ব্রেকিং নিউজ

রাত ১২:২৯ ঢাকা, সোমবার  ২৪শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

“হবিগঞ্জের ৪ শিশু মাদ্রাসা ছাত্রের নিখোঁজের কারণ ছিল মাদ্রাসার কড়া শাসন”

হবিগঞ্জের শায়েস্তাঞ্জ থেকে নিখোঁজ ৪ শিশু মাদ্রাসা ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। অতিরিক্ত পড়ার চাপ ও কড়া শাসনের কারণেই তারা পালায়। মাদ্রাসার পড়া থেকে মুক্তি পেতে তারা সিলেটে মাজার জিয়ারত করতে গিয়েছিল। উদ্ধার হওয়ার পর রোববার দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা এমন তথ্য জানিয়েছে। তবে কড়া শাসন বা বেত্রাঘাতের জন্য মাদ্রাসার শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ নিতে চান না বলে জানান শিশুদের অভিভাবকরা। আবার এমন শাসনের জন্য শিক্ষক নিজেও অনুতপ্ত।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জয়দেব কুমার ভদ্র জানান, শায়েস্তাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের সিসি টিভি ফুটেজ দেখে তারা নিশ্চিত হন চার জন শিশু সিলেটগামী পাহাড়িকা ট্রেনে উঠেছে। এরপর শনিবার তারা সিলেটে মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ পাঠিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। এর মাঝেই শিশুদের ৩ জন আবার ঢাকাগামী পারাবত ট্রেনে করে শায়েস্তাগঞ্জে এসে নেমে বানিয়াচং উপজেলার বালিখাল গ্রামে নয়নের ফুফুর বাড়ি যায়। সেখান থেকে পুলিশ রাতে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। অপরজনকে রাত ৩টায় সিলেট হযরত শাহজালাল (রহঃ) এর মাজার থেকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, মাদ্রাসায় ছোটখাট শারীরিক নির্যাতন হয়েছিল। এছাড়া কড়া শাসনের কারণে মানসিক চাপে তারা মাজারে গিয়েছিল। যেন তারা এ থেকে পরিত্রাণ পায়। শিশুদেরকে উদ্ধারের পর থেকে তাদের অভিভাবক, মাদ্রাসার শিক্ষক, ম্যানেজিং কমিটিসহ বৈঠক করা হয়েছে। যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুদের নির্যাতন আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, তাই এ বিষয়ে অভিভাবকরা কোন ব্যবস্থা নিতে চান কি-না। এ সময় অভিভাবকরা জানান, তারা শিক্ষককে একবার সময় দিতে চান। শিক্ষককে কারাগারে দিতে তারা রাজি নন। আবার শিক্ষক নিজেও এ নির্যাতনের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন।

শিশুরা জানায়, হুজুর তাদের শাসন করেছিলেন। এ জন্য তারা মাজারে গিয়েছিল দোয়া করতে। যেন তারা শাসন, নির্যাতন থেকে মুক্তি পায়। শিশুদের অভিভাবকরা জানান, শাসন না হলে মাদ্রাসায় শিশুরা পড়তে চায় না। তারা শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নিতে চান না।

পুলিশ ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার সুতাং পূর্ব নোয়াগাঁও সুন্নিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র বাহুবল উপজেলার পশ্চিম শাহাপুর প্রকাশিত চারগাঁও গ্রামের আহমদ রশিদ মনুর ছেলে তানভীর রশিদ রাফি (১৩), তার ভাগ্নে একই উপজেলার আব্দানারায়ন গ্রামের আব্দুল আহাদের ছেলে ইমতিয়াজ আহমেদ (১২), নবীগঞ্জ উপজেলার সুজাপুর গ্রামের আব্দুল্লাহর ছেলে আজহারুল ইসলাম নয়ন (১২) ও সদর উপজেলার দরিয়াপুর গ্রামের আব্দুল আওয়ালের ছেলে সোহানুর রহমান (১১) শুক্রবার মাদ্রাসা থেকে বের হয়।
শায়েস্তাগঞ্জে পাঞ্জাবী বানানোর কথা বলে তারা যায়। শনিবার পর্যন্ত তারা ফিরে না আসায় সর্বত্র হুলস্থূল পড়ে যায়। গণমাধ্যমে বিষয়টি আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ খবরে পুলিশ সিলেট বিভাগের সর্বত্র তাদের সন্ধানে অভিযান শুরু করে।