Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:৫২ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

ফাইল ফটো

হরতাল-অবরোধের নামে মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমরা রুখবই

Like & Share করে অন্যকে জানার সুযোগ দিতে পারেন। দ্রুত সংবাদ পেতে sheershamedia.com এর Page এ Like দিয়ে অ্যাক্টিভ থাকতে পারেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতিকে অপরাজেয় অভিহিত করে দেশব্যাপী চলমান সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী চক্রকে পরাজিত করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাঙালি অপরাজেয়। অন্যায়ের কাছে কখনো পরাজয় মানেনি। এবারও তারা পরাভূত হবে না। জঙ্গিদের কাছে আমরা কখনো নতি স্বীকার করবো না।
তিনি বলেন, হরতাল ও অবরোধের নামে এ হিংস্র হায়েনাদের দেশব্যাপী মানুষ হত্যা ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আমরা রুখবই। সন্ত্রাসের হোতাদের পরাজিত করেই দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবে ইনশা আল্লাহ।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে হোটেল র‌্যাডিসনে আন্তর্জাতিক রোটারী শান্তি সম্মেলন-২০১৫’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণকালে একথা বলেন।
রোটারী ক্লাব ঢাকা মহানগর আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন রোটারী ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত কে আর রবিনদ্রন।
রোটারী ইন্টারন্যাশনাল জেলা ৩২৮১’র জেলা গভর্নর সাফিনা রহমান ও একই সংগঠনের ৩২৮২’র জেলা গভর্নর প্রকৌশলী এম এ লতিফ অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন এবং এতে সম্মেলনের সভাপতি আফতাবুল ইসলাম স্বাগত বক্তৃতা দেন ও ঢাকা মহানগর রোটারী ক্লাবের সভাপতি নিয়াজ রহিম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বিদায়ী গভর্নর এম আউয়াল ইনভোকেশন পাঠ করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, বাঙালি জাতি কখনই উৎপীড়কদের কাছে মাথা নত করেনি। ১৯৫২ সালে রক্তের বিনিময়ে বাঙালি মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করেছে, ১৯৬৯ সালে নিপীড়ক স্বৈরাচারী আয়ুব সরকারের পতন ঘটিয়েছে, ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে আমরা মাতৃভূমির স্বাধীনতা ছিনিয়ে এনেছি।’
তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসযজ্ঞের ক্ষতি কাটিয়ে দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচেছ, তখন তারা আবারো একাত্তুরের কায়দায় মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যুদ্ধাপরাধী ও সম্পদ লুণ্ঠনকারীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ছুটছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, রাজনীতি কার জন্য ? রাজনীতি তো সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন। কিন্তু নিরীহ মানুষকে এভাবে হত্যা করে কি অর্জন করতে চায় বিএনপি-জামায়াত।
তিনি বলেন, তারা ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এটা তাদের ভুল। তাদের এ ভুলের খেসারত জনগণকে দিতে হবে কেন ?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘাতকদের পেট্রোল বোমা হামলায় প্রায় ৫৫ জন পুড়ে মারা গেছেন। কয়েক শ’ মানুষ হাসপাতালের বেডে অমানুষিক নরক যন্ত্রণায় দিন কাটাচ্ছেন। পোড়া মানুষের গন্ধে বার্ণ ইউনিটের বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এসব অমানবিক কাজ কারা করছে তা দেশবাসী জানেন। রাজনীতির নামে সাধারণ মানুষকে এভাবে পুড়ে মারার মতো নৃশংসতা এদেশের মানুষ আগে আর কখনো দেখেনি।

‘৫ জানুয়ারির নির্বাচন বানচাল ও যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে বিএনপি-জামায়াত জোট সারাদেশে একইভাবে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে সময় তারা শত শত গাড়িতে আগুন দিয়েছে এবং ভাংচুর করেছে হাজার হাজার গাড়ি। মহাসড়কসহ রাস্তার দু’পাশের অসংখ্য গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। হত্যা করা হয়েছে পুলিশ-বিজিবি-আনসার-সেনাবাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ সদস্য।
তিনি বলেন, তাদের সহিংস হামলা, পেট্রোলবোমা-অগ্নিসংযোগ ও বোমা হামলায় প্রায় ২শ’ নিরীহ মানুষ নিহত হয়েছে। সরকারি অফিস, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, ফুটপাতের দোকান এমনকি নিরীহ পশুও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। রেহাই পায়নি মসজিদ, মন্দির ও পেগোডা।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সামনে শত শত পবিত্র কোরআন শরিফ পোড়ানো হয়েছে। ট্রেনের লাইন উপড়ে ও ফিসপ্লেট খুলে শত শত বগি ও রেল ইঞ্জিন ধ্বংস করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনের দিন তারা ৫শ’ ৮২টি স্কুলে আগুন দিয়েছে। প্রিসাইডিং অফিসারসহ ২৬ জনকে হত্যা করেছে। তারা নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু ও আওয়ামী লীগ সমর্থকদের বাড়ি-ঘরে হামলা চালিয়েছে এবং আগুন দিয়েছে।
বাংলাদেশের মানুষ উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পছন্দ করে না একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সব সময় সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স দেখিয়ে যাচ্ছি। কোন ব্যক্তি বা সংগঠন যাতে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে অন্য কোন রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী তৎপরতা পরিচালনা করতে না পারে সে ব্যাপারেও আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বোচ্চসংখ্যক সেনা দল ও পুলিশ পাঠানোর মধ্য দিয়ে বিশ্ব শান্তির পক্ষে বাংলাদের অঙ্গীকার ও অবদান প্রতিফলিত হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের অবস্থানের সাথে সংগতি রেখে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সর্বাধিকসংখ্যক নারী পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী সকল প্রতিকূলতার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠায় রোটারীয়ানদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এ আশাবাদ প্রকাশ করেন যে, তারা ধনী-দরিদ্র, যোগ্য-অযোগ্য, ক্ষমতাবান ও ক্ষমতাহীনের মাঝে বিভেদ সৃষ্টিকারী দেওয়াল অপসারণ করে সারাবিশ্বের শান্তির জন্য কাজ করে যাবেন।
তিনি বলেন, সবাইকে মনে রাখতে হবে সমাজের একটা অংশকে পশ্চাদপদ রেখে উন্নয়ন বা শান্তি স্থাপন কোনটাই সম্ভব নয়। বিত্তবান ও শিক্ষিত মানুষেরা এগিয়ে আসলে সমাজ থেকে নিরক্ষরতা, অশিক্ষা, কুসংস্কার এবং কুপমুন্ডুকতা দূর করে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
‘আত্মত্যাগের উর্ধে সেবা’ এই ব্রত দ্বারা উজ্জীবিত হয়ে রোটারী সামাজিক উন্নয়ন ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় এক শতাব্দির অধিক সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছে একথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সংগঠনটি বাংলাদেশেও বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক খাতে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে। রোটারীগণ নিরাপদ পানি সরবরাহ ও পয়ঃপ্রণালী উন্নয়ন, গুরুতর রোগব্যাধী দূরীকরণ, প্রসুতি ও নবজাতকের সেবা, শিক্ষা ও স্বাক্ষরতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী কৃষি, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি এবং দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন খাতে তাঁর সরকারের ব্যাপক সাফল্যের উল্লেখ করে বলেন, গত ৬ বছরে দারিদ্র্যের হার ৪১.৫ শতাংশ থেকে ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী ৪ বছরে দারিদ্র্যের হার আরো ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে।