Sheersha Media

ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৫৯ ঢাকা, বুধবার  ২১শে নভেম্বর ২০১৮ ইং

‘সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে’

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর এসেছে খুশীর ঈদ।

গত দু’তিন দিনের বৈরী আবহাওয়া গতকাল বুধবার বিকেলেই কেটে যায় এবং আজ সকালে রাজধানীতে সূর্যের আলো দেখা যায়। ধর্মপ্রাণ লাখোÑকোটি মানুষ আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সমস্ত ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে স্বস্তিতে নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়।

এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ, উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা নামাজ আদায় করেন।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঈদগাহ নামাজে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুয্যামান।

ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মুসল্লীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ-সদস্য, সংসদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মুসল্লীগণ নামাজ আদায় করেন।

ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর ৯৩টি ওয়ার্ডের চার শতাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উপ-সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান চৌধুরী জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে ২২৮টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও একটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয় বলে তিনি জানান।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি’র ৩৬টি ওয়ার্ডে ৫টি করে মোট ১৮০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে এলাকাভিত্তিক মসজিদ, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ এবং খোলা জায়গায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম খতিব হাফেজ নাজীর মাহমুদ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠ এবং শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় ফৃথক দু’টি ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মিরপুর ১১ নম্বরে অবস্থিত মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয়টি সকাল ৮টায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।

পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে সকাল নয়টায় এবং বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও বনানী দরবার শরিফে সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
দেওয়ানবাগ শরিফের বাবে রহমতে তিনটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতটি সকাল আটটায়, দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে নয়টায় ও শেষ জামাতটি সকাল ১০টায় হয়।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ এবং ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটায় ও সকাল সাড়ে নয়টায় দুটি জামাত হয়। নীলক্ষেতের বাবুপুরা শাহ্ সাহেব বাড়ি মরিয়ম বিবি শাহি মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় ও সকাল ১০টায় ঈদ জামাত এবং কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যথাক্রমে সকাল সাড়ে সাতটা, সকাল সাড়ে আটটা ও সকাল সোয়া নয়টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

রসুলবাগ জামে মসজিদ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনিতে দুটি জামাত হয়। একটি সকাল সাড়ে সাতটায় ও অন্যটি সাড়ে আটটায়। মাতুয়াইল দরবারে মোজাদ্দেদিয়ায় সকাল নয়টায় ও সকাল সাড়ে নয়টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ বনশ্রী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটা ও সকাল সাড়ে আটটায় দুটি জামাত হয়। মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল পৌনে আটটায় একমাত্র জামাতটি হয়। খিলক্ষেত কুর্মিটোলা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটা ও সকাল পৌনে নয়টায় দুটি জামাত হয়। নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহ্, পার্ক ও খেলার মাঠে ও লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দান খানকা শরিফ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুরের মসজিদ-এ-তৈয়্যেবিয়ায় সকাল আটটা ও সকাল নয়টায় দুটি পৃথক জামাত হয়।

এছাড়া সকাল আটটায় রাজধানীতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়- ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম, পল্লীমা সংসদ, পল্লবীর ছয় নম্বর সেকশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, এলিফ্যান্ট রোডের অ্যারোপ্লেন মসজিদ, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, মধ্যবাড্ডা কানু মিয়ার পুকুরপাড় জামে মসজিদ, মগবাজার বিটিসিএল (সাবেক টিঅ্যান্ডটি) কলোনি জামে মসজিদ, কারওয়ান বাজারের আম্বর শাহ শাহি জামে মসজিদ, দারুস সালামের মীরবাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদ মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার তাহেরিয়া জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুরের বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়া ধূপখোলা মাঠ, ধানমন্ডি ঈদগাহ্ জামে মসজিদ এবং আগারগাঁওয়ের দারুল ইমান জামে মসজিদে।

সকাল সাড়ে আটটায়- কলাবাগানের বশিরউদ্দিন রোড জামে মসজিদ, ২/২ দারুস সালাম মিরপুর ফুরফুরা দরবারের মারকাজে ইশাআতে ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্স, কামরাঙ্গীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান, নারিন্দার মশুরীখোলা শাহ্ সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, লক্ষ্মীবাজার নূরানী জামে মসজিদ এবং বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সোমবার থেকে ৫ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদ উপলক্ষে আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

