Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ১০:৫৩ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ফাইল ফটো

সৌদিসহ মধ্য প্রাচ্যের সঙ্গে সম্পর্ক আগের চেয়ে গভীর : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে সৌদি আরবসহ মধ্য প্রাচ্যের দেশসমূহের সাথে বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক গভীর ও সুদৃঢ় হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আজ সংসদে তাঁর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য বজলুল হক হারুনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘মধ্য প্রাচ্যের সাথে আমাদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। এ অঞ্চল বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ শ্রমবাজার। সরকারের বিভিন্নমুখী উদ্যোগের ফলে এ সব দেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, কৃষি, শিল্পায়ন, পরিবেশ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষা ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তারা তাদের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করে। বাংলাদেশের সক্ষমতার বিষয়ে সম্প্রতি তাদের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্যণীয় যা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ৭ বছরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহের সাথে প্রায় ৪৩টি চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। রপ্তানি গত ৭ বছরে গড়ে প্রায় ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর প্রথমেই এপ্রিলে সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশাহ আব্দুল্লাহ’র আমন্ত্রণে সৌদি আরব আমি সফর করি। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও সফর করেছি। মহামান্য রাষ্ট্রপতিও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।

তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ৩ থেকে ৭ জুন সৌদি আরবের বাদশাহ’র আমন্ত্রণে সৌদি আরব সফর করি যা বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। গত ৭ বছরের অবিরাম প্রচেষ্টার ফলে গত বছরের আগস্টে সৌদি আরব বাংলাদেশী শ্রমিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুসলিম বিশ্বে উন্নয়ন সাধনে ওআইসি সর্বদাই মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে। ১৯৭৪ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ওআইসি সম্মেলনে যোগদানের মাধ্যমে এ সংস্থার সাথে বাংলাদেশের যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছে বর্তমানে তা এক বিশেষ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। ওআইসি মহাসচিব সম্প্রতি একাধিকবার বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন মডেলকে এ সংস্থার অন্যান্য পিছিয়ে পড়া সদস্য দেশসমূহের জন্য রোল মডেল হিসেবে প্রয়োগের উদ্যোগ নিয়েছেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১৬ সালে সৌদি আরব সফরকালে সৌদি বাদশাহ্ বাংলাদেশকে ওআইসি’র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, বর্তমানে রাখাইন মুসলিম সম্প্রদায়ের সংকট নিয়ে ওআইসি ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং বিষয়টি নিয়ে কুয়ালালামপুরে এ বছর ১৯ জানুয়ারি পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের একটি জরুরি অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত ওআইসি ‘কন্টাক্ট গ্রুপ অন মিয়ানমার মুসলিম মাইনরিটি’তে বাংলাদেশ সদস্য পদ লাভ করে। ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ‘ইসলামিক অর্গানাইজেশন ফর ফুড সিকিউরিটি (আইওএফএস)-এ নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয় এবং মুসলিম বিশ্বের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে পরিকল্পনা, কৌশল ও নীতি নির্ধারণে ওআইসি-এর সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংশ্লিষ্ট দেশে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশীদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যবসা, বিনিয়োগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, সামরিকসহ সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি পেয়েছে।