ব্রেকিং নিউজ

রাত ১১:৩৩ ঢাকা, শনিবার  ২২শে সেপ্টেম্বর ২০১৮ ইং

সারাবিশ্বে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)’র নির্মম জিজ্ঞাসাবাদ পদ্ধতির বিস্তারিত প্রতিবেদন আজ মঙ্গলবার প্রকাশ করবে মার্কিন সিনেট। আর এ প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সারাবিশ্বে মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র বলেন, সিনেটের ৪শ’ ৮০ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন মঙ্গলবার প্রকাশ করা হবে। ফলে ‘ব্যাপক ঝুঁকির কিছু লক্ষণ’ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও স্থাপনায় পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে নাইন ইলেভেনের পর আল কায়েদার বিরুদ্ধে সিআইএ’র অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদনে গুরুত্বপূর্ণ সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে তথ্য আদায়ে সিআইএ’র বিতর্কিত পদ্ধতি ব্যবহারের বিস্তারিত বর্ণনা থাকবে। তবে যথাযথ ফলাফল পেতে সিআইএ’র নির্মম এ পদ্ধতি ব্যর্থ বলেও এতে উল্লেখ থাকতে পারে।
জনসম্মুখে কি তথ্য প্রকাশ করা হবে তা নিয়ে ওয়াশিংটনে কর্তাব্যক্তিদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় প্রতিবেদন প্রকাশে বিলম্ব করা হয়েছে।
সিনেট গোয়েন্দা কমিটি মোট ৬ হাজার পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন তৈরি এবং একে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে। তবে এর মধ্যে কেবল ৪শ’ ৮০ পৃষ্ঠার একটি সারমর্ম প্রকাশ করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ২০০৯ সালে ক্ষমতা নেয়ার পর সিআইএ’র জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি বন্ধ করে দেন। তিনি স্বীকার করেন, আল কায়েদার কয়েদিদের জিজ্ঞাসাবাদে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে তা নির্যাতনের শামিল।
জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রেসিডেন্ট থাকাকালে আল কায়েদার বিরুদ্ধে সিআইএ’র অভিযান অন্তরালে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ নামে পরিচিত ছিল। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ‘কালো স্থাপনা’ হিসেবে খ্যাত এলাকাগুলোতে কমপক্ষে ১শ’ সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীকে আটক রাখা হয়।
তাদেরকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হত সেগুলোর মধ্যে ছিল-পানিতে চুবানো, চড়-থাপ্প্ড়, অবমাননা, প্রচন্ড শীতে খালি গায়ে রাখা ও ঘুমাতে না দেয়া।
চলতি বছরের আগস্ট মাসে সিনেটের এই প্রতিবেদনের কিছু অংশ ফাঁস হয়ে যায়। তখন ওবামা বলেছিলেন, ‘আমরা এমন কিছু করেছি যা আমাদের মুল্যবোধের পরিপন্থী।’
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট সোমবার সংবাদিকদের বলেন, ওবামা প্রশাসন প্রতিবেদন প্রকাশ স্বাগত জানিয়েছে। তবে তিনি বলেন, এর ফলে বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলোতে অব্যাহত ঝুঁকির কিছু লক্ষণ পাওয়া গেছে।
আর্নেস্ট বলেন, ‘মার্কিন স্থাপনাগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। পূর্ব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি সিনেট গোয়েন্দা কমিটির চেয়ারম্যান ডায়ানে ফেইনস্টেইনকে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
এ ব্যাপাওে আন্র্স্টে বলেন, প্রতিবেদন প্রকাশের উপযুক্ত সময় নির্ধারণ করা খুবই কঠিন কাজ।