ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:২৫ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

স্তনে লাম্প-এর সমস্যা!

ব্রেস্টে লাম্প মানেই অনেকে মনে করেন নির্ঘাত ব্রেস্ট ক্যানসার হয়েছে। ভাবাটা অস্বাভাবিকও নয়। যে হারে ব্রেস্ট ক্যানসারের সমস্যা বাড়ছে নারীদের ভয় পাওয়ার কারণটা মোটেও হেলাফেলার কিছু নয়। তবে ব্রেস্টে লাম্প দেখা দিলেই যে মনে করবেন ক্যানসার হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভুল ধারনা। ব্রেস্টে লাম্প অনেকেই হঠাৎ আবিস্কার করেন। কিন্তু প্রশ্নটা হল লাম্প হয় কেন? এক এক বয়সে এক এক কারণে লাম্প হতে পারে। চলুন তাহলে ব্রেস্টে লাম্প হওয়ার কারণগুলো জেনে নিই।

১। বয়ঃসন্ধিতে স্তনে লাম্প ফাইব্রোঅ্যাডেনোমা হতে পারে। এটা নিয়ে চিন্তার বিশেষ কোন কারণ নেই। এই লাম্প নিজে নিজেই চলে যায়।

২। অল্পবয়স্ক মহিলারা যারা (ব্রেস্ট ফিড করাচ্ছেন) ব্রেস্ট অ্যাবসেস সাধারণত যন্ত্রণাদায়ক ও লাল হয়। এই সমস্যায় সার্জন দেখিয়ে কারণ জানা ও চিকিৎসা জরুরি। প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ক্ষেত্রে লাম্প অনেক কিছুই হতে পারে। সিস্ট থেকে শুরু করে বিনাইন টিউমার কিংবা ক্যানসার। মেনোপজের পড়ে স্তনে লাম্প দেখা দিলে টেস্ট করা জরুরি। কারণ এর থেকে ক্যানসার হতে পারে। তবে লাম্প দেখলেই সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যাওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। ডায়াগনসিসের ফল যাই বের হোক না কেন আপনার সচেতন হওয়া উচিত।

৩। প্রথমেই বলবো, হাইপার হবেন না। খেয়াল করে দেখুন স্তনের আর কোথাও বা বগলে আর কোনও লাম্প হয়েছে কি না। আর্মপিট লাম্প সাধারণ লিম্ফ নোড হয়। ভালো করে দেখুন স্তনের চামড়া আর নিপল আন্ডারলায়িং লাম্পের সাথে জুড়ে আছে কি না। থাকলে চিন্তার বিষয়। লাম্প নরম হলে চিন্তার কিছু নেই। খুব শক্ত হলে ডাক্তার দেখান।

৪। পিরিয়ডের সময় অনেক নারীরই ব্রেস্টে ব্যথা হয়। এটা কিন্তু ফাইব্রোসিস্টিক ডিজিজ। সামান্য ট্রিটমেন্টেই ঠিক হয়ে যেতে পারে। লাম্প নিয়ে যদি কোন সন্দেহ হয়, তা হলে সার্জনের পরামর্শ নিন।

এবার আসা যাক ব্রেস্ট ক্যানসারের কথায়। সাধারণত কিছু রিস্ক ফ্যাক্টর চিহ্নিত করা যায়।

একটা ব্রেস্টে ক্যানসার হলে অন্য ব্রেস্টেও ক্যানসার হতে পারে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়।

অতিরিক্তি ধূমপান করলে বা এলকোহল পান করলে ব্রেস্ট ক্যানসার হতে পারে।

ওবিসিটিও কিন্তু ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার অন্যতম কারণ।

তবে বয়ঃসন্ধি থেকে যদি কেউ মোটা হতে শুরু করেন এবং ৪০-৫০ বছরেও মোটা থাকেন, তাদের পোস্ট মেনোপজাল ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়ার সম্ভবনা অনেক বেশি। তবে ব্রেস্ট ক্যানসার হওয়া পর্যন্ত আর অপেক্ষা করার তো কোন মানে হয়না। তাই আজ থেকেই নিজেদের সচেতন করুন। কিছু ভালো অভ্যাস গড়ে তুলুন। হেলদি খাবার খান। ধূমপান ও অন্যান্য নেশা জাতীয় দ্রব্য খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন। ওজন কমিয়ে ফেলুন। তবে কমিয়ে ফেলা যথেষ্ট নয় সেটাকে সঠিক ভাবে মেইনটেইন করতে হবে। মাঝে মাঝেই নিজেই নিজের স্তন পরিক্ষা করুন।

তথ্যঃ হেলথ ম্যাগাজিন, অ্ডযাভান্সড লেপ্রস্কোপিক ও বেরিয়াট্রিক সার্জন, ডাঃ বি রামানা