Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:১০ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

‘সিপিডি’র দৃষ্টিতে প্রস্তাবিত বাজেট’

নতুন অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কর আদায় ও রেমিট্যান্স আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে বেসরকারি সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডি। সংস্থাটি বাজেটের আয় ও ব্যয়ের কাঠামো এবং ঘাটতি অর্থায়নের পরিকল্পনা ‘দুর্বল’ বলে চিহ্নিত করেছে।

শুক্রবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাজেট পরবর্তী পর্যালোচনা তুলে ধরেন সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

অর্থমন্ত্রীর প্রস্তাবিত ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট সম্পর্কে দেবপ্রিয় বলেন, ‘আপনারা শোনেন যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকার বাজেট হচ্ছে, বড় বাজেট হচ্ছে। বাজেট তো বড় হবে, অর্থনীতি বড় হলে বাজেট বড় হবে। কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা এবং ব্যয়ের পরিমাণও বড় হবে এটাই স্বাভাবিক।’

কিন্তু দেশের অর্থনীতি যেভাবে বাড়ছে, সেই অনুপাতে বাজেটে আয় ব্যয়ের খাতগুলো বাড়ছে কি না- সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জিডিপির অংশ হিসেবে  এই বাজেট বড়ও না, বিরাট কিছুও না। অর্থনীতিবিদ টাকার অংকে প্রচলিত টাকা দেখে না, সে প্রকৃত মূল্য বিবেচনা করে। আজকের এক টাকা যে কালকে আধা টাকা হয়ে যায় সেই কথাটা আমাদের বুঝতে হবে।

প্রতি বছর বাজেট টাকার অংকে বাড়লেও মোট অর্থনীতির শতকরা হারের হিসাবে সেই ১৪ শতাংশেই আটকে আছে, আর বাড়ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দেবপ্রিয় বলেন, বাজেটে বড় ধরনের কর প্রাক্কলন (২ লাখ ৩ হাজার ১৫২ কোটি টাকা) করে রাজস্ব বাড়ানোর কথা থাকলেও তা আদায়ে বা ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কী কৌশল নেওয়া হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট রূপরেখা নেই বাজেটে।

তিনি বলেন, গত দু’বছরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কম ছিল একথা উল্লেখ করে ড. দেবপ্রিয় বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সরকার বেসরকারি বিনিয়োগ যে পর্যায়ে উন্নীত করতে চায় তার জন্য এ খাত (বেসরকারি) থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা বাড়তি বিনিয়োগ আসতে হবে। কিন্তু এই বিনিয়োগ কীভাবে আসবে সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট দিক-নির্দেশনা নেই।’

এবারের বাজেটের ৯৭ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকার ঘাটতি মেটাতে অর্থায়নের বিষয়টিকে অন্যতম দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করেন দেবপ্রিয়।

তিনি বলেন, ঘাটতি মেটাতে দেশীয় উৎস থেকে ৬১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা ধার করার যে পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে তাতে ব্যয় আরও বাড়বে। আর ঘাটতির ৪০ শতাংশ বিদেশি অর্থায়নে মোটানোর কথা বলা হলেও সেজন্য বড় কোনো উদ্যোগের কথা বাজেট কাঠামোতে নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে যেখানে কখনো বছরে ৩ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি বৈদেশিক সাহায্য ব্যবহার হয়নি, সেখানে কীভাবে রাতারাতি ৬ বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক বিনিয়োগ ব্যবহার করা হবে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।