ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:০৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

‘সোনালী ব্যাংকের আড়াই লাখ ডলার চুরি’

বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়াত্ত সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংকের প্রায় ২ কোটি টাকা (আড়াই লাখ ডলার) চুরির তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

২০১৩ সালে সুইফট কোর্ড ব্যবহার করে এই টাকা লোপাটের ঘটনা ঘটে। সে সময়ে সুইফট কর্তৃপক্ষকে বাংলাদেশ বিষয়টি জানিয়েছিল। তবে তুরস্কে পাচার হওয়া ওই অর্থ আর ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।

সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক জালিয়াতি নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে সুইফট কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রায় ৮শ’ কোটি টাকা (৮ দশমিক ১০ মিলিয়ন ডলার) চুরি হয়।

এই ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের এই আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা পেয়েছে বলে বুধবার রয়টার্সকে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।

তবে এ বিষয়টি সে সময়ে আলোচনায় আসেনি। অনেকটা চাপা পড়ে যায়। সোনালী ব্যাংক জানিয়েছে, ২০১৩ সালে এই ঘটনার পর বিষয়টি সুইফটকে জানানো হয়। এরপর তুরস্কে পাচার হওয়া ওই অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়।

সোনালী ব্যাংকের সিনিয়র এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির সময় সুইফট কোড ব্যবহার করে যে পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল, সে সময়েও একই পন্থা নিয়েছিল সাইবার চক্রটি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের ওই অর্থ চুরিতে অপরাধীরা এখন পর্যন্ত শনাক্ত হয়নি। এখন সোনালী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ঘটনার সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নতুন করে যাচাই করে দেখছে।

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীও সোনালী ব্যাংকের ওই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরিতে জড়িত কি না তা তদন্ত করে দেখছে।

সোনালী ব্যাংকের আইটি দেখাশুনা করেন, এমন ব্যক্তি জানান, হ্যাকাররা সোনালী ব্যাংকের কম্পিউটারে একটি কি-লগার সফটওয়্যার ইনস্টল করে সিস্টেম পাসওয়ার্ড পেয়ে যায়। এরপর তারা অর্থ হস্তান্তরে সুইফটের কাছে ভুয়া অনুরোধ পাঠায়।

তাৎক্ষণিকভাবে সে সময়ে পুলিশ এই জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত প্রমাণ পেয়ে ব্যাংকের দুই কর্মকর্তাকে আটক করেছিল। কিন্তু কোনো ধরনের অভিযোগ গঠন ছাড়াই পরে তারা ছাড়া পেয়ে যান।

পুলিশের সিনিয়র এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এটা ইন্টারেস্টিং। এটা আমাদের দেখতে হবে।’

সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদ্বীপ কুমার দ্ত্ত রয়টার্সকে বলেন, ‘হামলাকারীরা ধরা-ছোয়ার বাইরেই রয়েছে এবং অর্থও উদ্ধার সম্ভব হয়নি।’

ঠিক সে সময়ে কী ঘটেছিল তা তারা বের করতেই পারেননি বলেও জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনা সুইফটের বিরুদ্ধে এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক চতুর্থ অভিযোগ। তবে দুটি ঘটনা একই ব্যক্তি করেছে কি না সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সারা বিশ্বের প্রায় ১১ হাজার ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিকভাবে অর্থ লেনদেনে সুইফট ব্যবহার করে। হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সুইফটের নিরাপত্তার গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সুইফটের নিরাপত্তা ব্যবস্থার খুঁত নিয়ে অভিযোগ তোলা হয়।

তবে আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেনের মেরুদণ্ডে পরিণত হওয়া এই সমবায় প্রতিষ্ঠানটি তা প্রত্যাখ্যান করে আসছে।

বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশন এবং সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা দে তেরান বাংলাদেশের সোনালী ব্যাংকের অর্থ চুরির ঘটনায় কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

উল্লেখ্য, সোনালী ব্যাংকের শিল্প ভবন কর্পোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটে। ওই শাখার সুইফট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. শাহ আলম ও জুনিয়র অফিসার (আইটি) মো. মনোয়ার হোসেন গোপন পাসওয়ার্ড ব্যাংকটির ইউকে শাখায় পাঠিয়েছেন, যার ভিত্তিতে ইউকে শাখা লন্ডনের ন্যাটওয়েস্ট ব্যাংক পিএলসিতে থাকা তুরস্কের নাগরিকের হিসাবে আড়াই লাখ ডলার পাঠিয়ে দেয়।

পরে তুরস্কের নাগরিক তুর্ক ইকওনোমি বানকাসি অর্থ তুলে নিয়ে নিজের ব্যাংক হিসাবটিই (নম্বর-১৪৯৩৬৯৩৭) বন্ধ করে দেন।

সে সময়ে পুলিশ মো. শাহ আলম ও মো. মনোয়ার হোসেনকে আটক করেছিল। আর ব্যাংকটির যুক্তরাজ্য শাখার চিফ অপারেটিং অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়।

http://www.reuters.com/article/us-cyber-heist-bangladesh-idUSKCN0YG2UT