Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৪:৩৬ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

হাওরে বন্যা
ফাইল ফটো

হাওরে জরুরি বরাদ্দ ছাড়াও ৫ লাখ পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে

হাওর এলাকায় জরুরি বরাদ্দের বাইরেও ৫ লাখ পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে। আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলা হয়। এতে জানানো হয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার কারণ চিহিৃতকরণে ১৮-সদস্য বিশিষ্ট একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি করা হয়েছে। আজ সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে হাওর অঞ্চলের চলমান বন্যা পরিস্থিতির নিয়ে আন্ত:মন্ত্রণালয় পর্যালোচনা সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে গঠিত এ কমিটি বন্যা-উত্তর দুর্যোগ মোকাবেলা এবং এ ব্যাপারে ভবিষ্যতে করণীয় বিষয় নির্ধারনে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রণয়ন করবে। কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন পেশ করার জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সরকার,হাওর এলাকার সকল মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে পর্যালোচনা সভায় জানানো হয়, হাওর এলাকার বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য জরুরী ত্রাণ সহায়তা হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় ৩ হাজার ৩ শ’ ২৪ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে। এরমধ্যে সিলেটের জন্য ৪২৮ মেট্রিক টন চাল ও ২৪ লাখ ৩৭ হাজার টাকা, সুনামগঞ্জের জন্য ১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন চাল ও ৭৫ লাখ টাকা, হবিগঞ্জের জন্য ৩০৩ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ টাকা, মৌলভীবাজারের জন্য ৩৪৩ মেট্রিক টন চাল ও ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, কিশোরগঞ্জের জন্য ৫৫২ মেট্রিক টন চাল ও ৩৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং নেত্রকোনার জন্য ৪৪৮ মেট্রিক টন চাল ও ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়।

এসব জেলার বন্যা-দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাল ও নগদ টাকা বিতরণ করা হবে। ত্রাণ সহায়তা হিসেবে প্রত্যেক পরিবারকে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। হাওর অঞ্চলের মোট ১ লাখ ১০ হাজার পরিবার জরুরী ত্রাণ সহায়তা হিসেবে এই চাল পাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জরুরী ত্রাণ সহায়তার বাইরেও হাওর বিধৌত ওইসব জেলায় বিশেষ সহায়তা হিসেবে সরকারীভাবে ৩ লাখ ৩০ হাজার অতি-দরিদ্র পরিবারকে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত ভিজিএফ কার্ডের মাধ্যমে পরিবার প্রতি ৩০ কেজি করে বিনামূল্যে চাল বিতরণ করা হবে।

এছাড়াও সরকার ওএমএস কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারন দরিদ্র পরিবারের জন্য ১৫ টাকা কেজি দরে ১ লাখ ৭১ হাজার পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দিবে। এরফলে জরুরি বরাদ্দের বাইরেও আরো ৫ লাখ ১ হাজার পরিবার খাদ্য সহায়তা পাবে। হাওর এরাকায় এবারের আকস্মিক বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা সুনামগঞ্জে ১ লাখ ৫০ হাজার পরিবারকে ভিজিএফ কার্ড ও ৯১ হাজার পরিবারকে ওএমএস’র মাধ্যমে খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সুনামগঞ্জ সফরকালীন স্থানীয় জনগণের পক্ষ থেকে ২ লাখ মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। সরকার তাদের চাওয়া মিটিয়ে অতিরিক্ত আরো ৪১ হাজার লোকের জন্য অর্থাৎ মোট ২ লাখ ৪১ হাজার মানুষের খাদ্য সহায়তা হিসেবে চাল বরাদ্দ দিয়েছে।

এ পর্যালোচনা সভায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ সচিব মোঃ শাহ্ কামাল, কৃষি সচিব মোঃ মহিউদ্দীন আব্দুল্লাহ, পানি সম্পদ সচিব ড.জাফর আহমেদ খান এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মোঃ মাকসুদুল হাসান খানসহ সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে রোববারের সভায় জানানো হয়,এ বছর অপেক্ষাকৃত ৩/৪ গুন বেশী বৃষ্টি হয়েছে। এরফলে এ বছর অকাল বন্যা হয়েছে। হাওর এলাকাকে বন্যার কবল থেকে স্থায়ীভাবে রক্ষার উদ্যোগ নেয়া হবে উল্লেখ করে সভায় বলা হয়, মরা নদীগুলোরও ড্রেজিং করা হবে।

সভায় জানানো হয়,দেশের বিভিন্ন স্থানের বাঁধগুলো মেরামত ও সুরক্ষার জন্য বরাদ্দসমূহ সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন বরাবর ছাড় দেয়া হবে। এ সভায় হাওর এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রত্যেক মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক টিম পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়া স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বন্যাকবলিত হাওর এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমান পানি বিশুদ্ধকর টেবলেট সরবরাহ করারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কৃষি সচিব এ সভায় উল্লেখ করেন,কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসনের জন্য ৩৬ হাজার কৃষককে কৃষি প্রণোদনা দিবে এদিকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত ১০ জন কর্মকর্তাকে ৩ মাসের জন্য হাওর এলাকায় পদায়ন করা হয়েছে।

হাওর এলাকাকে দুর্গত এলাকা ঘোষণা করা হবে কিনা এ প্রশ্নের জবাবে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, হাওরের বন্যা পরিস্থিতি সরকারের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। সেখানে পর্যাপ্ত খাদ্য সহায়তা দেয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগ বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও চুড়ান্ত করেছে। তিনি বলেন,‘আমি আশা করছি, শিগগিরই হাওরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’