Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৬:৩৮ ঢাকা, সোমবার  ১৯শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

রুহুল কবির রিজভী
অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, ফাইল ফটো

‘সেনা মোতায়েনে রাজি না হওয়ার কারণ স্পষ্ট হচ্ছে’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) নির্বাচন ইলেকশন কমিশন কেন সেনা মোতায়েনে রাজি হয়নি সেটাও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার বেলা সোয়া ১১টায় রাজধানীর নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতে পারে না, নাসিক নির্বাচনেও তার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত মিলতে শুরু হয়েছে। ভোটারবিহীন সরকারের ইচ্ছা পূরণে ইলেকশন কমিশন কেন সেনা মোতায়েনে রাজি হয়নি সেটাও স্পষ্ট হতে শুরু করেছে।

রিজভী বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে আমি নাসিক নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, ভয়ভীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ, সকল ধরণের ভীতি, শংকা, অস্বস্তি দূর করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। কারণ সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ হলে সাধারণ ভোটাররা দল বেঁধে নির্বাচনী কেন্দ্রে স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এমনকি আমরা নিশ্চিত সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজমান হলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আরো বলেন, গণমাধ্যমের খবরে জানা য়ায়, ক্ষমতাসীন দলের রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতাপ্রাপ্ত তিন শতাধিক সন্ত্রাসী নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক) এলাকা চষে বেড়াচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের জ্ঞাতসারেই অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

নির্বাচন কমিশনের বিধিনিষেধের কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নিতে পারিনি বলে অভিযোগ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, হঠাৎ করে বহিরাগতদের প্রচারণার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেয়ার কারণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, যা নজিরবিহীন। অথচ বিগত যে কোনো নির্বাচনে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী এলাকার বাইরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়া হতো। এটাই ছিল আইন, এটাই ছিল রেওয়াজ। কিন্তু এবার সেই সময়সীমা বাড়িয়ে ৭২ ঘণ্টা করা হলো। মূলত খালেদা জিয়া দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে অংশ নিলে ধানের শীষের পক্ষে আরোও ব্যাপক গণজোয়ার সৃষ্টি হওয়ার আশংকা থেকেই সরকার ইসিকে দিয়ে এই পরিপত্র জারি করিয়েছে। আর এটা যে বিনাভোটের সরকারের নির্দেশেই করা হয়েছে সেটি উপলব্ধি করতে কোন ইনফরমেশন টেকনোলজির আশ্রয় নেয়ার প্রয়োজন নেই।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠাতে আগামী ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতব্য নাসিক নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দল কিংবা ভোটাররা আশ্বস্ত হতে পারছেন না বলেও অভিযোগ করেন রিজভী।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা  আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, আব্দুস সালাম আজাদ, আসাদুল করিম শাহীন তাইফুল ইসলাম টিপ, মুনির হোসেন, বেলাল আহমেদ প্রমুখ।