Press "Enter" to skip to content

সে কেন কামড় দিল পুলিশকে!

Last updated on Saturday, "November 29th, 2014"

প্রথমেই পুলিশকে সাধুবাদ! ছেলে ছোকরা থেকে শুরু করে আবাল বৃদ্ধ বণিতাকে ধরে, বলে কয়ে, ভ্রাম্যমান আদালতে ধরিয়ে দিয়ে রাস্তায় সঠিকভাবে চলা শিখাচ্ছেন। সত্যিই পুলিশ যে জনগণের বন্ধু ও দুষ্টের দমন করে তা এতদিনে ছিটে ফোঁটা দেখা যাচ্ছে। তবে পুলিশকেও তা করতে হবে নমনীয়ভাবে। হাতে লাঠি না নিয়ে, সেবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে তা করতে হবে। এরই মধ্যে এক বেগানা পথচারী আরেক বেগানা পুলিশকে কামড়িয়ে দিয়েছে

পুলিশ যে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে মোড়ে পথচারীদের ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে এবং জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যত্রতত্র এলোপাথারী পথ চলতে সুললিত কণ্ঠে মাইকিং করছে তাতে বেয়ারা পথচারী এবার সজ্জন হতে বাধ্য। তবে সে যখন দেখে ওভারব্রীজের উপরে কে বা কাহারা মলমূত্র ত্যাগ করেছে তখন তার বমন ইচ্ছা হয়। দ্বিতীয়বার সে আর ওভারব্রীজে উঠতে চায় না। তো কে বা কাহারা রাতের আঁধারে বা সকলের অগোচরে কাপড় উদোম করে অসভ্যের মত কাজটি সেরে ফেলে তা কি দেখার দায়িত্ব সভ্য পুলিশ সদস্যর নাকি! ও কাজটি তো দেখার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের। তাছাড়া নাগরিক দায়িত্ব বলেও তো কথা রয়েছে। কিন্তু যে রাজধানীতে বছরের পর বছর মেয়রবিহীন ঢাকা সিটি কর্পোরেশন চলছে, কর্পোরেশনকে দুইভাগে ভাগ করা হয়েছে সেখানে চরম অব্যবস্থাপনার কথা বলে লাভ নেই, নোংরা রাস্তার দিকে তাকালেই তা বুঝা যায়।

আরো আছে। মানুষ যে ফুটপাত দিয়ে হাঁটবে তা তো দখল হয়ে গেছে হকার, ভাসমান মানুষের দখলে। তাদের কাছ থেকে যারা চাঁদা খান তাদের মধ্যে স্থানীয় মাস্তান, রাজনৈতিক পাতি নেতা থেকে শুরু করে হকার্স নেতার মাঝে পুলিশের সদস্যরাও তো রয়েছেন। তারা ফুটপাত দখল থেকে চাঁদার ভাগ নেবেন, আর সে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে না পেরে মানুষ মূল সড়কে নেমে আসলে তাদের ধরে ভ্রাম্যমান আদালতে সোপর্দ করা হবে এটাও এক ধরনের নির্মম রসিকতা। অবশ্যই মূল সড়ক দিয়ে হাঁটলে পুলিশী অভিযান চলবে এবং সে সঙ্গে যত শীঘ্র সম্ভব পুলিশ চাঁদা খাওয়া বন্ধ করে ফুটপাতগুলো দখলমুক্ত করে দেবে। তাহলে পথচারী পুলিশকে কামড়াতে যাবে না, শ্রদ্ধার সঙ্গে পুলিশ বন্ধু ভেবে নিজে ফুটপাত দিয়ে চলতে পারবে অন্যকেও চলার জন্যে বলবে।

কাওরানবাজারের আন্ডারপাস বা প্রজাপতি গুহার কথা বলছি। ভেতরে পুলিশ সদস্যদের যেয়ে দেখা উচিত সিঁড়িগুলোর কি অবস্থা। ভেঙ্গে কোথাও কোথাও গর্ত হয়ে গেছে। দেয়ালে বিবর্ণ প্রজাপতি দেখে এবং দামি চিত্রকর্ম চয়নের পর বুঝা গেল এটিএন নিউজ সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের স্পন্সরে এটি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু তা যে যতনে শুরু হয়েছিল তারচেয়েও অধিক অযতনের কবলে পড়ে এখন তা হরর টানেলে পরিণত হয়েছে এবং উদ্যেক্তারা এটি দেখলে হাড়ে হাড়ে টের পাবেন। হয়ত বলা হবে সিটি কর্পোরেশনের বাজেট বরাদ্দ না থাকলে কোনো কাজ হবে না। প্রজাপতি গুহায় ঢুকলে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দম বন্ধ পরিবেশে দ্বিতীয়বার কেউ ঢুকতে চান না। কারণ কয়লা খনির মত উপর থেকে অক্সিজেন পাইপে করে টেনে নেয়ার ব্যবস্থা সেখানে করা হয়নি। এধরনের আরো কিছু বিষয় দেখভাল করলে একটু স্পেস থাকলে সেখানে দাঁড়িয়ে এক কাপ চা খাওয়া যেত বটে।

বলতে লজ্জা হয় তবু বলি। অধিকাংশ ফুটপাত, রেললাইনের ধারে বস্তি, টানেল গভীর রাতে ভাসমান পতিতাদের দখলে চলে যায়। মাদক ব্যবসাও হয়। মিরপুর এক নম্বর বাসস্ট্যান্ড, ১০ নম্বর মোড়ের মত ঢাকার অনেক ওভারব্রীজে সন্ধ্যার পর থেকে ভাসমান পতিতাদের মেলা বসে। সেখান থেকেও চাঁদা বা বখরা চলে যায় পুলিশের পকেটে। পুলিশ তা দিয়ে বউয়ের শাড়ী গয়না কিনুক, যে জমি বিক্রি করে ঘুষ দিয়ে চাকরি নিয়েছে সে টাকা পরিশোধ করুক, কিংবা গাড়ি বা ফ্লাট কিনুক আমাদের আপত্তি নেই। আমাদের আপত্তি হচ্ছে মানুষকে হাঁটার জন্যে পথ করে দিন। ফুটপাত মুক্ত করুন। তাহলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে এধরনের ক্যারিকেচার না করলেও হবে।

Like & share করে অন্যকে দেখার সুযোগ দিন

শেয়ার অপশন:
Don`t copy text!