ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:২০ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ, ফাইল ফটো

‘সীমান্তে হত্যাকান্ডে বিজিবি-বিএসএফ যৌথ তদন্তের সিদ্ধান্ত’

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে হত্যাকান্ডসহ যে কোনো ধরনের অপরাধের ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফ যৌথভাবে তদন্ত করবে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ঢাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স’র (বিএসএফ) মহাপরিচালক পর্যায়ে সীমান্ত সম্মেলনের শেষ দিনে আজ সোমবার

বিজিবি’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন থেকে সীমান্তে হত্যাকান্ডসহ যে কোনো ধরনের ঘটনায় তদন্ত যৌথভাবে করা হবে। তিনি বলেন, আগে একপক্ষ এক ধরনের বক্তব্য দিত। আরেক পক্ষ আরেক রকম বক্তব্য দিত। বিজিবি ও বিএসএফ’র বক্তব্যে বৈপরিত্য ছিল। এখন থেকে সে রকম আর কিছু হবে না। যৌথভাবে তদন্ত শেষে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

উল্লেখ্য,গত ১১ মে ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এ সম্মেলন শুরু হয়।

আজ সোমবার বিজিবি সদর দফতরের সম্মেলন কক্ষে বিজিবি প্রধান এবং বিএসএফ প্রধানের যৌথ আলোচনার দলিল স্বাক্ষর ও সংবাদ সম্মেলনের মধ্যদিয়ে এ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।

চুয়াডাঙ্গায় সজল নামে বাংলাদেশী কিশোর বিএসএফ’র গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেন,‘আমরা সব-সময়ই সীমান্ত হত্যাকে জিরোতে নামিয়ে আনার নীতিতে সচেষ্ট। এ ধরনের ঘটনা কোনো ভাবেই কাম্য নয়। আশা করছি এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।’
সীমান্তে কেউ ধরা পড়লে গুলি না করে আটক করার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফ তা না মেনে গুলি করে,এক্ষেত্রে এ সম্মেলনে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি-না জানতে চাইলে বিএসএফ মহাপরিচালক কে কে শর্মা বলেন,‘আমরা ক্যাটল স্মাগলার, ড্রাগ স্মাগলারসহ অনেককেই ধরি। গত ৫ মাসে সীমান্তে ৪৭ জনকে আটক করা হয়েছে। ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিলেই কেবল গুলির বিষয়টি আসে। এছাড়া বিএসএফ গুলি করে না। তিনি বলেন, এ বিষয়টি কিভাবে আরও শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনা যায় তার বিকল্প চিন্তাও চলছে।’

ফেলানী হত্যাকান্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএসএফ প্রধান বলেন, বিষয়টি এখন আদালতে বিচারাধীন। তাই এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
চুয়াডাঙ্গায় সজল নামে বাংলাদেশি কিশোর বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে কে কে শর্মা বলেন, ওই ঘটনায় একজন অফিসারসহ মোট ৭ জনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ ঘটনার যৌথ তদন্ত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সম্মেলনের শেষ দিনে ভারতীয় প্রতিনিধি দলে বিএসএফ সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, ফ্রন্টিয়ার আইজিগণ, ভারত সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশ নেন। অপরদিকে বিজিবি মহাপরিচালকসহ বিজিবির রিজিয়ন কমান্ডার ও অতিরিক্ত মহাপরিচালকবৃন্দ, সেক্টর কমান্ডার ও উপ-মহাপরিচালকবৃন্দ, বিজিবি সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট স্টাফ অফিসারবৃন্দ ছাড়াও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, যৌথ নদী কমিশন, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদফতর এবং সার্ভে অব বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাসহ বাংলাদেশের ২৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনের শেষ দিনে অংশ গ্রহণ করেন।