু। ওইসময় সুইজারল্যান্ডে বিমানটি সফল উড্ডয়নের পর কোন ঝামেলা ছাড়াই অবতরণ করে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রেক্ষিতে পৃথিবী জুড়ে চলছে বিকল্প জ্বালানির খোঁজ। এছাড়াও ভবিষ্যতের জ্বালানির চাহিদা মেটাতে মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল সৌরশক্তির মতো নবায়নযোগ্য জ্বালানি। তাই গত কয়েক বছর ধরেই সৌরশক্তি চালিত ইঞ্জিন নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের এপ্রিলে সোলার ইমপালস টু নামের একটি সৌরশক্তি চালিত বিমানের প্রস্তুতের খবর জানানো হয়।
অবশেষে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে সফলভাবে আকাশে উড়ে বেড়ায় বিমানটি। জন্মভূমি সুইজারল্যান্ডে পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিমানটি দুই ঘণ্টা আকাশে সফলভাবে উড়ে বেড়ানোর পর সফলভাবে অবতরণ করতে সমর্থ হয়।
বিমানটির এই সফলতায় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান সুইস ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির বিজ্ঞানীরা বেজায় খুশি। তারা জানিয়েছেন, বিমানটি এ বছর পুরো পৃথিবী ঘুরে বেড়াবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার করেও যে দূরপাল্লার আকাশযাত্রা সম্ভব, তা প্রমাণ করতেই সৌরবিমানটির এই অভিযান। কার্বন তন্তুর তৈরি মাত্র ২ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের বিমানটির ৭২ মিটার প্রশস্ত ডানায় ১৭ হাজার ২৪৮টি সৌরপ্যানেল যুক্ত রয়েছে। সেগুলো সূর্যালোক থেকে শক্তি সংগ্রহ করে বিদ্যুতে রূপান্তর করতে পারে। আর সেই বিদ্যুৎ শক্তিতে চলে উড়োজাহাজটির চারটি ইঞ্জিন।