Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১১:২৭ ঢাকা, মঙ্গলবার  ১৩ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ফাইল ফটো

‘স্বপদে বহাল থাকবে লাঞ্ছিত-বহিষ্কৃত শিক্ষক শ্যামল কান্তি’

 নারায়ণগঞ্জের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে বেআইনী ঘোষণা করে তাকে স্বপদে বহাল রাখার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

কাল্পনিক অভিযোগে শিক্ষক শ্যামলকে বহিষ্কার করায় বিদ্যালয়টির পরিচালনা কমিটিকে বিলুপ্ত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের সম্মেলন এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দরের পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ কাল্পণিক। তার বহিষ্কার বেআইনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তের বিরুদ্ধে ‘ধর্ম নিয়ে কটূক্তির’ অভিযোগের বিষয়ে সত্যতা পায়নি সরকারি তদন্ত কমিটি। বরং তাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।

ওই শিক্ষক তার স্বপদে বহাল থাকবেন জানিয়ে তিনি আরও জানান, নারায়ণগঞ্জের বন্দরে পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিচালনা কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে স্কুল পর্ষদ পরিচালনার জন্য একটি কমিটি করে দেয়া হয়েছে। তারা আপাতত বিদ্যালয় পরিচালনা করবেন।

এসময় সভ্য সমাজে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনা ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে মারধর ও কান ধরে ওঠ-বস করানোর ঘটনা তদন্ত করে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির ঢাকা অঞ্চলের পরিচালক মো. ইফসুফ আলীকে প্রধান করে এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটি বুধবার বিকালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দেয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ মে বিকালে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ রটিয়ে নারায়ণগঞ্জের কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণদি এলাকায় পিয়ার সাত্তার লতিফ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে সবার সামনে কান ধরে উঠ-বস করিয়ে ক্ষমা চাওয়ান স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বিকেএমইএ নেতা সেলিম ওসমান।

তবে সেলিম ওসমান বলেন, শ্যামল কান্তি ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় এলাকাবাসীর রোষ থেকে তাকে বাঁচাতে গিয়েছিলেন তিনি।

দশম শ্রেণির ছাত্র রিফাতের কথা বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে লাঞ্ছিত করা হয়েছিল শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে। সেই রিফাতই পরে ধর্ম নিয়ে ওই শিক্ষকের কটূক্তি করার কথা অস্বীকার করেছেন।

FOLLOW US: