ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৯:৪৬ ঢাকা, বৃহস্পতিবার  ২০শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সিরিয়ায় পালমিরার প্রাচীন মন্দির ধ্বংস করলো আইএস

সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) পালমিরার প্রাচীন মন্দির বাল শামিন ধ্বংস করেছে। সিরিয়ার কর্মকর্তা এবং অ্যাক্টিভিস্টরা এ কথা জানান।
দেশটির পুরাতত্ত্ব বিভাগের প্রধান মামুন আব্দুল করিমের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, মন্দিরটি রোববার বিস্ফোরক দিয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
কিন্তু যুক্তরাজ্যভিত্তিক সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস বলছে, একমাস আগেই এটি ধ্বংস করা হয়েছে।
মামুন আব্দুল করিম জানিয়েছেন, মন্দিরটির বিখ্যাত কয়েকটি রোমান স্তম্ভও বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, আইএস চলতি বছরের মে মাসে পালমিরা দখল করে। তখনই বিশ্ব ঐতিহ্যের এই অংশকে আইএস জঙ্গিরা ধ্বংস করবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল।
ইরাকেও বেশ কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করেছে আইএস জঙ্গিরা। ইরাকের মসুল শহরে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরীতে আগুন দিয়ে হাজার হাজার বই পুড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া মসুলের কেন্দ্রীয় জাদুঘরের প্রাচীন শিল্পকর্ম ধ্বংস করে।
আধুনিক শহর পালমিরা স্থানীয়ভাবে তাদমুর হিসেবে পরিচিত। পালমিরা মানে তালগাছের শহর। রাজধানী দামেস্ক থেকে ২১০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে ও পূর্বাঞ্চলীয় দেইর আল জাউর শহরের মধ্যবর্তী সড়কের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এটি অবস্থিত। কাছেই মরুভূমির প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ রয়েছে যাকে ইউনেস্কো ও অন্যরা প্রাচীন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করে। প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো রোমান যুগের শিল্পস্থাপত্যে তৈরি বাল শামিন মন্দিরটি জাতিসংঘ স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ ছিল।
মন্দিরটি ১৭ খ্রিস্টাব্দে তৈরি করা হয়েছিল। ১৩০ খ্রিস্টাব্দে রোমান স¤্রাট হাদ্রিয়ানের আমলে মন্দিরটির সম্প্রসারন করা হয়।
পালমিরাকে ‘মরুভূমির মুক্তা’ কিংবা মরুদ্যান হিসেবে বিবেচনা করা হতো। খ্রিস্টপূর্ব ১৯ শতকে ভূমধ্যসাগর ও উপসাগর মধ্যবর্তী সিল্ক রোডের যাত্রীরা পালমিরায় বিরতি নিত। কিন্তু খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতকের শুরুর দিকে রোমান শাসনামল এবং পরবর্তী ৪শ’ বছর ধরে পালমিরার খ্যাতি বাড়তে থাকে। দ্বিতীয় শতকে খ্রিস্টান ধর্ম আসার আগ পর্যন্ত পালমিরায় বেবিলনীয় ঈশ্বর বেল এবং ইয়ারহিবল (সূর্য) ও আগলিবলের (চন্দ্র) পূজা করা হতো।
সিরিয়ায় ২০১১ সালে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রতিবছর দেড় লাখেরও বেশি পর্যটক পালমিরা পরিদর্শন করতো। এখানকার চমৎকার সব স্ট্যাচু, এক হাজারেরও বেশি স্তম্ভ ও ৫শ’ও বেশি সমাধি পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র ছিল।
এর আগে আইএস সিংহের স্ট্যাচু ‘এথেনা’ ধ্বংস করে। জাদুঘরের সামনে চমৎকার চুনাপাথরে তৈরি স্ট্যাচুটি ১০ ফুটেরও বেশি উঁচু ছিল।