স্পিকারের মাথায় কাঁঠাল রেখে সাব্বিরের করা অভিযোগ থেকে”এরশাদকে রেহাই দিচ্ছে ইসি”

শীর্ষ মিডিয়া ২০ অক্টোবর ঃ এরশাদের বিরুদ্বে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্বির গত ২৪ সেপ্টেম্বর  হলফনামায় তথ্য গোপন ও মিথ্যা তথ্য দাখিল করার অভিযোগ আনেন ইসিতে কিন্তু গোপন সূত্রে জানা যায় পর্যালোচনার পর কমিশন সে অভিযোগ নাকচ করছে। তাদের যুক্তি, কোনো প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো অভিযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো এখতিয়ার ইসির নেই।  এ ধরনের অভিযোগ কেবল সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার বরাবর করতে হয়, এ বিষয়ে স্পিকারই এখতিয়ার রাখেন।
 
মিঃ সাব্বির তার অভিযোগে বলেছিলেন, গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে সাবেক রাষ্ট্রপতি  হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুর-৩ আসনে নির্বাচনে অংশ নিয়ে হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন। যা সুস্পষ্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, হলফনামায় শিক্ষাগত যোগ্যতা বিএ পাস উল্লেখ করে ১০ম সংসদ নির্বাচনের সময় ১৯৯০ সালে সার্টিফিকেট হারিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। এতে কেবল ক্যান্টনমেন্ট থানায় করা একটি সাধারণ ডায়রির (জিডি) কপি জুড়ে দিয়েছেন। কিন্তু এতো বছরেও তিনি জিডির কপি দেখিয়ে সনদপত্রের দ্বিনকল কপি তোলেননি।
এদিকে দুদকের মানিলন্ডারিং মামলায় ২০১০ সালে দেওয়া তথ্যে তিনি নিজেকে কারমাইকেল কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে উল্লেখ করেন। অথচ কারমাইকেল কলেজ থেকে তিনি কোনো পরীক্ষায় অংশ নেননি।
এছাড়া হলফনামায় মামলার যাবতীয় তথ্য উল্লেখ করার কথা থাকলেও তা গোপন করেছেন তিনি। অর্থের ক্ষেত্রে তিনি ইসিকে সঠিক তথ্য প্রদান করেননি। ইউনিয়ন ব্যাংক, আবুধাবিতে তার অর্থ জমা থাকলেও তিনি তা হলফনামায় উল্লেখ করেননি। বরং নির্বাচন কমিশন ও জাতির কাছে তা গোপন করেছেন।
তাই হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে নির্বাচিত ঘোষণা করে প্রকাশিত গেজেট বাতিল করা আবশ্যক। একই সঙ্গে অভিযোগপত্রে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে তাকে নির্বাচিত ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশেরও দাবি জানান সাব্বির আহম্মেদ।

এতদ সংক্রান্ত অভিযোগটি আসার পর তা খতিয়ে দেখতে নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখা ও আইন শাখাকে নির্দেশ দেয় ইসি। আইন শাখা নির্বাচনী আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে এরশাদের বিষয়টি কমিশন বৈঠকে পাঠায়।  কিন্তু কমিশন মনে করছেন সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে যে কোনো অভিযোগ কেবল সংসদ সচিবালয়ে স্পিকার বরাবর করতে হয়। আর স্পিকার যদি কোনো তদন্ত এবং পর্যালোচনা সাপেক্ষে কোনো প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ তখনই কেবল ইসির করার কিছু থাকে। নির্বাচিত হওয়ার পর কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যথাযথ কর্তৃপক্ষ ইসি নয়।  অভিযোগকারী যদি এ বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেন, যে এরশাদ বিদেশি ব্যাংক হিসাবে অর্থের কথা গোপন করেছেন তবে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। সে ব্যবস্থাও ইসি নিতে পারবে না। এজন্যও স্পিকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।