ঈদ উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে বনানী-ঢাকা গেট হতে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সড়ক দ্বীপসমূহে (আইল্যান্ড) জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশুপার্কে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঈদে ঢাকা মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীতে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে ‘আমরা ঢাকাবাসী’র উদ্যোগে আগামীকাল নগরী শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে বিকাল ৩টায় ঈদ আনন্দ র‌্যালি বের করা হবে।

বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যদিয়ে আজ রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনার পর এসেছে খুশীর ঈদ।

গত দু’তিন দিনের বৈরী আবহাওয়া গতকাল বুধবার বিকেলেই কেটে যায় এবং আজ সকালে রাজধানীতে সূর্যের আলো দেখা যায়। ধর্মপ্রাণ লাখোÑকোটি মানুষ আল্লাহ’র সন্তুষ্টি লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সমস্ত ঈদগাহ, মসজিদ ও খোলা মাঠে স্বস্তিতে নামাজ আদায় করেন।
ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে আটটায় সুপ্রিমকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। দ্বিতীয় বৃহত্তর জামাত অনুষ্ঠিত হয় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে সকাল সাতটায়।

এছাড়া সকাল ৮টা, ৯টা, ১০টা ও পৌনে ১১টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে আরো ৪টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঈদগাহে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুুল হামিদ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিগণ, উর্ধ্বতন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি ও সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকরা নামাজ আদায় করেন।

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুহাম্মদ মিজানুর রহমান ঈদগাহ নামাজে ইমামতি করবেন। বিকল্প ইমাম হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শায়খুল হাদীস মাওলানা সৈয়দ ওয়াহীদুয্যামান।

ঈদের নামাজ শেষে দেশের শান্তি ও উন্নয়ন, জনগণের কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর বৃহত্তর ঐক্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের নামাজ আদায়ের পর রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মুসল্লীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল ৮টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এতে জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ, মন্ত্রী পরিষদের সদস্যবর্গ, সংসদ-সদস্য, সংসদ সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং এলাকার সাধারণ মুসল্লীগণ নামাজ আদায় করেন।

ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে মহানগরীর ৯৩টি ওয়ার্ডের চার শতাধিক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়েছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উপ-সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা মো: লুৎফর রহমান চৌধুরী বাসসকে জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৫৭টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটিতে ৪টি করে ২২৮টি স্থানে ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠেও একটি ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয় বলে তিনি জানান।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) দায়িত্বপ্রাপ্ত সমাজকল্যাণ ও সাংস্কৃতিক কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসি’র ৩৬টি ওয়ার্ডে ৫টি করে মোট ১৮০টি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর বাইরে এলাকাভিত্তিক মসজিদ, মাদ্রাসা, খেলার মাঠ এবং খোলা জায়গায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ মসজিদুল জামিআয় ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায়। প্রথম জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের সিনিয়র ইমাম খতিব ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এমদাদ উদ্দীন এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করেন মসজিদের ইমাম খতিব হাফেজ নাজীর মাহমুদ।

এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মেইন গেইট সংলগ্ন মাঠ এবং শহীদুল্লাহ হল লনে সকাল ৮টায় ফৃথক দু’টি ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মিরপুর ১১ নম্বরে অবস্থিত মসজিদ বায়তুল ফালাহ কমপ্লেক্সে ঈদের দু’টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমটি সকাল সাড়ে ৭টায় ও দ্বিতীয়টি সকাল ৮টায়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়।

পুরান ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে সকাল নয়টায় এবং বিশ্ব জাকের মঞ্জিল ও বনানী দরবার শরিফে সকাল সাড়ে ১০টায় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

দেওয়ানবাগ শরিফের বাবে রহমতে তিনটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম জামাতটি সকাল আটটায়, দ্বিতীয়টি সকাল সাড়ে নয়টায় ও শেষ জামাতটি সকাল ১০টায় হয়।

গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ এবং ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটায় ও সকাল সাড়ে নয়টায় দুটি জামাত হয়। নীলক্ষেতের বাবুপুরা শাহ্ সাহেব বাড়ি মরিয়ম বিবি শাহি মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় ও সকাল ১০টায় ঈদ জামাত এবং কাজীপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে যথাক্রমে সকাল সাড়ে সাতটা, সকাল সাড়ে আটটা ও সকাল সোয়া নয়টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

