Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:১৯ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ১৫ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

হত্যাকৃতদের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারলে খালেদার সাথে আলোচনায় বসবেন প্রধানমন্ত্রী

উনি (খালেদা) যদি নিহত মানুষদের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেন তাহলে উনার সাথে আলোচনায় বসবো। খালেদা জিয়ার সঙ্গে বসলে পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যাবে, তবে বিএনপি যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গ ছাড়লে আলোচনার বিষয়টি ভেবে দেখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা আমার মা বোনকে ধর্ষণ করেছে তাদের সঙ্গ ছাড়লে বিএনপি নেত্রীর সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়টি ভেবে দেখা যাবে।

লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবনে শুরু হওয়া সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, উনার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে আলোচনায় বসলে পোড়া মানুষের গন্ধ পাওয়া যাবে। কোনো খুনির সঙ্গে আলোচনায় বসতে আপনারা (সাংবাদিক) আমাকে অনুরোধ করবেন না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কার সঙ্গে আলোচনার কথা বলেন আপনারা? নির্বাচনে আসার জন্য আমি উনাকে ফোন করেছিলাম। কিন্তু উনি নির্বাচনে আসেননি। উনি নির্বাচন বানচাল করার জন্য জ্বালাও পোড়ার আন্দোলন শুরু করেন। মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করলেন। উনি যদি ওই নিহত মানুষদের জীবন ফিরিয়ে দিতে পারেন তাহলে উনার সাথে আলোচনায় বসবো।

শেখ হাসিনা বলেন, খালেদা জিয়ার ছেলে মারা যাবার পর আমি তার বাসায় গেলাম। কিন্তু উনি আমাকে তার বাসায় ঢুকতে দিলেন না। দরজা বন্ধ করে দিলেন। এসময় উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ যদি আপনার মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দেন তাহলে আপনি কী আর তার বাসায় যাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ধর্ম নিয়ে বিকৃত লেখা বন্ধ করতে হবে।কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন লেখা প্রকাশ করা উচিত নয়। ধর্ম নিয়ে বিকৃত লেখা বন্ধ করতে হবে।

সাম্প্রতিক হত্যাকান্ড ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতি বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সিরিয়া ও লিবিয়াতে যা ঘটছে বাংলাদেশেও তা ঘটানোর চেষ্টা চলছে। বাংলাদেশের মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। এই ভূ-খণ্ডকে ব্যবহার করে কোনো ঘটনা কেউ ঘটাক, সেটা আমরা চাই না। বাংলাদেশকে সিরয়ার মতো আইএস আছে এমন স্বীকার করতে প্রচণ্ড চাপ রয়েছে। আমরা আইএস স্বীকার করছি না কেন? আমরা তো দেখছি কারা করছে? যারা ঘটাচ্ছে তারা ধরা পড়ছে। তাদের পরিচয়ে দেখা যাচ্ছে, ছাত্র জীবনে হয় জামায়াত না হয় বিএনপি করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন এগিয়ে যাচ্ছি তখন বাংলাদেশ ‌’অনিরাপদ, অনিরাপদ’ বলে একটা আওয়াজ তোলার চেষ্টা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ-আইএস নামে একটা আর্টিফিশিয়াল গোলমাল তৈরির চেষ্টা করছে। ইমামবাড়ায় হামলা করে শিয়া-সুন্নী গোলমাল দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ তো এমন না।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জনগণকে আমি আহ্বান করব। আপনারা সচেতন থাকুন, এক সময় জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল, জনগণকে সাথে নিয়ে আমরা তার সমাধান করেছি। এবারও সরকার জনগণকে নিয়েই তা মোকাবেলা করবে।