সৌদি সৈন্যরা ইয়েমেন সীমান্তে
সৌদি সৈন্যরা ইয়েমেন সীমান্তে নজরান সামরিক ঘাটিতে পাহারায় দাঁড়িয়ে আছে (২১ মে,২০১৯)। ছবিঃ আল জাজিরা।

সৌদি বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা

সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও সামরিক ঘাঁটিতে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে ইরান-সংশ্লিষ্ট হুতি বিদ্রোহীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে মার্কিন দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট।

তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।

মঙ্গলবার নাজরান প্রদেশে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌদি গণমাধ্যম আরব নিউজ দাবি করছে, দেশটির নাজরান প্রদেশের দক্ষিণ সীমান্তের বেসামরিক এলাকায় বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার চেষ্টা করেছে হুতি বিদ্রোহীরা।

ওয়াশিংটন পোস্ট ইয়েমেনের আল মাসিয়ার টেলিভিশনের বরাত দিয়ে জানায়, নাজরানের বিমান বন্দরে কাসেফ-কে ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে। রাজধানী রিয়াদ থেকে ৮৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে নাজরানের অবস্থান।

কর্নেল তুর্কি আল-মালিকি সৌদির প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) মাধ্যমে এক বিবৃতিতে জানায়, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তটি বড় ছিল।

আল-মালিকি বলেন, হুথি সমর্থিত ইরানের সন্ত্রাসী সেনাবাহিনী সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। বেসামরিক স্থাপনা টার্গেট করে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা এমনকি বেসামরিক নাগরিক ও সব জাতীয়তাবাদের জন্য হুমকি তৈরি করা হয়েছে।

এই বিবৃতিতে হতাহতের খবর বা অন্য কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।

এদিকে সোমবার আল মালিকি বলেন, পবিত্র নগরী মক্কা এবং জেদ্দায় দু’টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। তবে টার্গেটে আঘাত হানার আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী গুলি চালিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র দু’টি ভূপাতিত করেছে।

আল আরাবিয়াহ নিউজ জানায়, ইরানি মদদপুষ্ট ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে ২টি ব্যালাস্টিক মিসাইল ছুড়লে একটি জেদ্দার রেড সি পোর্টের কাছে, মক্কাভিমুখী অপর মিসাইলটি মক্কার ৫০ কিলোমিটার দূরে তায়েফে ভূপাতিত করে সৌদি এয়ার ডিফেন্স ফোর্সেস।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সংবাদ মাধ্যমটি জানিয়েছে, সৌদির গুরুত্বপূর্ণ দুটি শহর মক্কা ও জেদ্দা নগরীকে লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে। হুতিদের ছোড়া মিসাইলগুলোর ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে সৌদি আরব এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহ যাবত চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে হুতিদের বিরুদ্ধে কঠিন পদক্ষেপ নিতে পারে দেশটি।

এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইতেও মক্কা নগরীকে টার্গেট করে এমন মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল। তবে সে হামলাও ব্যর্থ করেছিল সৌদির আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত সপ্তাহে সৌদি আরবের দুটি পাম্পিং স্টেশনে সশস্ত্র ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছিল হুতি বিদ্রোহীরা।

এ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি আরবের সবচেয়ে বড় তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরমাকো তেল সরবরাহ বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে।

এ ছাড়া পাম্পিং স্টেশনে হামলার মাধ্যমে সৌদি আরবে হুতি বিদ্রোহীরা তাদের সামরিক অভিযান শুরু করেছে বলে দাবি করেছে। আগামীতে তিন শতাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে বলেও হুমকি দিয়েছে তারা।

ইয়েমেনের সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মনসুর আল-হাদি সমর্থিত সরকারকে ক্ষমতায় বসানোর লক্ষ্যে ২০১৫ সালের মাঝের দিকে দেশটির বিদ্রোহীগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে হামলা শুরু সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট।

সৌদি জোটের এই হামলা শুরুর পর থেকেই পাল্টা প্রতিশোধ হিসেবে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা রিয়াদ-সহ সীমান্তবর্ন্তী শহরগুলোতে প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে।