Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

বিকাল ৫:৩৭ ঢাকা, শনিবার  ১৭ই নভেম্বর ২০১৮ ইং

সিআইএর নিষ্ঠুর নির্যাতন

একপর্যায়ে প্রতিবেশী ইরাকে আইএসের বিরুদ্ধে চালানো মার্কিন বিমান হামলা সিরিয়াতেও সম্প্রসারণ করা হয়। সিরিয়ায় আইএসবিরোধী বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সৌদি আরব, জর্ডানসহ চারটি আরব দেশ যোগ দেয়। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পরে জঙ্গি সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের জেরা করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর চালানো ‘নিষ্ঠুর’ নির্যাতনের রিপোর্ট এ বছর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশ করে মার্কিন সিনেট ইনটেলিজেন্স কমিটি। জাতিসঙ্ঘসহ মানবাধিকার সংস্থাগুলো সিআইসহ সংশ্লিষ্ট মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আইনগত পদপে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অবিরাম পানিতে চুবিয়ে নির্যাতন করা ছাড়াও যৌন নির্যাতনের হুমকি দিয়ে, পায়ুপথে পানি ঢুুকিয়ে, চড় মেরে, ঠাণ্ডার মধ্যে রেখে, হেনস্তা করে এমনকি দিনের পর দিন একটুও ঘুমাতে না দিয়ে বন্দীদের জিজ্ঞাসাবাদ চলেছে। সিনেট গোয়েন্দা কমিটি মঙ্গলবার এক রিপোর্টে এসব নির্যাতনের তথ্য প্রকাশ করে। মোট ছয় হাজার পৃষ্ঠার রিপোর্ট তৈরি করা হলেও তা সংপ্তি আকারে ৪৮০ পৃষ্ঠা প্রকাশ করা হয়। রিপোর্ট প্রকাশের আগে থেকেই সারা বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও মার্কিন স্থাপনায় হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় বলে জানায় হোয়াইট হাউজ।
৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের অনুমতিতেই আটক সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদে এসব অত্যাচার চলত বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। সিনেটে রিপোর্ট পেশ করে গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারপারসন ডায়ানে ফেইস্টেইন সিআইএর এ কার্যকলাপকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে একটি কালিমা বলে বর্ণনা করেছেন।
বিশ্বজুড়ে আটক আলকায়েদা ও অন্যান্য সন্দেহভাজনদের ওপর ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালানো এ জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচির কার্যকারিতা নিয়ে সরকার, জনগণ এবং আইনপ্রণেতাদের ধাঁধায় রাখে সিআইএ। গোয়েন্দা সংস্থাটির নির্মম নির্যাতনের উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০২ সালের নভেম্বরে হাইপোথারমিয়ায় এক বন্দীর মৃত্যু হয়। তাকে অর্ধনগ্ন করে একটি কংক্রিটের মেঝেতে বেঁধে রাখা হয়েছিল। আবার অন্য অনেক বন্দীকে ১৮০ ঘণ্টা ঘুমাতে না দিয়েও জেরা করা হয়েছে। সময়ে সময়ে তাদের হাত মাথার ওপরে তুলে বেঁধে রাখা হয় এমনকি পায়ুপথে পানিও ঢোকানো হয়। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা মতা নেয়ার পর ২০০৯ সালে সিআইএর এ নির্মম জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি বন্ধ করেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এসব জেরা পদ্ধতি যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের সাথে বেমানান। এসব কৌশলের কারণে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের ইমেজ ুণœœ হয়েছে। সেই সাথে মিত্র ও বন্ধু দেশগুলোর সাথে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়াও দুরূহ হয়ে পড়েছে।’
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয়
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কইে জয় পায় বিরোধী দল রিপাবলিকান পার্টি। ৪ নভেম্বর দেশটির মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে এক-তৃতীয়াংশে, নিম্নক প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সবগুলোতে এবং ৫০টি রাজ্য গভর্নরের মধ্যে ৩৬টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। অর্থনৈতিক অগ্রগতির পরও ওবামার জনপ্রিয়তা ৪০ শতাংশে নেমে যাওয়ায় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জয় আগাম দেখছিলেন অনেক বিশ্লেষক। এ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাট পার্টির কাছ থেকে রিপাবলিকানদের কাছে চলে আসে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ হত্যায় ব্যাপক বিক্ষোভ
চলতি বছরের আগস্টে নিরস্ত্র কিশোর মাইকেল ব্রাউন পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক মাস ধরে বিােভ চলে। এরপর নিউ ইয়র্কের স্টাটেন আইল্যান্ডে গ্রেফতারের সময় শ্বাস রোধ হয়ে মারা যায় আরেক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গ এরিক গার্নার। ব্রাউনের ঘটনায় নভেম্বরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না আনায় আদালতের সিদ্ধান্তে মিসৌরিতে ব্যাপক বিােভ দেখা দিয়েছিল। পরে গার্নারের মৃত্যুর বিষয়ে আদালতের একই ধরনের সিদ্ধান্তে নিউ ইয়র্কসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।