ব্রেকিং নিউজ

রাত ২:৪৭ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২১শে জুন ২০১৮ ইং

হলমার্ক জালিয়াতরা আমাদের লোকজনের সমর্থনে জেলের বাইরে রয়েছে: ক্ষুব্ধ অর্থমন্ত্রী

হলমার্ক জালিয়াতি বিষয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, ‘আমরা সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তাকে জেলে নিতে সক্ষম হই। তিনি জেলেই মারা গেছেন। আরেকজন মনে হয় জেলে নেয়া হয়েছে। আরও কয়েকজন ডাইরেক্টরকে আমি কোনো মতেই জেলে নিতে পারছি না। এরা সকলেই আসামি, জালিয়াতির আসামি। এরা আমাদের লোকজনের সমর্থনে বাইরে রয়েছে। আমি এটাতে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।’

জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট পাসের আগে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের উপর আনীত ছাঁটাই প্রস্তাব আলোচনাকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। গতকাল মঙ্গলবার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে বরাদ্দের বিরুদ্ধে ৮ জন সংসদ সদস্য ছাঁটাই প্রস্তাব দিয়েছেন। আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবে জাতীয় পার্টির ও স্বতন্ত্র ৮ জন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেন।

সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিম বলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট হয়েছে। আমরা কীসের মাঝে আছি? এই টাকা জনগণের টাকা। এর বিচার হয়নি’। ‘রুস্তম আলী ফরাজী বলেন, ৫৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ! সোনালী নাম শুনলে আঁতকে উঠি।’

তাদের সমালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আস্থা-বিশ্বাস অর্জন খুব জরুরি। কোন ব্যাংক থেকে যে ঋণ নেয়, আর যে ঋণ দেয়- তারা সমান দায়ী। যখন আস্থার ঘাটতি দেখা যায়, তখনই সমস্যা হয়। সোনালী ব্যাংক ও বেসিক ব্যাংকে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের আগে কেউ স্পর্শ পর্যন্ত করতে পারেনি। কিন্তু আমরা ছাড় দেইনি। মামলা করেছি, জড়িতদের জেলে নিয়েছি, বিচারের মুখোমুখি করেছি। এরা কেউ ছাড় পাবে না।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে বেসিক ব্যাংকের ঘটনায় বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। ওই পর্ষদ বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। পরিচালনা পর্ষদের অনুসন্ধান রিপোর্ট পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্টলোকেরা যাতে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে ২০১২ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের হোটেল রূপসী বাংলা শাখা থেকে নিয়ম লঙ্ঘন করে সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার অভিযোগ উঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন। ওই ঋণের আড়াই হাজার কোটি টাকা নিয়েছিল হল-মার্ক গ্রুপ, যার এমডি তানভির মাহমুদের সঙ্গে আসামি করা হয়েছে সোনালী ব্যাংকের ১৩ কর্মকর্তাকে। এর মধ্যে সোনালী ব্যাংকের রূপসী বাংলা শাখার তত্কালীন ব্যবস্থাপক এ কে এম আজিজুর রহমান গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। আসামিদের মধ্যে বেশ কয়েকজন এখনও পলাতক। হলমার্ক ছাড়াও সোনালী ব্যাংকের ওই শাখায় আরো ৫/৬ টি প্রতিষ্ঠানের নন-ফান্ডেড ঋণের অভিযোগ ছিল। দুদক এখনও সে অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

গতকাল ছাঁটাই প্রস্তাবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়। বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের ছাঁটাই প্রস্তাব নিষ্পত্তি শেষে অর্থমন্ত্রী দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে নির্দিষ্টকরণ বিল ২০১৫ পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন। বিলের দফাগুলো সংসদে গৃহীত হওয়ার পর দেড়টায় নির্দিষ্টকরণ বিল কণ্ঠভোটে সংসদে পাস হয়।