ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:০৩ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ফাইল ফটো

সড়ক পরিবহন আইনটি পাস হবে কি না- সংশয়ে ‘রিজভী

তড়িঘড়ি করে মন্ত্রীপরিষদে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ খসড়া অনুমোদন দেয়া হয়েছে অভিযোগ করে এই আইন সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সংশয়/সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ নয়াপল্টন দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ সংশয়/সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সড়ক পরিবহন আইন র্দুবৃত্ত ও গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবে। এটি একটি শুভঙ্করের ফাঁকি। যদিও এ আইন আদৌ সংসদে পাস হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নাগরিকরা। এ আইন নিরাপদ সড়কের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

এ আইন গণপরিবহনে নিরাপত্তা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ ফিরিয়ে আসবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর অবিরাম হামলা অব্যাহত রেখেছে পুলিশ-ছাত্রলীগ-যুবলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে শিক্ষার্থীদের ওপর, সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের পাশাপাশি ছাত্রলীগ-যুবলীগ সশস্ত্র অবস্থায় হামলা করেছে তা দেখে দেশের মানুষ হতভম্ব। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর ও নিষ্ঠুর হামলায় ঘটনায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানসহ সারা বিশ্বে নিন্দার ঝড় বইছে। পুলিশ হলো আইনের রক্ষক, তাদের পাশে এসব অস্ত্রধারীরা। পুলিশ অস্ত্রধারীদের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। এমন দৃশ্য কি কোন স্বাধীন দেশে চিন্তা করা যায় ? এটা ভোটারবিহীন ও জবাবদিহী হানাদার সরকারের চরম নিষ্ঠুরতার বহিঃপ্রকাশ।

রিজভী বলেন, গত পরশু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তৃতীয় পক্ষ ঢুকে পড়েছে । তিনি বলেন, আমি এখন শঙ্কিত এসব স্কুল ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে। প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য ছিল ছাত্র-ছাত্রীদের উপর প্রচ্ছন্ন হুমকি। গতকাল দেশবাসী শেখ হাসিনার সোনার ছেলেদের সশস্ত্র আক্রমণ প্রমাণ করে দিয়েছে তাঁর নির্দেশেই শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে হামলা করা হয়েছে। রামপুরায় ইষ্ট ওয়েষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, বসুন্ধরায় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছে। পুলিশের সহযোগিতায় সরকারি দলের হামলাকারীদের হিংস্রতা তীব্র রুপ ধারণ করেছে। গত পরশুওতো ধানমন্ডিতে পুলিশ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বর হামলা ও নির্যাতন চালিয়েছে।

রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন আর কোন বাবা মায়ের কোল খালি হোক আমি চাইনা। তাঁর এ বক্তব্যও মানুষের মনে আতঙ্ক ধরিয়েছে। প্রতিনিয়ত মায়ের কোল খালি হচ্ছে গুম, খুন ও বিচারবর্হিভূত হত্যার মাধ্যমে। অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার জন্যই এ সর্বনাশা সহিংস নীতি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়ন করছে সরকার।

রিজভী আহমেদ বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রতারণার কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে। এখন কি হচ্ছে, কোটা আন্দোলনকারীদের লাশ মিলছে নদীতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গুম করা হচ্ছে। আবার গ্রেপ্তার করে রিমান্ডে নিয়ে চালানো হচ্ছে অকথ্য নির্যাতন। ছাত্রলীগকে দিয়ে সশস্ত্র আক্রমণ করিয়ে রক্তাক্ত করা হচ্ছে, পঙ্গু করা হচ্ছে বিশ্বদ্যিালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের।

আমি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পক্ষ থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই হামলাকারী ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের শাস্তি পেতেই হবে। বাংলাদেশের কিশোর তরুণ আত্মবিশ্বাসের সাথে অন্যায়ের মোকবিলা করছে। সরকারকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই ২শ বছরের ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাসে ছাত্র আন্দোলন কখনই ব্যর্থ হয়নি। আন্দোলনরত এ স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের আন্দোলনও ব্যর্থ হবে না।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুনির হোসেন প্রমুখ।