ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৮:১৬ ঢাকা, সোমবার  ২২শে অক্টোবর ২০১৮ ইং

সিরাজগঞ্জে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১৫

সিরাজগঞ্জে যাত্রীবাহী দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ ১৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশতাধিক। রোববার ভোরে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিমপাড় সংযোগ মহাসড়কের মূলিবাড়ি রেলক্রসিং এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক হতাহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সেতু বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালায়।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন, পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ, সিভিল সার্জন ডা. দেবপ্রদ রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ব্রেনজন চাম্বুগং, সেতু বিভাগের ট্রাফিক ম্যানেজার মুজাহিদ উদ্দিন এবং সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টরা গনমাধ্যমকে যা বলছেন, বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে সৈয়দপুরগামী সাব্বির হোসেন পরিবহন ও উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী আজাদ পরিবহনের দুই বাসের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাস দুটির চালকসহ ১২ জন ঘটনাস্থলেই মারা যান। উভয় বাসের অন্তত ৫০ যাত্রী আহত হন।
আহতদের সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল, শহরের মেডিনোভা হসপিটাল, কমিউনিটি হাসপাতাল, মঈন উদ্দিন মেমোরিয়াল হাসপাতাল ও সেন্ট্রাল হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত সদর হাসপাতালে ১৪টি লাশ নিয়ে আসা হয়েছে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় আরও ২৫ জনকে আনা হয়। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।
সিভিল সার্জন দেবপ্রদ রায় বলেন, দুর্ঘটনায় আহত ৪০ জনকে ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে ১৭ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বগুড়ায় পাঠানোর পথে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর গ্রামের ওয়াহেদ আলীর স্ত্রী তাহেরা বেগম (৫০) মারা যান।
জেলা প্রশাসক বিল্লাল হোসেন বলেন, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ হাজার করে টাকা প্রদান করা হবে। আহতরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান সে বিষয়টিও নিশ্চিত করা হচ্ছে।আহতরা যাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পায় সে বিষয়টি মনিটরিং করা হচ্ছে।
পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন বলেন, সাব্বির হোসেন পরিবহনের বাসটি রং-সাইড দিয়ে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি হয়েছে। পুলিশ বাস দুটি জব্দ করেছে।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির সদস্যরা হলেন-সহকারী জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জিয়া উদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বেনজন চাম্বুগং, ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক নিজাম উদ্দিন।