ব্রেকিং নিউজ

সকাল ৭:০৬ ঢাকা, শুক্রবার  ২৫শে মে ২০১৮ ইং

একনেক সভা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভা

সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণসহ অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৩টি প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ১২ হাজার ৪১৫ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার অর্থায়ন করবে ১১ হাজার ৮২২ কোটি ৯২ লাখ টাকা এবং প্রকল্প সাহায্য হিসেবে পাওয়া যাবে ৫৯২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলানগর এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভাশেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল প্রকল্প সম্পর্কে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৩২৭টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং ১৯ হাজার ৩৫৭টি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। এসব বিদ্যালয়ে মোট ৯১ লাখ ৬০ হাজার ৩৬৫ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। নির্বাচিত বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের উর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ৩২৫০টি বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভবনসমূহের সম্প্রসারণসহ প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহ করা হবে।

তিনি জানান, এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে ৫ হাজার ২৩৭ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। এর পুরোটাই বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থেকে পাওয়া যাবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শিক্ষা ক্ষেত্রে আইসিটিকে তৃণমূল পর্যায়ে সম্প্রসারণ করার লক্ষ্যে একনেকে ‘শিক্ষার জন্য ১৬০ টি উপোজলায় আইসিটি ও রিসোর্স সেন্টার স্থাপন-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় ১২৫টি উপজেলায় আইসিটি ও রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করা হয়। ২য় পর্যায়ে সারাদেশে আরো ১৬০টি উপোজলায় আইসিটি ও রিসোর্স সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ ব্যুরো অব এডুকেশনাল ইনফরমেশন এন্ড স্ট্যাটিস্টিক্স (ব্যানবেইস) জুলাই ২০১৭ থেকে জুন ২০২০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম হলো ১৬০টি উপজেলায় আইসিটি ট্রেনিং এন্ড রিসোর্স সেন্টার ভবন (প্রতিটি ৪তলা ভিতে ২ তলা) নির্মাণ, আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান, যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র সংগ্রহ, সফ্টওয়ার সংগ্রহ, পরামর্শ সেবা স্থাপন।

প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার বহন করবে ২৫২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং কোরিয়া সরকারের ইকোনমিক ডেভেলপমন্ট কো-অপারেশন তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে পাওয়া যাবে ৫৯২ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ইডিসিএফ এর আওতায় কোরিয়ান এক্সিম ব্যাংক ৪০ বছর মেয়াদে (১৫ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ) শুণ্য দশমিক ১ শতাংশ সুদহারে এই ঋণ প্রদান করবে।

একনেকে অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো-স্থানীয় সরকার বিভাগের ‘উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ (২য় পর্যায়)’, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়), জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘খুলনা শহরে এডমিনিস্ট্রেটিভ কনভেনশন সেন্টার নির্মাণ’ প্রকল্প, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘মন্দির ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম-৫ম পর্যায়’, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ‘ঢাকা-সিলেট-তামাবিল-জাফলং জাতীয় মহাসড়কের জৈন্তা হতে জাফলং পর্যন্ত (তামাবিল ল্যান্ডপোর্ট কানেকটিং ও বাল্লাঘাট সংযোগ সড়কসহ) সড়ক উন্নয়ন’ প্রকল্প।

এছাড়া বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের ‘লালমনিরহাট টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট স্থাপন’ প্রকল্প, সিরাজগঞ্জ জেলার যমুনা নদী হতে পুনরুদ্ধারকৃত ভূমির উন্নয়ন এবং প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল রক্ষা প্রকল্প, চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলায় সাঙ্গু এবং ডলু নদীর তীর সংরক্ষণ প্রকল্প,তালাইমারী চত্বরে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্কয়ার নির্মাণ, পানি সরবরাহে আর্সেনিক ঝুঁকি নিরসন প্রকল্প এবং ইসিবি চত্বর হতে মিরপুর পর্যন্ত সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন এবং কালশী মোড়ে ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প।