ব্রেকিং নিউজ

দুপুর ১২:২৪ ঢাকা, শুক্রবার  ২১শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সুপ্রিমকোর্ট

সিনহার বিরুদ্ধে ১১ অভিযোগ : সুপ্রিমকোর্টের বিবৃতি

ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস, কে) সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে বলে জানিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট।

তিনি শুক্রবার রাতে অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার প্রাক্কালে যে লিখিত বিবৃতি দিয়েছেন সুপ্রিমকোর্ট সেটিকে বিভ্রান্তিমূলক বলেও উল্লেখ করেছেন।

আজ সুপ্রিমকোর্টের রেজিষ্ট্রার জেনারেল সৈয়দ আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়। বিবৃতিটি সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ছুটিভোগরত মাননীয় প্রধান বিচারপতি এস, কে, সিনহা গত ১৩ অক্টোবর বিদেশ গমনের প্রাক্কালে একটি লিখিত বিবৃতি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট হস্তান্তর করেন। এই লিখিত বিবৃতিটি সুপ্রিমকোর্টের দৃষ্টিগোচর হইয়াছে। উক্ত লিখিত বিবৃতি বিভ্রান্তিমূলক।’

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি এস, কে, সিন্হা ছাড়া আপিল বিভাগের ৫ জন বিচারপতিকে বঙ্গভবনে আমন্ত্রণ জানান। বিচারপতি মো. ইমান আলী দেশের বাইরে থাকায় তিনি সেখানে উপস্থিত হতে পারেননি। অপর চারজন- বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। দীর্ঘ আলোচনার এক পর্যায়ে রাষ্ট্রপতি প্রধান বিচারপতি এস, কে সিনহার বিরুদ্ধে ১১টি সুনির্দিষ্ট অভিযোগসংবলিত দালিলিক তথ্যাদি বিচারপতিদের কাছে হস্তান্তর করেন। তন্মধ্যে বিদেশে অর্থ পাচার, আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, নৈতিক স্খলনসহ আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারপতি ইমান আলী ঢাকায় আসার পর ১ অক্টোবর আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি বৈঠকে বসে ১১টি অভিযোগ নিয়ে বিশদভাবে পর্যালোচনার পর এই বিচারপতিগণ সিদ্ধান্তে উপনীত হন যে, তারা ওইসব গুরুতর অভিযোগ প্রধান বিচারপতিকে অবহিত করবেন। প্রধান বিচারপতি ওইসব অভিযোগের ব্যাপারে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিচারপতিগণের পক্ষে তার সঙ্গে বসে বিচারকার্য পরিচালনা সম্ভব হবে না। সে অনুযায়ী, একই দিন বেলা সাড়ে ১১টায় অনুমতি নিয়ে প্রধান বিচারপতির ১৯, হেয়ার রোডের বাসায় সাক্ষাৎ করে বিশদ আলোচনা করেন।

দীর্ঘ আলোচনার পরেও তার কাছ থেকে কোনো প্রকার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা বা সদুত্তর না পেয়ে আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি তাকে সুস্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ওই অভিযোগের সুরাহা না হওয়া পর্যন্ত তার সঙ্গে একই বেঞ্চে বসে তাদের পক্ষে বিচারকার্য পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। এক পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করবেন বলে জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, পরের দিন ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি কাউকে কিছু অবহিত না করেই রাষ্ট্রপতির কাছে এক মাসের ছুটির আবেদন করেন। এরপর রাষ্ট্রপতি সেটি অনুমোদন করেন এবং বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা প্রধান বিচারপতির অনুপস্থিতিতে অনুরূপ দায়িত্ব নেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতির পদটি একটি প্রতিষ্ঠান। সেই পদের এবং বিচার বিভাগের মর্যাদা সমুন্নত রাখার স্বার্থে এর আগে সুপ্রিমকোর্টের তরফ থেকে এই ব্যাপারে কোনো প্রকার বক্তব্য-বিবৃতি দেয়া হয়নি। কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নির্দেশক্রমে এই বিবৃতি দেয়া হলো বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের এসকিউ-৪৪৭ ফ্লাইটে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধান বিচারপতি এস,কে সিন্হা। রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে বাসভবন থেকে বের হওয়ার আগে তিনি সাংবাদিকদের কাছে লিখিত বিবৃতিটি দিয়ে যান। -বাসস

http://www.bssnews.net/bangla/newsDetails.php?cat=6&id=422721&date=2017-10-14