Press "Enter" to skip to content

সাসপেন্ডেড ওসি ‘মোয়াজ্জেম’ গ্রেফতার

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে পরোয়ানাভুক্ত আসামি ফেনীর সোনাগাজী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) (বর্তমানে তিনি  চাকুরি থেকে সাসপেন্ডেড) মোয়াজ্জেম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর হাইকোর্টের পাশে কদমফোয়ারা সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে শাহবাগ থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে (মোয়াজ্জেম) শাহবাগ থানায় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মারুফ হোসেন সরদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে ঝলসে দিয়ে হত্যাকান্ডের শিকার মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির জবানবন্দির ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়ানোয় অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, ওসি ‘মোয়াজ্জেম’ সাসপেন্ডেড। সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগ জানাতে সোনাগাজী থানায় যান নুসরাত। থানার তৎকালীন ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন সে সময় নুসরাতকে আপত্তিকর প্রশ্ন করে বিব্রত করেন এবং তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেন।

ওই ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হলে আদালতের নির্দেশে সেটি তদন্ত করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পিবিআই গত ২৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে ওই দিনই গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। পরোয়ানা জারির দুই দিন পর মোয়াজ্জেম হোসেন হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।

গত ৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় যায় নুসরাত জাহান রাফি। মাদ্রাসার এক ছাত্রী সহপাঠী নিশাতকে ছাদের ওপর কেউ মারধর করেছে, এমন সংবাদ দিলে সে (নুসরাত) ওই ভবনের তৃতীয় তলায় যায়। সেখানে মুখোশপরা ৪/৫ জন ছাত্রী নুসরাতকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। অস্বীকৃতি জানালে তারা নুসরাতের গায়ে কোরোসিন ঢেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় ৮এপ্রিল রাতে অধ্যক্ষ সিরাজ ও পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন অগ্নিদগ্ধ রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ এন্ড প্লাস্টিক সার্জারী ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নুসরাতের মৃত্যু হয়।

শেয়ার অপশন: