ব্রেকিং নিউজ

সন্ধ্যা ৬:২০ ঢাকা, শুক্রবার  ১৭ই আগস্ট ২০১৮ ইং

ওবায়দুল কাদের
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ফাইল ফটো

‘সিটি নির্বাচন নিয়ে বিএনপির নীলনকশা ভন্ডুল’

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি নেতারা তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে বিতর্কিত করার যে নীলনকশা করেছিল জনগণ তা ভন্ডুল করে দিয়েছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জনের রাজনীতি এবং শহরের মানুষের মন জয় করতে সক্ষম হওয়ায় বরিশাল ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে।

ওবায়দুল কাদের আজ দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে সদ্য সমাপ্ত রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন।

গতকাল সোমবার এ তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রথম বারের মতো দলীয় প্রতীকে তিন সিটি কর্পোরেশনে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে একই দলের প্রার্থী এ এইচ এম,খায়রুজ্জামান লিটন বিপুল ভোটে বিজয়ী হলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমেদ কামরানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।

সেতুমন্ত্রী বলেন, তিন সিটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে বিএনপি নেতারা কয়েক দিন ধরে তামাশার নাটক মঞ্চস্থ করেছেন। পরাজিত হওয়ার ভয়ে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিএনপির প্রার্থী মুজিবুর রহমান সরোয়ার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান।

তিনি বলেন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নিজের ভোট না দিয়ে একাই কত নাটক করলেন। সিলেট সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী ভোট গ্রহন শেষ হওয়ার আগেই পুন: নির্বাচন দাবী করলেন। আর এখন ‘ভি’ চিহ্ন দেখাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সোমবারের তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৫টি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগ জয় লাভ করেছে। দেশের ৬ হাজারেও বেশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শতকরা ৯০ ভাগ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে প্রমাণ হয়েছে দেশের মানুষ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতিকে গ্রহণ করেছে এবং বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিকে প্রত্যাখান করেছে।

কাদের বলেন, জনগণ বিএনপির হাওয়া ভবনের মত বিকল্প সরকার আর চায় না। কানাডার আদালতের রায় অনুযায়ী বিএনপির মতো সন্ত্রাসী সংগঠনকে দেশের মানুষ আর দেখতে চায় না উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই বিএনপি কিভাবে দেশের মানুষের ভোট প্রত্যাশা করে। তারা জনগণের আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। তাদের রাজনীতি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে।

তিনি বলেন, বিএনপি দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখান করে আগামীকাল বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের ডাকে দলের নেতারাও নামবে কি-না সন্দেহ। নির্বাচনে তারা যেমন প্রত্যাখাত হয়েছে তেমনি আন্দোলনের ডাকেও প্রত্যাখাত হবে।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেতুমন্ত্রী বলেন, বাসের চাপায় দু’স্কুল শিক্ষার্থীর নিহতের ঘটনায় দেশের মানুষের সঙ্গে তিনিও ভীষণভাবে মর্মাহত। এ ঘটনায় সরকার চুপ করে বসে নেই। সরকার দ্রুততার সঙ্গে বাসের চালককে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় এনেছে।

তিনি বলেন, সরকারের রেসপন্স প্রমাণ করে দিয়েছে এ ব্যাপারে সরকারের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরা শান্ত হও। পড়াশুনায় মনোনিবেশ কর। দোষী বাস চালক বিচারের হাত থেকে রেহাই পাবে না।

ওবায়দুল কাদের এ সময় তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র, কাউন্সিলর, ভোটার, নির্বাচন কমিশন ও নির্বাচন পরিচালনার সঙ্গে জড়িত সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারী ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ধন্যবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম এমপি, একেএম এনামুল হক শামীম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি, দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।