ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৩:৪৯ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সেরা গভর্নর ড. আতিউর রহমান

প্রবৃদ্ধি ও সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার পাশাপাশি সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে পুঁজির প্রবাহ বাড়ানোর স্বীকৃতিস্বরূপ এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সেরা গভর্নর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড.আতিউর রহমান।
লন্ডনভিত্তিক ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস গ্রুপের অর্থবিষয়ক ম্যাগাজিন ‘দি ব্যাংকার’ গতকাল এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে তাকে ২০১৫ সালের ‘সেন্ট্রাল ব্যাংকার অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে।
এতে বলা হয়, ‘প্রবৃদ্ধি বা সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে কোনো আপস না করে পরিবেশবান্ধব ও সমাজসচেতন উন্নয়নে পুঁজি সরবরাহ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন কেন্দ্রিয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান।’
আতিউর রহমানের এই স্বীকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরতে মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে গভর্নর তার অনুভূতি প্রকাশ করেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এই অর্জন আমার একার নয়। পুরো আর্থিক খাতের সম্মিলিত প্রয়াসে দেশের অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, এটি তারই স্বীকৃতি।’
গভর্নর বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের সিএসআর কার্মকান্ড এবং সবুজ অর্থায়ন এই ত্রিধারার নতুন উদ্যোগ মিলে অর্থনীতিতে যে স্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে, তা কেবলমাত্র পুরো আর্থিক সবার সম্মিলিত প্রয়াসের কারনে সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন সবচেয়ে বেশি স্থিতিশীল।
আতিউর রহমান তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি উৎসর্গ করছি, যিনি আমাকে কেন্দ্রিয় ব্যাংকে গভর্নরের দায়িত্ব দিয়ে এসব কর্মকান্ড করার সুযোগ করে দিয়েছেন।’ এছাড়া তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধে অংশ নেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং তার নিজের পরিবারের সদস্যদের প্রতি এই অর্জনকে উৎসর্গ করেন।
দি ব্যাংকারের ওয়েবসাইটে আর্থিক সেবাবঞ্চিত ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তাকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ১০ লাখ ক্ষুদ্র কৃষককে ৫০০ কোটি টাকার ঋণ দিয়েছে, যাদের ৫৫ শতাংশই নারী। এই প্রকল্পের আদায়ের হার ৯৯ শতাংশ। ছিন্নমূল শিশুদের আর্থিক সেবার আওতায় নিয়ে আসাকেও তার অন্যতম পদক্ষেপ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ২০০ কোটি টাকার পুনঅর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে, যার আওতায় এক কোটি ৪০ লাখ ছিন্নমুল শিশুর সঞ্চয়ী হিসাব খোলা হয়েছে।
দি ব্যাংকার আরো বলেছে, ২০০৯ সালে আতিউর রহমান গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেবার পর থেকে বাংলাদেশের আর্থিক খাতে সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব অর্থায়নের তাগিদ সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তিনি মুদ্রা যোগানের প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীলতার নিরাপদ সীমায় রেখেও অন্তর্ভূক্তিমূলক, পরিবেশবান্ধব বিবিধ উদ্যোগ অর্থায়নের আর্থিক খাতকে উদ্বুদ্ধ করেছেন, যাতে স্থিতিশীলতা ও মূল্যস্ফীতির পরিমিত নিশ্চিত রেখেও টেকসই প্রবৃদ্ধি জোরদার করা যায়। তার এই কৌশল এরই মধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে।
কেন্দ্রিয় ব্যাংক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চার ডেপুটি গভর্নর আবুল কাশেম, রাজী হাসান, এস কে সূর চৌধুরী ও নাজনীন সুলতানা, চেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট এডভাইজার আল্লাহ মালিক কাজমী ও প্রধান অর্থনীতিবিদ বীরুপক্ষ পাল প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।