ঢাকার সদরঘাটের কাছাকাছি এক লঞ্চের ধাক্কায় আরেক লঞ্চ ডুবে বেশ কয়েকজন মানুষের হতাহতের ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে মনে হয়েছে এটি দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। এ ক্ষেত্রে লঞ্চমালিকদের গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।’

প্রতিমন্ত্রী আজ সোমবার ঢাকার সদরঘাটে যাত্রীবাহী লঞ্চ ডুবে যাওয়ার স্থান এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিআইডব্লিউটিএর নৌ দুর্যোগ তহবিল থেকে লঞ্চ দুর্ঘটনায় মৃত প্রত্যেকের পরিবারকে দেড় লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিকভাবে দাফনের জন্য বিআইডব্লিউটিএর পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক এবং নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য,  এক লঞ্চের ধাক্কায় রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকা সংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীতে আরেক লঞ্চডুবির ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তার মধ্যে ২ জন শিশু ৫ মহিলা ও ২৩ পুরুষ। সোমবার (২৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।

সোমবার (২৯ জুন) বেলা সোয়া ১২টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসাইন এ তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-চাঁদপুর রুটের ময়ূর-২ নামের একটি লঞ্চের ধাক্কায় আনুমানিক ৫০ যাত্রী নিয়ে ঢাকা-মুন্সিগঞ্জ রুটের ‘মর্নিং বার্ড‘ লঞ্চটি ডুবে যায়। লঞ্চটি থেকে কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠলেও বেশির ভাগ নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে ইতোমধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং এখন পর্যন্ত ৩০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধারকারী জাহাজ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

আনুমানিক ৫০ যাত্রী বলা হলেও কেউ কেউ ধারণা করছে প্রায় ১০০ জন যাত্রী ছিলেন ওই লঞ্চে।