রসুলবাগ জামে মসজিদ দক্ষিণ মুগদা ব্যাংক কলোনিতে দুটি জামাত হয়। একটি সকাল সাড়ে সাতটায় ও অন্যটি সাড়ে আটটায়। মাতুয়াইল দরবারে মোজাদ্দেদিয়ায় সকাল নয়টায় ও সকাল সাড়ে নয়টায় দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। দক্ষিণ বনশ্রী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটা ও সকাল সাড়ে আটটায় দুটি জামাত হয়। মোহাম্মদপুর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে সকাল পৌনে আটটায় একমাত্র জামাতটি হয়। খিলক্ষেত কুর্মিটোলা উচ্চবিদ্যালয় ও কলেজ ঈদগাহ ময়দানে সকাল আটটা ও সকাল পৌনে নয়টায় দুটি জামাত হয়। নিকুঞ্জ-১ আবাসিক এলাকা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহ্, পার্ক ও খেলার মাঠে ও লক্ষ্মীবাজারের মিয়া সাহেবের ময়দান খানকা শরিফ জামে মসজিদে সকাল সাড়ে সাতটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মোহাম্মদপুরের মসজিদ-এ-তৈয়্যেবিয়ায় সকাল আটটা ও সকাল নয়টায় দুটি পৃথক জামাত হয়।

এছাড়া সকাল আটটায় রাজধানীতে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়- ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন প্লাটফর্ম, পল্লীমা সংসদ, পল্লবীর ছয় নম্বর সেকশন কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, এলিফ্যান্ট রোডের অ্যারোপ্লেন মসজিদ, কল্যাণপুর হাউজিং এস্টেট জামে মসজিদ, নয়াপল্টন জামে মসজিদ, মধ্যবাড্ডা কানু মিয়ার পুকুরপাড় জামে মসজিদ, মগবাজার বিটিসিএল (সাবেক টিঅ্যান্ডটি) কলোনি জামে মসজিদ, কারওয়ান বাজারের আম্বর শাহ শাহি জামে মসজিদ, দারুস সালামের মীরবাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদ মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার তাহেরিয়া জামে মসজিদ, মোহাম্মদপুরের বায়তুল ফালাহ জামে মসজিদ, গেন্ডারিয়া ধূপখোলা মাঠ, ধানমন্ডি ঈদগাহ্ জামে মসজিদ এবং আগারগাঁওয়ের দারুল ইমান জামে মসজিদে।

সকাল সাড়ে আটটায়- কলাবাগানের বশিরউদ্দিন রোড জামে মসজিদ, ২/২ দারুস সালাম মিরপুর ফুরফুরা দরবারের মারকাজে ইশাআতে ইসলাম মসজিদ কমপ্লেক্স, কামরাঙ্গীরচর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ্ ময়দান, নারিন্দার মশুরীখোলা শাহ্ সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, লক্ষ্মীবাজার নূরানী জামে মসজিদ এবং বনানী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সোমবার থেকে ৫ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আজ বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথকভাবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতিনিধি এবং সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

ঈদ উপলক্ষে আজ সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন এবং বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ইতোমধ্যে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।

ঈদ উপলক্ষে আজ দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশুসদন, ছোটমণি নিবাস, সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র, আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রসমূহে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে বনানী-ঢাকা গেট হতে বঙ্গভবন পর্যন্ত প্রধান সড়ক এবং সড়ক দ্বীপসমূহে (আইল্যান্ড) জাতীয় পতাকা এবং বাংলা ও আরবিতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত ব্যানার লাগানো হয়েছে। নির্দিষ্ট সরকারি ভবনসমূহে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে রাষ্ট্রীয় নীতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ চলচ্চিত্র প্রদর্শন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিনা টিকেটে সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন সকল শিশুপার্কে প্রবেশের ব্যবস্থা এবং বিনোদন ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

এদিকে দেশের সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ জাতীয় কর্মসূচির আলোকে ঈদুল ফিতর উদ্যাপন করছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহে যথাযথ মর্যাদায় ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে।

ঈদের ছুটিতে মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

ঈদে ঢাকা মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মহানগরীতে র‌্যাব ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।

ঈদ উপলক্ষে ‘আমরা ঢাকাবাসী’র উদ্যোগে আগামীকাল নগরী শিশু একাডেমি প্রাঙ্গণ থেকে বিকাল ৩টায় ঈদ আনন্দ র‌্যালি বের করা হবে।

বিভাগীয় শহর চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, সিলেট ও বরিশালে যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়নসহ সারা দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে। বাসস