Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৪ ঢাকা, শুক্রবার  ১৬ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সেনাবাহিনী জনগণের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার : প্রধানমন্ত্রী

দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষা ও জাতীয় উন্নয়নে বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতা করার কাজে সশস্ত্র বাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এদেশের জনগণের সুখ-দুঃখ ও হাসি-কান্নার সমান অংশীদার সেনাবাহিনী। দেশের যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দুঃসময়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সব সময়ই বিপন্ন মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের ত্যাগ ও সাহসী ভূমিকার ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামে আজ শান্তি বিরাজ করছে এবং সেখানে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রয়েছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি দেশমাতৃকার সার্বিক সেবায়  আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এই প্রত্যাশা রাখি। গতকাল চট্টগ্রামের ভাটিয়ারীস্থ’ বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে প্রেসিডেন্ট কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারাবিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল। অর্থনীতি সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে। মানুষের জীবন মান উন্নত হয়েছে।  আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৩১৪ মার্কিন ডলার। ৫ কোটি মানুষ মধ্য আয়ের স্তরে উন্নীত হয়েছে। দারিদ্র্যের হার ২২.৪ শতাংশ নেমে এসেছে। আমাদের রিজার্ভ ২৭.০২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। ২০২১ সালের আগেই আমরা বাংলাদেশকে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে সক্ষম হবো ।
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণের মাধ্যমে আমাদের দেশ বিশ্বশান্তি রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। আমাদের সেনাবাহিনী দেশে ও বিদেশে অর্পিত দায়িত্ব পালনে স্বীয় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের জন্য সব মহলের প্রশংসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এ সুনাম অক্ষুণ্ন রেখে সেনাবাহিনীকে উত্তরোত্তর উন্নতির দিকে এগিয়ে নিতে হবে। বিশ্বের যে কোনো প্রান্তের মানুষ শান্তি আর সমৃদ্ধির প্রতীক হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জানবে, এটিই আমার প্রত্যাশা। আমরা বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিকে একটি অত্যাধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন একাডেমিতে পরিণত করেছি। এখানে বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত এই কমপ্লেক্স বিএমএর প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। গত জানুয়ারি থেকে এই একাডেমিতে ৪ বছর মেয়াদি অনার্স ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি চালু করা হয়েছে। সেনাবাহিনীর উন্নত প্রশিক্ষণ, উচ্চশিক্ষা গ্রহণ ও আধুনিকায়নে এ উদ্যোগ যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ্বাস। তিনি বলেন, শুধু মিলিটারি একাডেমি নয় গত ৭ বছরে আমাদের সরকার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে একটি গতিশীল, চৌকস এবং যুগোপযোগী বাহিনীতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেনাবাহিনীতে নতুন নতুন ডিভিশন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আমাদের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতির পিতা প্রণীত প্রতিরক্ষা নীতির আলোকে ফোর্সেস গোল ২০৩০ প্রণয়ন করে আমরা সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর উন্নয়ন করে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীকে বিশ্বের বুকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে তুলে ধরা।
নবীন অফিসারদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের দিনটি আপনাদের জীবনে অত্যন্ত আনন্দের এবং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনারা আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বৃহৎ কর্মজীবনে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। আপনাদের ওপর ন্যস্ত হতে যাচ্ছে দেশমাতৃকার মহান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে আপনাদের সর্বদা সজাগ ও প্রস্তুত থাকতে হবে। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে আপনাদের জীবনের একমাত্র ব্রত। নিঃস্বার্থভাবে দেশ ও জনগণের সেবা করবেন। আপনাদের জন্য আমার দোয়া ও শুভকামনা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও আকর্ষণীয় মার্চ পাস্টের অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি বিজয়ী ক্যাডেটদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ১৯২ জন বাংলাদেশি, ১ জন শ্রীলঙ্কান ও ১ জন নেপালি ক্যাডেটসহ মোট ১৯৪ জন ক্যাডেট কমিশন লাভ করেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন প্রাপ্তদের মধ্যে ৭৩তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে ১৭৯ জন পুরুষ, ৮ জন মহিলা এবং ৪৪তম বিএমএ স্পেশাল কোর্সে ৫ জন পুরুষ ক্যাডেট রয়েছেন।
ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. আহসান উল্লাহ ৭৩তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে সেরা চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। অন্যদিকে সামরিক বিষয়ে অনন্য কৃতিত্বের জন্য কোম্পানি সিনিয়র আন্ডার অফিসার মো. রুহানী রাব্বী হামজা ‘সেনা প্রধানের স্বর্ণপদক’ লাভ করেন। এরপর ক্যাডেটগণ আনুষ্ঠানিক শপথ গ্রহণ করেন। কুচকাওয়াজ শেষে প্রধানমন্ত্রী এবং ক্যাডেটদের মাতা-পিতা ও অভিভাবকগণ নবীন অফিসারদের র‌্যাঙ্ক ব্যাজ পরিয়ে দেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী বিএমএ প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক; বিএমএ কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ও এরিয়া কমান্ডার, চট্টগ্রাম এরিয়া মেজর জেনারেল মো. সফিকুর রহমান তাকে অভ্যর্থনা জানান। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবর্গ, ঢাকাস্থ’ বৈদেশিক মিশনের কূটনীতিকগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ’ সামরিক ও অসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মাতা-পিতা ও অভিভাবকগণ এ বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেন।